বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রেসিডেন্ট অ্যাওয়ার্ড পেলেন ইয়াসমিন

প্রকাশিত: ০৭:২৩, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৪

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে মানবপাচারের জটিলতা নিয়ে গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ার সাংকংহে ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ইয়াসমিন আক্তার অধরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট স্কুলের এশিয়ান নন-গভর্নমেন্টাল অর্গানাইজেশনস প্রোগ্রামের শিক্ষার্থী হিসেবে তিনি এ সম্মাননা অর্জন করেন।

গত ১৩ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন সায়েন্স বিল্ডিংয়ের জন ডেলি হলে ২০২৫ সালের শরৎকালীন সেমিস্টারের ডিগ্রি প্রদান অনুষ্ঠান হয়। এতে ২৫৪ শিক্ষার্থী ডিগ্রি লাভ করেন। তাঁদের মধ্যে ১৮৮ জন স্নাতক এবং ৬৬ জন স্নাতকোত্তর ও ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ১৩ শিক্ষার্থী প্রেসিডেন্ট অ্যাওয়ার্ড পান।

গ্র্যাজুয়েট স্কুল থেকে একমাত্র এ সম্মাননা অর্জন করেন ইয়াসমিন। একই অনুষ্ঠানে একজন চেয়ারম্যান অ্যাওয়ার্ড এবং গ্র্যাজুয়েট স্কুলের পাঁচ শিক্ষার্থী আউটস্ট্যান্ডিং থিসিস অ্যাওয়ার্ড পান।
ইয়াসমিনের থিসিসের শিরোনাম ‘ইন্টারনাল কলোনিজ অব এইড অ্যান্ড মোবিলিটি: হিউম্যান ট্রাফিকিং উইদিন দ্য রোহিঙ্গা রিফিউজি-হোস্ট কমিউনিটি ল্যান্ডস্কেপ অব কক্সবাজার’। গবেষণায় কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর প্রেক্ষাপটে মানবিক সহায়তা, বাস্তুচ্যুতি, মানুষের চলাচল, জীবিকা ও নিরাপত্তার সঙ্গে মানবপাচারের সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

বিশেষ করে শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সামাজিক-অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং মানুষের চলাচলের ওপর বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা কীভাবে মানবপাচারের ঝুঁকি তৈরি করে, তা গবেষণায় গুরুত্ব পেয়েছে। রোহিঙ্গা সংকটকে শুধু শরণার্থী সংকট হিসেবে না দেখে এর সঙ্গে যুক্ত বৃহত্তর সামাজিক ও মানবিক বাস্তবতাও এতে তুলে ধরা হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে ইয়াসমিন আক্তার অধরা বলেন, ‘এই স্বীকৃতি আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের। একই সঙ্গে এটি আমার জন্য বড় দায়িত্বেরও বিষয়। মানবপাচার কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর একটি কঠিন বাস্তবতা।

সেই বাস্তবতার গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক নিয়ে গবেষণার সুযোগ আমার জন্য অনেক অর্থবহ ছিল।’
গবেষণার বিষয় নির্বাচন সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকটকে শুধু একটি শরণার্থী সংকট হিসেবে না দেখে এর সঙ্গে জড়িত মানবপাচার, মানুষের চলাচল, জীবিকা ও সামাজিক বাস্তবতার জটিলতাগুলো বোঝাই ছিল আমার মূল উদ্দেশ্য।’

তিনি আরো বলেন, ‘একটি সমস্যাকে বুঝতে হলে শুধু পরিসংখ্যান বা নীতিমালার দিকে তাকালেই হয় না; এর সঙ্গে জড়িত মানুষের অভিজ্ঞতা ও বাস্তবতাকেও গুরুত্ব দিতে হয়।’

আন্তর্জাতিক একাডেমিক পরিসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে গর্বিত ইয়াসমিন। তাঁর ভাষ্য, এই অর্জন মানুষের অধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবিক সংকট নিয়ে আরো গভীরভাবে কাজ করার অনুপ্রেরণা।

ডিগ্রি প্রদান অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট কিম কিয়ং-মুন শিক্ষার্থীদের দয়ালু কিন্তু সচেতন এবং যোগ্য কিন্তু অহংকারী না হওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি পরিচিত ও স্বস্তিকর গণ্ডির বাইরে গিয়ে অস্বস্তিকর প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor