শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬

কিডনিতে নীরবে পাথর হয়েছে কি না, বুঝবেন কিভাবে

প্রকাশিত: ০৭:৩৩, ২৮ আগস্ট ২০২৬ | ১৬

কখনো কখনো কোনো স্পষ্ট লক্ষণ বা ইঙ্গিত ছাড়াই পাথর তৈরি হতে পারে কিডনিতে। এসব যখন সমস্যা তৈরি করে, তখন লক্ষণগুলো আর অবহেলা করা যায় না।

প্রয়োজন হয় চিকিৎসার। তবে এর আগে কিছু প্রাথমিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। হঠাৎ পাঁজরের নিচে তীব্র ব্যথা হওয়া বা প্রস্রাবের পরিবর্তন―এমন কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণ ইঙ্গিত দিতে পারে যে পাথরটি মূত্রনালির মধ্য দিয়ে সরে যাচ্ছে। এ জন্য আগে থেকেই সচেতন ও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

খবর হিন্দুস্তান টাইমস
ভারতের ফোর্টিস হাসপাতাল শালিমার বাগের কনসালট্যান্ট নেফ্রোলজিস্ট ডা. ভানু মিশ্র কিডনিতে পাথরের সাধারণ সতর্কতামূলক লক্ষণগুলো জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ঠিক কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত, তা-ও বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

কিডনিতে পাথর কী
প্রস্রাবে বিভিন্ন খনিজ এবং লবণের ঘনত্ব ব্যাপক পরিমাণ বেড়ে গেলে সেসব কিডনিতে জমে কঠিন স্তূপে পরিণত হয়। যা মূলত কিডনির পাথর।

ডা. ভানু বলেন, কিডনির পাথরের আকার বিভিন্ন রকম হতে পারে। ছোট আকারের পাথরগুলো প্রস্রাবের সঙ্গে সহজেই বের হয়ে যায়। তবে বড় পাথরগুলো বের হওয়া কঠিন। এমনকি প্রস্রাবের প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে তীব্র অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে।

পাঁজরের নিচের ব্যথার লক্ষণ বুঝতে পারা
ডা. ভানুর মতে, কিডনিতে পাথর হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পারার অন্যতম প্রধান লক্ষণ হচ্ছে শরীরের দুই পাশে, বিশেষ করে পাঁজরের নিচের অংশে তীব্র ব্যথা হওয়া।

কিছু ক্ষেত্রে এই ব্যথা যাওয়া-আসা করে এবং পাথরটি মূত্রনালির মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় ব্যথা তলপেট বা কুঁচকিতে ছড়িয়ে পড়ে। পাঁজরের নিচের ব্যথার সঙ্গে কোনো কোনো রোগীর বমি বা বমি বমি ভাব হতে পারে।

প্রস্রাবের যেসব পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতন থাকা উচিত
কখনো কখনো প্রস্রাবে কিছু পরিবর্তন দেখা দিতে পারে, যা কিডনিতে পাথরের বিষয়টি নির্দেশ করে। এর লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে- প্রস্রাবে রক্তের উপস্থিতির কারণে গাঢ় বা লালচে রং হওয়া। কখনো কখনো বিভিন্ন খনিজ বা লবণের স্ফটিকের (ক্রিস্টাল) উপস্থিতির জন্য প্রস্রাব ঘোলাটে হওয়া।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন
ডা. ভানু বলেন, আপনি যদি তীব্র বা ক্রমাগত ব্যথার সঙ্গে জ্বর অনুভব করেন বা কাঁপুনি দেয়, তাহলে কালক্ষেপণ না করে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা জরুরি। কেননা, এ ধরনের লক্ষণগুলো কিডনির পাথরের জন্য সৃষ্ট ব্লকেজের পেছনে থাকা কোনো সংক্রমণের ইঙ্গিত দিতে পারে। আবার প্রস্রাব করতে কষ্ট হলে, ঘন ঘন বমি, জ্বর, কাঁপুনি ও তীব্র ব্যথা অনুভব হলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

পাথর শনাক্ত
চিকিৎসকরা রোগ নির্ণয়ের সময় শারীরিক পরীক্ষা, প্রস্রাব পরীক্ষা, রক্ত পরীক্ষা, আল্ট্রাসাউন্ড বা সিটি স্ক্যান করে এতে কিডনির পাথর থাকার লক্ষণগুলো দেখতে থাকেন। মূলত পাথরের আকার, অবস্থান এবং এটি কোনো বাধা বা সংক্রমণ সৃষ্টি করছে কি না, এর ওপর নির্ভর করে চিকিৎসার ধরন। ছোট আকারের পাথরগুলো সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে প্রস্রাবের সঙ্গে নিজ থেকেই বের হতে পারে। তবে বড় পাথরের ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়।

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor