বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬

ঋণ ছাড়াল ৪০ লাখ কোটি ডলার, বড় অর্থনৈতিক সংকটের আশঙ্কা

প্রকাশিত: ০৯:০০, ২০ আগস্ট ২০২৬ |

এক দশকের মধ্যে দ্বিগুণ বেড়ে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ প্রথমবারের মতো ৪০ ট্রিলিয়ন (৪০ লাখ কোটি) ডলারের ঐতিহাসিক মাইলফলক অতিক্রম করেছে। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ আগস্ট পর্যন্ত দেশটির মোট বন্ড ও অন্যান্য সরকারি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪০ দশমিক ০৫ ট্রিলিয়ন ডলারে। ২০১৬ সালে এই ঋণের পরিমাণ ছিল ২০ ট্রিলিয়ন ডলারেরও কম।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি এবং ঋণের সুদের হার বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ দ্রুতগতিতে বেড়েছে। বিশেষ করে ট্রাম্প ও বাইডেন প্রশাসনের সময়ে বড় ধরনের সরকারি ব্যয় অব্যাহত থাকায় ঋণের বোঝা আরও বাড়ে।

কংগ্রেশনাল বাজেট অফিস (সিবিও) এর আগে পূর্বাভাস দিয়েছিল, ২০২৬ অর্থবছর শেষে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ ৩৯ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। কিন্তু প্রত্যাশার আগেই ঋণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় ভবিষ্যতে সুদ পরিশোধের ব্যয় এবং সরকারের ক্রমবর্ধমান ঋণনির্ভরতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সিবিও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এখন ৪১ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে এবং ২০৩৬ সালের মধ্যে এই ঋণ প্রায় ৬৪ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের ঋণের এই উল্লম্ফনে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রভাব পড়েছে। গত মঙ্গলবার ৩০ বছর মেয়াদি মার্কিন বন্ডের সুদের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৩৪ শতাংশে, যা বিগত প্রায় ২০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এই বন্ডের হারের ওপর নির্ভর করেই গৃহঋণ, গাড়ি কেনা ও ক্রেডিট কার্ডের সুদের হার নির্ধারিত হয়। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের কারণে তেলের মূল্যবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি এবং এআই প্রযুক্তি খাতে টেক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিপুল পরিমাণ ঋণ গ্রহণকেও বাজার অস্থিরতার কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অর্থনীতির অধ্যাপক ডেভিড জ্যাকস বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ বৃদ্ধির গতি ত্বরান্বিত হচ্ছে এবং একসময় না একসময় এই বিল পরিশোধ করতেই হবে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, ঋণ ব্যবস্থাপনা ব্যর্থ হলে ২০০৮ সালের মতো অর্থনৈতিক সংকট দেখা দিতে পারে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ট্রেজারি বিভাগ আগামী ৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত তাদের বন্ড বাইব্যাক (পুনরায় কিনে নেওয়া) কর্মসূচি ২ বিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে অন্তত দ্বিগুণ অর্থাৎ ৪ বিলিয়ন ডলার করার ঘোষণা দিয়েছে। এতে দীর্ঘমেয়াদি বন্ডের সুদের হার কিছুটা কমে ৫ দশমিক ১৮ শতাংশে নেমে আসে।

অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের প্রধান বিশ্লেষক জন ক্যানাভান মনে করেন, এটি সাময়িক স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা মাত্র, কারণ ট্রেজারি ঋণের বিশাল আকারের তুলনায় এটি দীর্ঘমেয়াদে বড় কোনও পরিবর্তন আনবে না।

জার্মানির ডিজে ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক রেনে আলব্রেখট বলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর মাত্র তিন মাস বাকি। তাই সুদের হার নিয়ন্ত্রণে ট্রেজারি বিভাগকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হয়েছে।

অন্যদিকে অর্থনীতিবিদ মোহামেদ এ এল-ইরিয়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, সুদের হার নিয়ন্ত্রণে সাময়িক পদক্ষেপ নেওয়া হলেও এর অপ্রত্যাশিত নেতিবাচক পরিণতি ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতে পারে।

বর্তমানে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ ও মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের (জিডিপি) অনুপাত ১২৫ দশমিক ৮ শতাংশ, যা বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ। বিশ্ব অর্থনীতির মধ্যে যুক্তরাজ্যের এই অনুপাত ১০৩ দশমিক ৬ শতাংশ, চীনের ১০৬ দশমিক ৯ শতাংশ এবং জাপানের ২০০ শতাংশেরও বেশি।

সূত্র: বিবিসি

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor