বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬

বিশ্বজুড়ে মার্কিন ভিসার সাক্ষাৎকার স্থগিত করল ট্রাম্প প্রশাসন

প্রকাশিত: ১২:৩৭, ২৬ আগস্ট ২০২৬ | ১৬

হোয়াইট হাউসে নিজের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন নীতি অত্যন্ত কঠোর করার অংশ হিসেবে বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সব দূতাবাস ও কনস্যুলেটে ভিসার সাক্ষাৎকার স্থগিত করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, বিদেশে তাদের সব কূটনৈতিক মিশনে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের জন্য বিশ্বব্যাপী একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করতেই সাক্ষাৎকার কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।

পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, এই প্রশিক্ষণের সুবিধার্থে ভিসার সাক্ষাৎকারের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। তবে এই প্রক্রিয়াটি ঠিক কতদিন স্থায়ী হবে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি। মূলত আবেদনকারীরা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি আর্থিক সহায়তা বা সামাজিক সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বেন কি না তা যেন কনস্যুলার কর্মকর্তারা আরও নিখুঁত ও ধারাবাহিকভাবে মূল্যায়ন করতে পারেন, সে উদ্দেশ্যেই এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

'ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস'-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইতোমধ্যে সাক্ষাৎকার নির্ধারিত থাকা অনেক অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীকে ইমেইল করে জানানো হয়েছে যে তাদের সাক্ষাৎকার স্থগিত করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে নতুন তারিখ জানিয়ে দেওয়া হবে।

দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প গণ-ডিপোর্টেশন এবং কঠোর অভিবাসন বিরোধী নীতি গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে ভিসা ও গ্রিন কার্ড বাতিল করা এবং রাজনৈতিক মতামত কিংবা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার মতো বিভিন্ন কারণে ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প প্রশাসন দক্ষ বিদেশী কর্মী ব্যবহারের পথ এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের একটি প্রস্তাব পর্যালোচনা শুরু করেছে। প্রস্তাবটিকে 'অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ' বলা হচ্ছে, যা বার্ষিক শত মিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে।

পর্যটন বা ব্যবসার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে পরবর্তীতে আশ্রয় প্রার্থনা করা প্রায় ২ লাখ বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিলের পরিকল্পনা করছে প্রশাসন।

ট্রাম্পের দাবি, এসব পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

তবে এসব সিদ্ধান্ত বেশ কিছু আইনি বাধার মুখেও পড়েছে। গত সপ্তাহে একজন মার্কিন বিচারক ট্রাম্প প্রশাসনের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা স্থগিত করার একটি সিদ্ধান্ত বাতিল করেন। রায়ে বলা হয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রী মার্কো রুবিও তার আইনগত ক্ষমতার বাইরে গিয়ে এই নীতি চালু করেছিলেন।

এদিকে মানবাধিকার সংস্থাগুলো ট্রাম্পের এই পদক্ষেপগুলোকে বৈষম্যমূলক এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা লঙ্ঘনের শামিল বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সংস্থাগুলোর মতে, এসব নীতি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত নৃতাত্ত্বিক সংখ্যালঘুদের জন্য এক ধরনের অনিশ্চিত ও ভীতিপ্রদ পরিবেশ তৈরি করেছে। সূত্র: এনডিটিভি

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor