বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬

জীবননাশের শঙ্কা, জিয়াউলকে একা প্রিজন ভ্যানে না আনার আবেদন

প্রকাশিত: ০৭:৪৮, ০৮ অক্টোবর ২০২৬ | ১৫

কারাগার থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনা-নেওয়ার পথে জীবননাশের আশঙ্কা প্রকাশ করে অন্য আসামিদের সঙ্গে একই প্রিজন ভ্যানে করে আদালতে হাজির করার আবেদন করেছেন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার সাবেক ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান। 

তবে জিয়াউল আহসানের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা থাকলে তাকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে সশরীরে না এনে অডিও-ভিজ্যুয়াল সংযোগের মাধ্যমে ভার্চ্যুয়ালি শুনানিতে অংশ নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে এ বিষয়ে আদেশের জন্য রেখেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ট্রাইব্যুনালে এ আবেদনের ওপর শুনানি হয়।

‘সবাইকে একসঙ্গে আনা হলেও জিয়াউলকে একা কেন?’

শুনানিতে জিয়াউল আহসানের পক্ষে আবেদন করেন তার বোন ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নাজনীন নাহার। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে কেরানীগঞ্জ কারাগার থেকে বন্দিদের সাধারণত একসঙ্গে প্রিজন ভ্যানে করে ট্রাইব্যুনালে আনা-নেওয়া করা হচ্ছে।

কিন্তু গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে জিয়াউল আহসানকে আলাদা একটি গাড়িতে একা আনা-নেওয়া করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নাজনীন নাহার বলেন, অন্য বন্দিদের একইভাবে আনা-নেওয়া করা হলেও জিয়াউলকে কেন আলাদাভাবে একটি গাড়িতে আনা হচ্ছে, সেটিই তার প্রশ্ন। একা প্রিজন ভ্যানে আনা-নেওয়া তার জন্য নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করছে বলেও তিনি ট্রাইব্যুনালকে জানান। 

তিনি বলেন, প্রিজন ভ্যানে জিয়াউলকে একা আনা-নেওয়া করা বিপজ্জনক ও উদ্বেগজনক। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ততটা ভালো নয়। যে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই জিয়াউলকে একা না এনে অন্যান্য আসামির সঙ্গে একই গাড়িতে আনা-নেওয়ার আবেদন জানান তিনি।

শুনানি শেষে সাংবাদিকদের নাজনীন নাহার বলেন, জিয়াউলকে একা আনা-নেওয়ার বিষয়টিকে তিনি একটি ‘গভীর ষড়যন্ত্র’ হিসেবে দেখছেন। তার ভাষ্য, অন্য বন্দিদের সঙ্গে তাকে আনা হলে সমস্যা কোথায়, সেটিই আদালতের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে।

জিয়াউলের আশঙ্কা, ‘ঘটনা ঘটিয়ে দায় চাপানো হতে পারে’

শুনানির একপর্যায়ে কাঠগড়ায় থাকা জিয়াউল আহসান নিজে কথা বলার অনুমতি চান। ট্রাইব্যুনালের অনুমতি পেয়ে তিনি বলেন, তাকে একা একটি গাড়িতে আনার পেছনে এমন আশঙ্কা রয়েছে যে, যাত্রাপথে তার সঙ্গে কোনো ঘটনা ঘটিয়ে পরে সেই ঘটনার দায় তার ওপর চাপানো হতে পারে।

জিয়াউলের বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামীমও বলেন, আসামি নিজেই ট্রাইব্যুনালে তার নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, জিয়াউল আহসান ট্রাইব্যুনালে জানিয়েছেন, কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে আনা-নেওয়ার পথে কেউ কোনো ঘটনা ঘটিয়ে তার ওপর দায় চাপিয়ে দিতে পারে—এমন আশঙ্কা তার রয়েছে।

নিরাপত্তা শঙ্কায় কারাগার থেকেই শুনানির প্রস্তাব

রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম বলেন, যেহেতু জিয়াউল আহসান নিজেই যাতায়াতের পথে নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বলছেন, তাই তাকে সশরীরে ট্রাইব্যুনালে না এনে কারাগারে রেখেই অডিও-ভিজ্যুয়াল কনফারেন্সের মাধ্যমে মামলার কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে।

তিনি বলেন, কারাগার থেকে ভিডিও সংযোগের মাধ্যমে আসামির ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ফলে আসামির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মামলার বিচারিক কার্যক্রমও চালিয়ে নেওয়া সম্ভব। 

রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি, অন্য আসামিরা এ ধরনের জীবননাশের আশঙ্কার কথা বলছেন না। জিয়াউল আহসান যেহেতু নিজেই নিরাপত্তার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, তাই তাকে কারাগারে রেখেই ভার্চ্যুয়াল শুনানির ব্যবস্থা করা যেতে পারে। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে ট্রাইব্যুনাল আবেদনটি আদেশের জন্য রেখেছেন।

এদিকে শতাধিক ব্যক্তিকে গুম ও হত্যার অভিযোগে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। মামলার সর্বশেষ সাক্ষী তদন্ত কর্মকর্তার (আইও) জবানবন্দি শেষ হয়েছে। এখন তার জেরা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তার জেরা শেষ হলে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হওয়ার পথে যাবে। এরপর মামলার পরবর্তী ধাপের কার্যক্রম শুরু হবে। জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে গুম, হত্যা ও নির্যাতনের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আরও কয়েকটি মামলা চলমান রয়েছে।

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor