বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬

প্রায়ই পেটের সমস্যা হয়? হজমশক্তি উন্নত করার কার্যকর ৭ উপায়

প্রকাশিত: ০৬:৫৬, ০৭ অক্টোবর ২০২৬ | ১৬

অনেকেরই মাঝে মধ্যেই গ্যাসট্রিক-অ্যাসিডিটি, বুক জ্বালাপোড়া, বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া, পেট খারাপ বা ডায়রিয়ার মতো সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে। কখনো কখনো বদহজমের মতো সমস্যাও দেখা দেয়।

এ ধরনের সমস্যায় সাধারণত খুব একটা গুরুত্ব দেয়া হয় না। খবর হেলথ লাইন
এ ধরনের সমস্যা ক্রমশ হতে থাকলে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত। না হলে পরবর্তীতে হঠাৎ করেই বড় ধরনের জটিলতা দেখা দিতে পারে। স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম হেলথ লাইনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হজম শক্তি উন্নত করার কয়েকটি উপায় সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক।

১. সম্পূর্ণ খাবার খাওয়া

খাবার অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমের (পাচনতন্ত্রের বাসবাসকারী অণুজীবের বাস্তুতন্ত্র) গঠনকে প্রভাবিত করতে পারে। অন্ত্রের মাইক্রোবায়োম হজম, রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং হরমোনের ভারসাম্য সম্পর্কিত কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এটি ভারসাম্যহীন হলে ‘ডিসবায়োসিস’ অনুভব করে, তখন গ্যাস, পেট ফাঁপা, পেট ব্যথা ও অন্ত্রের পরিবর্তনের মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

তবে প্রাকৃতিক বা ন্যূনতম প্রক্রিয়াজাত অবস্থায় সম্পূর্ণ বা মোটামুটি পেট ভরে খাবার খাওয়া হলে তা অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমের ভারসাম্য ও স্বাস্থ্য বজায় রাখে।

এতে হজমবান্ধব পুষ্টি সরবরাহ হয়। এর মধ্যে দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় ফাইবার, প্রিবায়োটিক, ভিটামিন ও খনিজ থাকে। এসব খাবারে প্রক্রিয়াজাত খাবারের মতো যোগ করা চিনি বা কৃত্রিম উপাদান থাকে না।
২. পর্যাপ্ত ফাইবার গ্রহণ

নিয়মিত আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া হলে মলত্যাগে সহায়ক হয় এবং অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমের ভারসাম্যে অবদান রাখে। দানা ও সবজির মতো খাবারে অদ্রবণীয় ফাইবার থাকে।

যা মলের আয়তন বাড়ায় ও নিয়মিত মলত্যাগ নিশ্চিত করে। পাচনতন্ত্রের মাধ্যমে খাবারের চলাচলেও সহায়তা করে। এতে পেট ফাঁপা ও অস্বস্তি প্রতিরোধ হয়।
দ্রবণীয় ফাইবার ফলমূল ও বীজজাতীয় খাবারে পাওয়া যায়। যা অন্ত্রে পুষ্টি শোষণে সহায়তা করে এবং অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমের অণুজীবের খাদ্য হিসেবে কাজ করে। দ্রবণীয় ফাইবার অন্ত্রের মাইক্রোবায়োম দ্বারা স্বল্প-শৃঙ্খল ফ্যাটি অ্যাসিড তৈরির জন্য ব্যবহৃত হয়। যা আপনার অন্ত্রের প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে।

৩. খাদ্যতালিকায় স্বাস্থ্যকর চর্বি যোগ করা

খাদ্যতালিকায় অ্যাভোকাডো, বাদাম ও স্যামনের মতো স্বাস্থ্যকর চর্বি রাখা হলে তা হজম স্বাস্থ্য বজায় রাখতে অবদান রাখে। স্বাস্থ্যকর চর্বি গলব্লাডার থেকে পিত্ত উৎপাদনকে উদ্দীপিত করে হজমে সহায়তা করে। ভিটামিন এ, ডি, ই, কে-এর মতো নির্দিষ্ট চর্বি দ্রবণীয় ভিটামিনের সঠিক শোষণের জন্য প্রয়োজন। উপাদানগুলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে, অন্ত্রের আস্তরণকে শক্তিশালী করতে এবং প্রদাহজনক প্রক্রিয়াগুলো নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে হজম স্বাস্থ্য বজায় রাখে।

৪. হাইড্রেট থাকা

শরীরের সঠিক অন্ত্রের কার্যকারিতার জন্য পর্যাপ্ত তরলের প্রয়োজন। খাবার হজম করতে, হজমকারী এনজাইমগুলোকে সক্রিয় রাখতে এবং কোষে পুষ্টি পরিবহন করতে সহায়তা করে পানি। পর্যাপ্ত পানি অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, শরীর যখন ডিহাইড্রেটেড থাকে, তখন হজম ও এর সম্পর্কিত প্রক্রিয়াগুলো ধীর হতে পারে এবং একইসঙ্গে কোষ্ঠকাঠিন্য, পেট ফাঁপা, গ্যাস ও পেট ব্যথার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

৫. মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণ করা

মস্তিষ্ক ও অন্ত্র ‘গাট-ব্রেইন-এক্সিস’ নামক দ্বি-মুখি যোগাযোগ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সংযুক্ত। অর্থাৎ, মানসিক স্বাস্থ্যকে যা প্রভাবিত করে, তা অন্ত্রের স্বাস্থ্যকেও প্রভাবিত করতে পারে। এ কারণে স্বাভাবিকভাবেই চাপে থাকা হলে শরীর ফাইট, ফ্লাইট বা ফ্রিজ রেসপন্সকে চালিত করে। যা অন্ত্রে ধীর হজম ও রক্ত সঞ্চালন হ্রাসের মতো পরিবর্তনগুলোয় ভূমিকা রাখতে পারে।

এছাড়া মানসিক চাপ সময়ের পরিক্রমায় পেট ফাঁপা, কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়া ও অন্ত্রের প্রবেশযোগ্যতা বৃদ্ধির মতো লক্ষণগুলোর দিকে ধাবিত করতে পারে আপনাকে। যা শরীরজুড়ে প্রদাহজনক অবস্থা তৈরি করতে পারে। যা হজমজনিত সমস্যা ও অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমকেও পরিবর্তন করতে পারে।

৬. খাবার চিবিয়ে খাওয়া

সচেতনভাবে খাবার খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। আপনি যদি খাবার চিবিয়ে খাওয়ার অভ্যাস করেন, তাহলে তা স্বাস্থ্যের পক্ষে সহায়ক হয়। চিবানো খাবার হজমের জন্য খাবার ভাঙার প্রথম ধাপ। আপনি যা খেয়েছেন, তার উপরিভাগের ক্ষেত্রফল বৃদ্ধি করে, যা হজমকারী এনজাইমগুলোকে পুষ্টিতে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে দেয়। খাবারকে লালা এবং এর এনজাইম, শ্লেষ্মা ও পানির সঙ্গে মিশ্রণ ঘটায়। যা প্রাথমিক হজমের অংশ। মনে রাখতে হবে, ভালোভাবে চিবানো খাবার পাচনতন্ত্রের মাধ্যমে দক্ষতার সঙ্গে চলাচল করে, পেট ফাঁপা ও পেটের অস্বস্তির সম্ভাবনা কমাতে ভূমিকা রাখে।

৭. ধীর গতিতে চলা ও শরীরের কথা শোনা

যদি হজমের সমস্যা অনুভব করেন, তাহলে ধীর গতিতে চলাচল করুন এবং শরীর কী বলতে চাচ্ছে, তা বোঝার চেষ্টা করুন। হজমের সমস্যাগুলোর প্রধান কারণ যত দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে, তত তাড়াতাড়ি সমস্যা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। সব হজমের লক্ষণ অভ্যাস বা ডায়েটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়। এ কারণে কোনো ধরনের জটিলতা মনে হলে বা সমস্যা তীব্র মনে হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor