শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিরক্ষা উপমন্ত্রী বদলের আলোচনা, উত্তরসূরি খুঁজছে হোয়াইট হাউস

প্রকাশিত: ০৩:২১, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ |

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা উপমন্ত্রী স্টিভ ফেইনবার্গের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বেশ কয়েকজন প্রার্থীর বিষয়ে পর্যালোচনা করেছে হোয়াইট হাউস। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিন ব্যক্তি রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তবে ফেইনবার্গকে সরানোর বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, জুন থেকেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা চলছে। এ নিয়ে সিনেটের জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতাদের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। তবে হোয়াইট হাউস কেন বিকল্প প্রার্থী বিবেচনা করছে বা কাদের নাম আলোচনায় রয়েছে, তা জানা যায়নি।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি এ তথ্যকে অস্বীকার করে বলেন, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এসব সূত্রের আসলে কোনো ধারণাই নেই তারা কী বলছে। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ, ডেপুটি সেক্রেটারি ফেইনবার্গ এবং পুরো যুদ্ধ বিভাগের কাজের প্রশংসা করেন।

পেন্টাগনও ফেইনবার্গকে সরিয়ে অন্য কাউকে আনার খবর অস্বীকার করেছে। হেগসেথ রয়টার্সকে দেওয়া বিবৃতিতে বলেন, ফেইনবার্গের প্রতি তাঁর পূর্ণ সমর্থন রয়েছে এবং তিনি ‘কোথাও যাচ্ছেন না’।

তবে ফেইনবার্গ পদত্যাগ করলে তা হেগসেথের অধীনে সবচেয়ে বড় কোনো কর্মকর্তার বিদায় হবে। এরই মধ্যে আর্মি সেক্রেটারি ড্যান ড্রিসকল, নেভি সেক্রেটারি জন ফেলানসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা দায়িত্ব ছেড়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদ উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্য পূরণে ফেইনবার্গ এখনো সফল হননি। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পখাত দ্রুত উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে না পারা এবং কংগ্রেসের তহবিল বরাদ্দে ধীরগতির কারণে এ সমস্যা হয়েছে।

এদিকে দীর্ঘ ছয় মাসের ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুদ কমে যাওয়ায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ-প্রতিরক্ষা ইন্টারসেপ্টরের মজুদ কমে যাওয়ার জন্য হেগসেথ ফেইনবার্গকে দায়ী করেছেন। হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগন এ প্রতিবেদনকে ‘ভুয়া খবর’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

ফেইনবার্গ পেন্টাগনের প্রতিরক্ষা শিল্প পুনর্গঠন ও সামরিক ঠিকাদারদের উৎপাদন বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে ক্যাপিটল হিলেও তাঁর বিরুদ্ধে স্বার্থের সংঘাত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাঁর সাবেক প্রতিষ্ঠান সারবেরাসের সঙ্গে ‘গোল্ডেন ডোম’ মিসাইল প্রতিরক্ষা কর্মসূচির সম্ভাব্য স্বার্থের সম্পর্ক নিয়ে ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন উদ্বেগ জানিয়েছেন। পেন্টাগন অবশ্য স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor