ছবি: সংগৃহীত
যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আটলান্টিক মহাসাগরে নিজের বিমানটি জরুরি অবতরণ করাতে বাধ্য হওয়া ফ্লোরিডার এক তরুণী পাইলট বলেছেন, সেই দুর্ঘটনা থেকে সাঁতরে পাড়ে আসতে পেরে তিনি নিজেকে অত্যন্ত ভাগ্যবতী মনে করছেন।
২৩ বছর বয়সি ফেইথ টেনকলি গত শনিবার তার মা-বাবাকে নিয়ে আসার জন্য বাহামাসের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। কিন্তু ডানপাশের ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়া এবং ল্যান্ডিং গিয়ার ভেঙে পড়ার কারণে ফ্লোরিডার বোকা রাটনের উপকূলের কাছে তিনি বিমানটি জরুরি অবতরণ করাতে বাধ্য হন।
বোর্ডে থাকা বিপুল পরিমাণ জ্বালানি নিয়ে বোকা রাটন বিমানবন্দরে অবতরণ করতে গেলে আগুন ধরে যেতে পারে—এই আশঙ্কায় তিনি তার ‘পাইপার পিএ৩০’ প্রপেলার বিমানটিকে সমুদ্রের পানিতেই নামানোর সিদ্ধান্ত নেন।
চার বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন পাইলট টেনকলি শনিবার ডাব্লিউপিটিভি-কে বলেন, ‘আমি সত্যিই অত্যন্ত ভাগ্যবতী ও স্বস্তিবোধ করছি যে, এমন একটি দুর্ঘটনার পর সাঁতরে বেঁচে ফিরতে পেরেছি’।
‘বোকা রাটন বিমানবন্দরে নামাটা নিরাপদ হবে না ভেবে আমি উপকূলের দিকে এগিয়ে যাই। বিমান নিচে নামানোর সময় আমার মূল লক্ষ্যই ছিল আশেপাশের প্রতিটি মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা’।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি বিমানটিকে উন্মুক্ত সমুদ্রের দিকে নিয়ে যেতে সক্ষম হই এবং কাছাকাছি থাকা সব ভবন, প্যাডেলবোর্ডার, সাঁতারু (এমনকি মেটাল ডিটেক্টর ব্যবহারকারী ব্যক্তিদেরও) নিরাপদে এড়িয়ে চলি। আমি সত্যিই নিজেকে অনেক ভাগ্যবান মনে করছি যে, শেষ পর্যন্ত সাঁতরে পাড়ে উঠতে পেরেছি’।
টেনকলি ফোর্ট মায়ার্সের পেজ ফিল্ড বিমানবন্দর থেকে সকাল ৮টা ৫০ মিনিটের কিছু আগে উড্ডয়ন করেছিলেন। তবে বোকা রাটন থেকে প্রায় ১৫ মাইল দূরে গিয়েই তিনি বিপদে পড়েন।
উড্ডয়নের এক ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে বিমানটিকে সমুদ্রের পানিতে নামিয়ে আনেন। ভিডিওতে দেখা যায়, সৈকতের মানুষ ও ঘরবাড়ি বাঁচিয়ে তিনি বেশ নিয়ন্ত্রিতভাবেই বিমানটি অবতরণ করান।
সৈকতে থাকা প্রত্যক্ষদর্শীরা এই পাইলটের এমন কাণ্ড দেখে রীতিমতো তাজ্জব বনে যান।
মারিয়া মার্কস নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী ডাব্লিউপিবিএফ-কে বলেন, ‘এক মুহূর্তে আমি আমার বাচ্চাকে সানস্ক্রিন লাগিয়ে দিচ্ছিলাম, আর ঠিক পর মুহূর্তেই ওপরে তাকিয়ে বলে উঠলাম—‘আরে, ওখানে ওটা কী হচ্ছে’?
অ্যালেক্স বেস্টার নামের আরেক প্রত্যক্ষদর্শী ডাব্লিউপিএলজি জানান, বিমানটি ‘একেবারে নিচু দিয়ে আসার’ পর তিনি প্রথমে বুঝতেই পারছিলেন না সেটি বালুতে নামবে নাকি পানিতে’।
তিনি বলেন, ‘সে বিমানটিকে কম গভীর পানিতে নামিয়েছে, যা আমার কাছে বেশ বুদ্ধিমত্তার কাজ বলে মনে হয়েছে’।
টেনকলি নিজেই সাঁতরে তীরে উঠে আসতে সক্ষম হন এবং পরবর্তীতে উদ্ধারকারী দল পানি থেকে বিমানটি তুলে আনে।
সূত্র: নিউ ইয়র্ক পোস্ট
Publisher & Editor