বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬

শিগগির ব্রিটেনে ফিরছেন প্রিন্স হ্যারি ও মেগান

প্রকাশিত: ০২:৩৭, ২০ আগস্ট ২০২৬ | ১৫

প্রিন্স হ্যারি ও মেগান যুক্তরাষ্ট্র থেকে আবার যুক্তরাজ্যে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিউজ জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষ দিকে তারা যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে লন্ডনের বাইরে একটি ব্যক্তিগত ও রাজপরিবারের আনুষ্ঠানিক বাসভবন নয়, এমন একটি বাড়িতে উঠবেন। প্রথমে এ খবর প্রকাশ করে ডেইলি টেলিগ্রাফ ও দ্য সান।

হ্যারি-মেগানের দুই সন্তান, ৭ বছর বয়সী প্রিন্স আর্চি এবং ৫ বছর বয়সী প্রিন্সেস লিলিবেট আগামী মাস অর্থাৎ, সেপ্টেম্বর থেকেই যুক্তরাজ্যের একটি স্কুলে পড়াশোনা শুরু করার জন্য ভর্তি হয়েছে।

গত রোববার রাজা তৃতীয় চার্লসকে তাদের যুক্তরাজ্যে ফিরে আসার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। তবে প্রিন্স হ্যারি বা মেগান আবার রাজপরিবারের কর্মরত সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন, এমন কোনো পরিকল্পনা বর্তমানে নেই। চলতি বছরের জুলাইয়ে হ্যারি, মেগান ও তাদের সন্তানরা রাজা চার্লসের হাইগ্রোভের বাড়িতে তাঁর সঙ্গে দেখা করেছিলেন। তবে ওই বৈঠকে যুক্তরাজ্যে ফিরে আসার পরিকল্পনা নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানা গেছে।

বিবিসি জানিয়েছে, গত সপ্তাহের আগে রাজা চার্লস হ্যারি-মেগানের এই পরিকল্পনার বিষয়ে জানতেন না। তবে তিনি ব্যক্তিগত ও পারিবারিকভাবে সাসেক্স পরিবারের সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটানোর সুযোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে হ্যারি ও মেগানের সরকারি মর্যাদায় কোনো পরিবর্তন হবে না। তারা সাধারণ ব্যক্তি হিসেবেই থাকবেন।


প্রিন্স উইলিয়াম ও প্রিন্সেস ক্যাথরিনকেও হ্যারি-মেগানের ফিরে আসার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে।

এর আগে, ২০২০ সালের শুরুতে হ্যারি ও মেগান যুক্তরাজ্য ছেড়ে রাজপরিবারের কর্মরত সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন বন্ধ করে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। এরপর থেকে রাজপরিবারের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছিল। চলতি বছরের জুলাইয়ে রাজা চার্লস ও রানি ক্যামিলার সঙ্গে তাদের সাক্ষাৎকে সেই সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হয়।

গ্লুচেস্টারশায়ারে রাজার ব্যক্তিগত বাড়িতে ওই বৈঠককে রাজপ্রাসাদ থেকে ‘ব্যক্তিগত পারিবারিক আয়োজন’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল। চার বছরেরও বেশি সময় পর সেটিই ছিল প্রথমবার, যখন রাজা চার্লস তার নাতি-নাতনিদের সরাসরি দেখেছিলেন। ২০২২ সালে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার পর হ্যারি ও মেগান একসঙ্গে আর যুক্তরাজ্যে যাননি।


হ্যারি ও মেগানের নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ রয়েছে। জুলাইয়ের সফরও পুনর্বিবেচনা করা হয়েছিল, কারণ যুক্তরাজ্যে পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য হ্যারির করা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল। গত বছর যুক্তরাজ্যে অবস্থানের সময় নিজের ও পরিবারের জন্য কী ধরনের নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার তার রয়েছে, তা নিয়ে করা আইনি চ্যালেঞ্জে হেরে যান হ্যারি। কর্মরত রাজপরিবারের সদস্যের দায়িত্ব ছেড়ে মেগানকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাওয়ার পর তার নিরাপত্তার মাত্রা কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল চেয়েছিলেন তিনি।

হ্যারি-মেগানের যুক্তরাজ্যে ফেরার পরিকল্পনা প্রকাশের পর ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, রাজপরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয় এক্সিকিউটিভ কমিটি ফর দ্য প্রোটেকশন অব রয়্যালটি অ্যান্ড পাবলিক ফিগারস। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য সরকারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ‘কঠোর এবং প্রয়োজন অনুযায়ী যথাযথ’।

এর আগে প্রিন্স হ্যারি বলেছিলেন, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে তিনি যুক্তরাজ্যে আসা এবং স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে আসা থেকে বিরত ছিলেন। জুলাইয়ের সফরের সময় হ্যারি আহত সাবেক সেনাসদস্য ও সামরিক বাহিনীর সদস্যদের জন্য আয়োজিত ইনভিক্টাস গেমসের প্রচারণা চালান। আগামী বছর বার্মিংহামে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। তবে তাঁর ওই সফর হাই কোর্টে একটি গোপনীয়তা মামলায় হেরে যাওয়ার ঘটনাতেও ছাপিয়ে যায়। অ্যাসোসিয়েটেড নিউজপেপার্সের বিরুদ্ধে করা ওই মামলায় হ্যারি পরাজিত হন। অ্যাসোসিয়েটেড নিউজপেপার্স ডেইলি মেইল ও মেইল অন সানডের প্রকাশক।

প্রিন্স হ্যারি এবং আরও কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তি অভিযোগ করেছিলেন, সংবাদ প্রতিবেদন তৈরির জন্য সংবাদগোষ্ঠীটি বেআইনি পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ করেছে। তবে অ্যাসোসিয়েটেড নিউজপেপার্স এসব অভিযোগ জোরালোভাবে অস্বীকার করেছে। মেগানের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে সংবাদমাধ্যমের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপের অভিযোগও দীর্ঘদিন ধরে করে আসছেন হ্যারি। চলতি বছরের জানুয়ারিতে আদালতে তিনি বলেছিলেন, সংবাদমাধ্যম ‘আমার স্ত্রীর জীবনকে পুরোপুরি দুর্বিষহ করে তুলেছে’।

ইনভিক্টাস গেমস ফাউন্ডেশনের প্রধান কর্মসূচি ও কৌশল কর্মকর্তা ডেভিড ওয়াইজম্যান বিবিসিকে বলেছেন, আগামী বছর বার্মিংহামে ইনভিক্টাস গেমসের সময় প্রিন্স হ্যারি যুক্তরাজ্যে থাকবেন, এটি ‘চমৎকার খবর।’ তিনি বলেন, ‘তাঁকে আবার দেশে পেয়ে আমি সত্যিই আনন্দিত হব। স্থান পরিবর্তন যেকোনো মানুষের জন্যই চাপের বিষয়। তাই আশা করি সবকিছু ভালোভাবে হবে এবং শিশুরা স্কুলে সহজেই মানিয়ে নিতে পারবে।’

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor