বেলজিয়ামের বিপক্ষে ৭৬ মিনিট পর্যন্ত ১-০ গোলে পিছিয়ে ছিল ফ্রান্স। বাকি ১৪ মিনিটে প্রতিপক্ষকে যেন দুঃস্বপ্ন দেখার মতো এলোমেলো করে দিলো জিনেদিন জিদানের দল। ওই সময়ে ৪ গোল করে বেলজিয়ামকে তারা ৪-১ ব্যবধানে হারিয়েছে। দলের এমন ঘরে দাঁড়ানো পারফরম্যান্সকেই ফুটবলের সৌন্দর্য বলে মন্তব্য করেছেন জিদান। এর নেপথ্যে তিনি বদলি নামা ফুটবলারদের কৃতিত্ব দিয়েছেন।
শুরু থেকেই অবশ্য ম্যাচটিতে দাপট ছিল ফরাসিদের। যদিও তাদের একের পর এক আক্রমণ ফিনিশিং ব্যর্থতায় শেষ হয়েছে। এরই মাঝে পাল্টা আক্রমণে ৩৫ মিনিটে দোদি লুকেবাকিও বেলজিয়ামকে লিড এনে দেন। দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের স্রোত বইয়ে দেয় জিদানের শিষ্যরা। ৬০ মিনিটে বদলি নেমে মাইকেল ওলিসে করেছেন জোড়া গোল।
এর আগে ৭২ মিনিটে বদলি নামার পাঁচ মিনিটের মাথায় দেজিরে দুয়ে সমতায় ফেরান ফ্রান্সকে। ৮১ মিনিট পর রায়ান চেরকি ২-১ লিড এনে দেওয়া গোলটি করেন। ৮৮ ও ৯১তম মিনিটে গোল করেন ওলিসে। হারের শঙ্কা ছাপিয়ে ১৪ মিনিটের মধ্যে বেলজিয়ামকে তছনছ করে দেয় ফ্রান্স। শেষটা রূপ নেয় তাদের বিশাল জয়ের আনন্দে।
কামব্যাকের গল্প লেখা সেই ম্যাচ নিয়ে জিদান উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে জানান, ‘আজ রাতে যা হলো সেটাই ফুটবল, আমরা এটাকে ভালোবাসি। প্রথমার্ধে আমরা কিছু সমস্যায় পড়েছি, কিন্তু সেসবও খেলার অংশ। এমন ম্যাচ মাঝেমধ্যে এরকম হয়। ভুলের পর সবকিছু শুধরে নেওয়া সবসময়ই ভালো এবং দ্বিতীয়ার্ধে অসাধারণ এক পারফরম্যান্সে সেটা ঠিক করেছি। প্রথমার্ধে বারবারই আমরা অল্পের জন্য মিস করেছি। কিন্তু পরে যেভাবে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়েছি তা অসাধারণ।’
বিরতির পর বদলি নামা ফুটবলারদের কৃতিত্ব দিয়ে জিদান বলেন, ‘আমরা জানতাম বদলি ফুটবলাররা খেলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। তারা উঁচুমানের ফুটবলার। কিন্তু আবারও বলছি, এটি ছিল সম্পূর্ণ দলীয় পারফরম্যান্স। যদিও বদলি ছেলেরা মাঠে নেমে পার্থক্য গড়ে দিয়েছে, তবে গত দুই সপ্তাহ ধরেই সবাই ভালো খেলেছে। প্রত্যেকেই নিজের ভূমিকা পালন করেছে এবং এটাই আমার কাছে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য।’
এই জয়ে নেশন্স লিগের ‘এ-১’ গ্রুপের শীর্ষস্থান মজবুত করল ফ্রান্স। ৪ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ১০। সমান ম্যাচ খেলে ইতালি ৭ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে রয়েছে। কোচের সঙ্গে সুর মিলিয়ে ম্যাচের নায়ক ওলিসে বলেন, ‘এটা ছিল সম্মিলিত প্রচেষ্টা। তার (জিদান) নিয়ে আসা নতুন ধারণা আমরা অনুসরণ করি। গত চারটি ম্যাচে আমরা এটা ভালোভাবে করেছি এবং এভাবেই চালিয়ে যাব।’
Publisher & Editor