বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাপ্লিমেন্ট কি সত্যিই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পারে

প্রকাশিত: ০৬:২৮, ৩১ আগস্ট ২০২৬ | ১৬

সামগ্রিকভাবে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা (ইমিউন সিস্টেম) রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুর বিরুদ্ধে শরীরকে রক্ষা করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা সব সময় যে কাজ করে, তা নয়।

কখনো কখনো এটি ব্যর্থও হয়। একটি জীবাণু দাপটের সঙ্গে আক্রমণ করে অসুস্থ করে তুলতে পারে আপনাকে। ঠিক এ ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা কি সম্ভব? খবর হিন্দুস্তান টাইমস
সম্প্রতি ট্রেন্ড দেখা যাচ্ছে, অনেকেই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় এ নিয়ে অনেকের অনেক মতামত দেখা যাচ্ছে।

কেউ কেউ এর পক্ষে জোরালো কথা বলছেন। আবার কেউ এর বিপক্ষে যুক্তি দেখাচ্ছেন। এ অবস্থায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে―সাপ্লিমেন্ট কি সত্যিই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পারে? হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ বিষয়ে কথা বলেছেন ভারতের গুরুগ্রামের মারেঙ্গো এশিয়া হসপিটালসের ইন্টারনাল মেডিসিন কনসালট্যান্ট ডা. দীক্ষা গোয়েল।
সাপ্লিমেন্ট কী কাজ করে

ডা. দীক্ষা জানিয়েছেন, দোকানে থাকা বিভিন্ন পণ্য রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় বা সহায়তা করে বলে দাবি করা হয়।

কিন্তু বৈজ্ঞানিকভাবে ‘রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো’র কোনো ভিত্তি নেই। প্রকৃতপক্ষে শরীরে সেল বা কোষের সংখ্যা বৃদ্ধি করা (ইমিউন সেল বা অন্য কোনো কোষ) সবসময় ভালো কিছু নয়। বলা যেতে পারে―যেসব ক্রীড়াবিদ পারফরম্যান্স বাড়ানোর জন্য এবং রক্তকণিকার সংখ্যা বাড়াতে শরীরে অতিরিক্ত রক্ত প্রবেশ করায়, তাদের স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
এ চিকিৎসক বলেন, নিশ্চয়ই আপনি কখনো চাইবেন না, আপনার রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা অতিরিক্ত শক্তিশালী হোক। আপনি চাইবেন, যেন তা ভারসাম্যপূর্ণ থাকে।

কেননা, অতিরিক্ত প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকা কম প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকার মতোই ক্ষতিকর।
রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার উপায়

ডা. দীক্ষা জানান, আপনার সুরক্ষার প্রথম ধাপ হচ্ছে একটি স্বাস্থ্যকর জীবনধারা নির্বাচন করা। সাধারণ স্বাস্থ্যবিধিগুলো মেনে চলাই হচ্ছে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে প্রাকৃতিকভাবে সঠিকভাবে সচল রাখার উপায়। শরীরের প্রতিটি অঙ্গে প্রতিরোধ ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত, যা পরিবেশগত ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত থাকলে এবং জীবনযাত্রার ধরন স্বাস্থ্যকর হলে আরও ভালোভাবে কাজ করে। এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য কিছু করণীয় হচ্ছে―

ধূমপান না করা,
প্রচুর পরিমাণ ফলমূল ও শাকসবজি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া,
নিয়মিত ব্যায়াম করা,
ওজন সঠিক রাখা,
মদ্যপানের অভ্যাস থাকলে পরিমিত মাত্রায় করা,
পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমানো,
মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করা,
ইনফেকশন বা সংক্রমণ এড়ানোর জন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া, যেমন- ঘন ঘন হাত ধোয়া, মাংস ভালোভাবে সেদ্ধ করে রান্না করা
প্রয়োজনীয় সব ভ্যাকসিন সময়মতো নেয়া। ভ্যাকসিন শরীরে জীবাণু স্থায়ীভাবে বাসা বাঁধার আগেই জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করতে প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে প্রস্তুত করে।
ঘুমকে গুরুত্ব দেয়া

ঘুমকে গুরুত্ব দিতে হবে। এর শক্তি কখনোই অবহেলা করার মতো নয়। পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম না হলে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা আপনাকে সুস্থ রাখার সুযোগ হারিয়ে ফেলতে পারে। কেননা, শরীর এমন কিছু প্রোটিন সৃষ্টি করে, যা সংক্রমণ ও প্রদাহের বিরুদ্ধে লড়াই করে। আর আপনি যখন ঘুমে থাকেন, তখন শরীর এসবকে কাজে লাগায়। এ জন্য বলা হয়, ঘুম ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি করে।

তামাক-অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা

ধূমপায়ীদের শ্বাসযন্ত্রের রোগে গুরুত্বরভাবে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ই-সিগারেট ব্যবহারও শ্বাসযন্ত্রের ক্ষতি করতে পারে। তবে তামাকজাতীয় পণ্য পরিহার করলে হৃদপিণ্ড, ফুসফুস ও ইমিউন সিস্টেমের উন্নতি হতে থাকে।

মানসিক চাপ কমানো

মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা শরীরে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে। এ জন্য দিনভর নিজেকে শান্ত রাখার জন্য যা কিছু করবেন, তা দীর্ঘমেয়াদে আরও ভালো স্বাস্থ্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে আপনাকে সহায়তা করবে।

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor