রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার এক সপ্তাহ পর ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে অন্য কোনো রহস্য, পূর্বপরিকল্পনা বা কারও ইন্ধন রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রবিবার এক বিবৃতিতে জি এম কাদের বলেন, একটি পরিবারের চারজনকে এভাবে হত্যা করার ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক। এ ধরনের ঘটনা শুধু একটি পরিবারকে ধ্বংস করে না, পুরো সমাজকে নিরাপত্তাহীনতার মুখে ঠেলে দেয়।
গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ার একটি বাসা থেকে গণপতি চক্রবর্তী (৬০), তার স্ত্রী প্রীতিলতা (৫০), মেয়ে আগামী (২৫) ও ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তীর (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আগামী স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।
আর প্রীয়ম পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ত।
এ ঘটনায় পরদিন গণপতির বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
ওই দিন ভোরে একই এলাকা থেকে মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯) নামের দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রাতে তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
তবে হত্যাকাণ্ডের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যে কারণ ও বিবরণ প্রকাশ করেছে, তা নিয়ে জনমনে ও সচেতন মহলে প্রশ্ন, সংশয় ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন জি এম কাদের।
তিনি বলেন, এসব ধোঁয়াশা ও সন্দেহ দূর করা অত্যন্ত জরুরি। ঘটনার প্রকৃত নেপথ্যে অন্য কোনো গভীর রহস্য, পূর্বপরিকল্পনা কিংবা অন্য কারও ইন্ধন রয়েছে কি না, তা উন্মোচন করতে হবে।
প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জি এম কাদের বলেন, শিক্ষক দম্পতিসহ একটি পুরো পরিবারের এমন হৃদয়বিদারক পরিণতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
তিনি আরো বলেন, এটি শুধু একটি পরিবারকে ধ্বংস করা নয়, বরং পুরো সমাজকে নিরাপত্তাহীনতার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
Publisher & Editor