ছবি: সংগৃহীত
সিএনএন, পলিটিকোসহ যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ তিনটি সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার পর ২৪ ঘণ্টার একটি নতুন ইউটিউব চ্যানেল ‘ট্রাম্প টিভি’ চালু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
'ট্রাম্প টিভি' নামের এই চ্যানেলটির লক্ষ্য সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো সরাসরি জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া। তবে নতুন এই উদ্যোগ চালুর পরপরই এটি স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত বলে সমালোচনা শুরু করেছেন মার্কিন আইনপ্রণেতা ও সংবাদমাধ্যমের অধিকার কর্মীরা।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে সম্প্রচার শুরু করা এই ইউটিউব চ্যানেলটির স্লোগান রাখা হয়েছে 'দ্য এসেনশিয়ালস স্টেশন'। মাউন্ট রাশমোরে ট্রাম্পের দেওয়া একটি বক্তব্য দিয়ে চ্যানেলটির সম্প্রচার কার্যক্রম শুরু হয়।
এর আগে ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যালে' এক বার্তায় সিএনএন, এমএস নাউ এবং পলিটিকোকে 'ভুয়া খবর' ও সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগে হোয়াইট হাউসে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে নেমেছে ভুক্তভোগী তিন সংবাদমাধ্যম। সরকারের এই পদক্ষেপ তাদের বাকস্বাধীনতা এবং সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করছে-এমন অভিযোগে আদালতে মামলা করেছে তারা। একই সঙ্গে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে ফক্স নিউজ, এবিসি, সিবিএস এবং এনবিসির মতো শীর্ষসারির মার্কিন গণমাধ্যমগুলো।
সরকারের এই বিধিনিষেধের প্রতিবাদে এনপিআরসহ বেশ কিছু সংবাদমাধ্যম হোয়াইট হাউসের অডিও ও ভিডিও ক্লিপ সাময়িকভাবে না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
এদিকে, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে 'রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম' এবং 'একনায়কসুলভ আচরণ' হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন বিরোধী ডেমোক্র্যাটিক পার্টির বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা। বিপরীতে হোয়াইট হাউস কর্তৃপক্ষ এই সমালোচনার কড়া জবাব দিয়ে দাবি করেছে, প্রশাসনের মূল বার্তা সরাসরি জনগণের কাছে পৌঁছে দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মূলধারার গণমাধ্যমকে এড়িয়ে নিজস্ব ন্যারেটিভ বা বক্তব্য জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টার অংশ হিসেবেই এই 'ট্রাম্প টিভি'র আত্মপ্রকাশ। তবে সরকারের নিয়ন্ত্রিত এই মাধ্যম গণমাধ্যমের সততা ও তথ্যের নিরপেক্ষ যাচাই-বাছাইকে চরম ঝুঁকিতে ফেলবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞরা। সূত্র: এনপিআর
Publisher & Editor