সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬

‘মস্তিষ্কখেকো অ্যামিবা’র সংক্রমণে ৮ বছরের শিশুর মৃত্যু

প্রকাশিত: ০৭:০৪, ২৪ আগস্ট ২০২৬ | ২৪

যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানায় ‘মস্তিষ্কখেকো অ্যামিবা’র সংক্রমণে ৮ বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।  লেক ক্লেইবর্নে সাঁতার কাটার পর সে ‘নেগলেরিয়া ফাওলেরি (Naegleria fowleri)’ নামের এই অ্যামিবার সংস্পর্শে এসেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান বলছে, রুস্টনের বাসিন্দা লিলিয়ান স্মার্ট শনিবার (২২ আগস্ট) মারা যায়। এর মাত্র এক দিন আগেই তার অষ্টম জন্মদিন উদযাপিত হয়েছিল।  সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিবারের পক্ষ থেকে তার মৃত্যুর খবর জানানো হয়।

পরিবার এক পোস্টে জানায়, লিলিয়ানের মস্তিষ্ক এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল যে তার ছোট শরীর আর তা সামলে উঠতে পারেনি। তাকে বাঁচাতে চিকিৎসক ও স্বজনেরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তাকে হারাতে হয়েছে।

লুইজিয়ানা স্বাস্থ্য বিভাগ গত ১৯ আগস্ট জানায়, রাজ্যের একজন বাসিন্দা ‘নেগলেরিয়া ফাওলের‘-তে আক্রান্ত হয়েছেন। সম্ভবত ক্লেইবর্ন প্যারিশের লেক ক্লেইবর্নে সাঁতার কাটার সময় সে সংক্রমিত হয়। পরে স্থানীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ওই আক্রান্ত ব্যক্তি হিসেবে লিলিয়ানের নাম প্রকাশ পায়।

১৫ আগস্ট থেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল লিলিয়ান। তার পরিবারের পাশে দাঁড়াতে রুস্টনের দুই ডজনের বেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিক্রির একটি অংশ তাদের সহায়তায় দেওয়ার উদ্যোগ নেয়।

কতটা ভয়ংকর এই অ্যামিবা?

‘নেগলেরিয়া ফাওলের‘ সাধারণত গরম পানিতে বেড়ে ওঠে এবং গ্রীষ্মকালে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলের উষ্ণ মিঠাপানিতে এটি বেশি দেখা যায়।

যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৩৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র প্রায় ১৮০টি সংক্রমণের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র। লুইজিয়ানাতেও ২০১১ সালের পর এ ধরনের সংক্রমণ খুবই কম ঘটেছে।

এই অ্যামিবা হ্রদ, নদী ও পুকুরের মতো উষ্ণ মিঠাপানিতে থাকতে পারে। তবে লবণাক্ত পানিতে এবং সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ ও ক্লোরিনযুক্ত সুইমিং পুলে এটি পাওয়া যায় না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের এমন কিছু উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলেও এই অ্যামিবা দেখা দিতে পারে, যেখানে আগে এটি তেমন ছিল না।

দূষিত পানি নাক দিয়ে শরীরে ঢুকলে অ্যামিবা মস্তিষ্কে পৌঁছে প্রাইমারি অ্যামিবিক মেনিনগোএনসেফালাইটিস (পিএএম) নামের মারাত্মক মস্তিষ্কের সংক্রমণ ঘটাতে পারে।

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor