শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রিঙ্কু আর তার জাদুকরী বন্ধু

প্রকাশিত: ০৭:৪৪, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ |

১০ বছর হতে আর মাত্র তিন দিন বাকি রিঙ্কুর। এটা নিয়ে সে এতটাই উত্তেজিত যে রাতে ঘুমাতেই পারছে না।

জন্মদিন মানে নতুন নতুন উপহার। তবে এবারের জন্মদিনটা আগেরগুলোর মতো হবে না। এই দেশে ১০ বছর হলেই প্রতিটি শিশু পায় একটি জাদুকরী প্রাণী। এই যেমন রিঙ্কুর বাবার জাদুকরী প্রাণীটি হচ্ছে একটি জ্ঞানী পেঁচা।

ওটা রাতে আকাশের তারা পড়তে পারে। মায়ের আছে একটি
রুপালি শিয়াল। ওটা আবার মানুষের মনের কথা বুঝতে পারে। আর দাদুর আছে এক বিশাল কচ্ছপ।

এক হাজার বছরের পুরনো সব গল্প শোনাতে পারে ওটা।
‘আমার জাদুকরী প্রাণীটা কেমন হবে, মা?’ রিঙ্কু প্রতিদিন জিজ্ঞেস করে মাকে।

‘সেটা তুমি নিজেই দেখতে পাবে, সোনা। জাদুকরী প্রাণী নিজে থেকেই পছন্দের মানুষ বেছে নেয়।’ মা হেসে বললেন।

অবশেষে সেই বিশেষ দিনটি চলেই এলো। জন্মদিনের সকালে রিঙ্কুকে নিয়ে যাওয়া হলো গ্রামের শেষ সীমানায় থাকা এক প্রাচীন বনে। সেখানে আছে একটা জাদুকরী হ্রদ। ওটার জল সব সময় রংধনুর মতো রঙিন হয়ে থাকে।

বড়রা সবাই হ্রদের চারপাশটা ঘিরে দাঁড়াল। শুধু রিঙ্কু এগিয়ে গেল জলের ধারে। ওর বুকটা ধুকপুক করছে। হঠাৎ হ্রদের জল থেকে বেরিয়ে এলো একটা উজ্জ্বল আলো। ধীরে ধীরে সেটা তার সামনে এসে থামল। উজ্জ্বল আলোটা সরে যেতেই দেখা গেল একটা ছোট্ট খরগোশ!

রিঙ্কু একটু যেন হতাশই হলো। সে ভেবেছিল, হয়তো একটা বিশাল ড্রাগন পাবে কিংবা উড়তে পারা ঘোড়া! তাই বলে খরগোশ?

ছোট্ট খরগোশটি রিঙ্কুর দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসল। ওটার চোখ দুটি নীল আকাশের মতো।

খরগোশটি মিষ্টি গলায় বলে উঠল, ‘আমার নাম তুলো। আমাকে দেখে তুমি হয়তো একটু হতাশই হয়েছ।’

‘না না, মানে...তুমি খুব সুন্দর,’ ধরা পড়ে যাওয়ায় রিঙ্কু কথা ঘোরানোর চেষ্টা করে।

তুলো মুচকি হেসে বলল, ‘আমি জানি তোমার মন খারাপ হয়েছে আমাকে দেখে। তবে আমার একটা বিশেষ ক্ষমতা আছে। সময় হলেই জানতে পারবে।’ প্রথম কয়েক দিন মনটা খারাপই থাকল রিঙ্কুর। আর থাকবেই না কেন, স্কুলে তার বন্ধু পিকলু পেয়েছে এক বিশাল সোনালি ইগল। ওতে করে ছোট বাচ্চারা উড়ে বেড়াতে পারে। আর ইরা পেয়েছে অদৃশ্য হতে পারে এমন এক বিড়াল। ওদের তুলনায় তুলোকে খুবই সাধারণ মনে হওয়ার কথা।

ভালোভাবেই কেটে যাচ্ছিল রিঙ্কুর স্কুলের দিনগুলো। হঠাৎ একদিন স্কুলে ঘটল এক ভয়ংকর ঘটনা। কালবৈশাখী ঝড়ে ভেঙে পড়ল স্কুলের পেছনের দেয়ালটা। আর তাতে আটকে গেল তিনটি ছোট বাচ্চা। সবাই ভয়ে চিৎকার করতে লাগল। সবার জাদুকরী প্রাণীরা চেষ্টা করল। কিন্তু কেউ বাচ্চাগুলোকে উদ্ধার করতে পারছিল না। এসব দেখে রিঙ্কুও ভয়ে কাঁপছিল। তখন তুলো তার কাঁধে লাফিয়ে বসে কানে ফিসফিস বলল, ‘রিঙ্কু, তুমি পারবে। তোমার ভেতরে সাহস আছে। শুধু বিশ্বাস করো।’

হঠাৎ রিঙ্কুর ভেতর থেকে এক অদ্ভুত শক্তি জেগে উঠল। সে এগিয়ে গেল ভাঙা দেয়ালের কাছে। একটা একটা করে ভাঙা দেয়ালের অংশগুলো সরাল। একে একে উদ্ধার করল বাচ্চাগুলোকে। সবাই হাততালি দিল। তখনই রিঙ্কু বুঝল, তুলোর জাদু হচ্ছে সাহসকে শক্তিতে পরিণত করা। আর সে জন্যই সে বাচ্চাগুলোকে উদ্ধার করতে পেরেছে।

সেদিন রাতে বাড়ি ফেরার পথে তুলোকে জড়িয়ে ধরে রিঙ্কু বলল, ‘তুমিই সেরা জাদুকরী প্রাণী। তুমি যদি ড্রাগন বা ইগল হতে তাহলে কি আজ ওই বাচ্চাদের বাঁচাতে পারতাম?’

হেসে তুলো বলল, ‘জাদুকরী শক্তি থাকে আমাদের ভেতরে। আমি শুধু তোমার নিজের সেই শক্তিকে খুঁজে পেতে সাহায্য করেছি।’

সেদিন থেকে রিঙ্কু আর কখনো তুলোকে সাধারণ ভাবেনি।

ধীরে ধীরে রিঙ্কু আর তুলো হয়ে উঠল গ্রামের সবচেয়ে সাহসী জুটি। বিপদে পড়া মানুষদের সাহায্য করতে ওরাই সবার আগে এগিয়ে যায়।

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor