ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারকে সম্ভাব্য শাটডাউন থেকে রক্ষায় অস্থায়ী অর্থায়ন বিল পাস করেছে প্রতিনিধি পরিষদ। মঙ্গলবার ৩৭০ ভোটের বিপরীতে ৪৮ ভোটে বিলটি অনুমোদিত হয়। এর মাধ্যমে বর্তমান হারে ফেডারেল সরকারের অর্থায়ন আগামী ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চালু রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সিনেট গত ৮ আগস্ট বিলটি অনুমোদন করেছিল। প্রতিনিধি পরিষদেও পাস হওয়ায় এটি এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রেসিডেন্ট স্বাক্ষর করলে বিলটি আইনে পরিণত হবে। বর্তমান অর্থায়নের মেয়াদ ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়ার কথা। এর আগে নতুন বিল কার্যকর না হলে ১ অক্টোবর থেকে ফেডারেল সরকারের বিভিন্ন সংস্থায় আংশিক বা পূর্ণ শাটডাউন শুরু হওয়ার ঝুঁকি ছিল।
কংগ্রেস ২০২৭ অর্থবছরের জন্য প্রয়োজনীয় ১২টি নিয়মিত ব্যয় বিলের একটিও এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত করতে পারেনি। নতুন অর্থবছর ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর শুরু হয়ে ২০২৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ হবে। এই ব্যয় বিলগুলোর মাধ্যমে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি, ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা কার্যক্রম, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, আবাসন এবং অন্যান্য সরকারি কর্মসূচির অর্থায়ন নির্ধারণ করা হয়। নিয়মিত বিল পাস না হওয়ায় সরকার চালু রাখতে ‘কন্টিনিউয়িং রেজল্যুশন’ নামে পরিচিত অস্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রতিনিধি পরিষদের ভোটের সরকারি নথিতেও ৩৭০ জন সদস্যের সমর্থন এবং ৪৮ জনের বিরোধিতার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট কোনো পক্ষই নতুন শাটডাউনের রাজনৈতিক দায় নিতে চায়নি। খাদ্য ও আবাসনের উচ্চ মূল্য, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ এবং বিদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক নিয়ে ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষের সময় আরেকটি শাটডাউন নির্বাচনী প্রচারে বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারত।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর সরকারি ব্যয়, স্বাস্থ্যবিমার ভর্তুকি এবং ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের ক্ষমতা নিয়ে দুই দলের তীব্র বিরোধ দেখা দিয়েছে। এসব বিরোধের কারণে ইতিমধ্যে তিনটি আংশিক সরকারি শাটডাউন হয়েছে, যেগুলোর মোট স্থায়িত্ব ছিল ১৬১ দিন।
হাউস অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস কমিটির চেয়ারম্যান রিপাবলিকান প্রতিনিধি টম কোল বলেন, অস্থায়ী অর্থায়ন বিলটি কংগ্রেসকে নভেম্বরের নির্বাচন পার করে পূর্ণাঙ্গ বাজেট নিয়ে কাজ করার সময় দেবে।
কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি রোজা ডেলাউরো বলেন, ফেডারেল অর্থ ব্যয়ের সাংবিধানিক ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে রয়েছে। অস্থায়ী বিলটি পাস করাকে সেই ক্ষমতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসন ২০২৫ সালের শুরু থেকে একতরফাভাবে বিভিন্ন ফেডারেল সংস্থার ব্যয় ব্যাপকভাবে কমিয়েছে এবং ইউএস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট বিলুপ্ত করেছে। তাঁদের মতে, সরকারি অর্থ কোথায় এবং কীভাবে ব্যয় হবে, সেই সিদ্ধান্ত নির্বাহী বিভাগের পরিবর্তে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণে থাকা উচিত।
তবে অস্থায়ী বিলটি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সংকটের কোনো সমাধান দিচ্ছে না। দেশটির জাতীয় ঋণ গত মাসে ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে। একই সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর বিষয়ে ভোটারদের উদ্বেগও এই বিলে সমাধান করা হয়নি। অর্থায়নের সিদ্ধান্ত আরও ১৫ সপ্তাহ পিছিয়ে যাওয়ায় ডিসেম্বরের মধ্যে কংগ্রেসকে ১২টি পূর্ণাঙ্গ ব্যয় বিল পাস করতে হবে অথবা আরেকটি অস্থায়ী বিল অনুমোদন করতে হবে। তা না হলে ১২ ডিসেম্বর থেকে আবারও সরকারি শাটডাউনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে, তার ফলাফল ডিসেম্বরের বাজেট আলোচনায় বড় প্রভাব ফেলবে। ফলে বর্তমান বিল তাৎক্ষণিক শাটডাউন ঠেকালেও ফেডারেল ব্যয় নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মূল বিরোধ আপাতত অমীমাংসিতই থাকছে।
Publisher & Editor