একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও ২৪ এর আন্দোলনের চেতনাকে লালন করেই ফিফা ৪০তম ফোবানা কনভেনশন-২০২৬ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে কানাডার টরেন্টো শহরে। আগামী ৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার থেকে ৬ সেপ্টেম্বর রোববার পর্যন্ত ৩ দিনব্যাপী টরেন্টোর ডন ভ্যালি হোটেল এন্ড সুটসে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনের আয়োজক সংগঠন কানাডা বাংলাদেশ সোসাইটি। এবারের ফোবানার শ্লোগান হচ্ছে ‘অনুভবের চেতনায় আমাদের বাংলাদেশ’।
গত ১৫ আগষ্ট শনিবার সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের এক রেষ্টুরেন্টে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ফোবানা সম্মেলনের নেতৃবৃন্দ এসব জানান। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ফোবানা স্টিয়ারিং কমিটির চেয়ারম্যান গিয়াস আহমেদ। সম্মেলনের প্রস্তুতি, কর্মকান্ড ও প্রত্যাশা নিয়ে বক্তব্য রাখেন ফোবানা’র চিফ পেট্রোনস শাহ নেওয়াজ, সাবেক চেয়ারম্যান আলী ইমাম শিকদার, ৪০তম ফোবানা কনভেনশন ২০২৬-এর চীফ নিগোসিয়েটর ও ফাইনাল সাইনিং অথরিটি ড. আবু জুবায়ের দারা, ফোবানা’র জয়েন্ট সেক্রেটারী শাহাব উদ্দিন সাগর, টরন্টো সম্মেলনের কনভেনরদ্বয় দেওয়ান আজীম ও খোকন রহমান এবং মেম্বার সেক্রেটারীদ্বয় জহুরুল ইসলাম ও জাহিদ চৌধুরী ও কালচারাল কো-অর্ডিনেটর তাপস দেব।
সংবাদ সম্মেলন পরিচালনা করেন ফোবানা’র নির্বাহী সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ আহমেদ। সংবাদ সম্মেলনে ফোবানা’র কোষাধ্যক্ষ ওয়াহিদ কাজী এলিন, সদস্য খন্দকার ফরহাদ ও সাদেক খান সহ কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। গিয়াস আহমেদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মূলধারার রাজনীতির সাথে বাংলাদেশী কমিউনিটিকে আরো সম্পৃক্ত করাই এবারের ফোবানা সম্মেলনের মূল লক্ষ্য। শাহ নেওয়াজ বলেন, আমাদের ফোবানাই আসল ফোবানা। আমাদের নামেই নিউইয়র্ক ও কানাডাতে ফোবানার রেজিষ্ট্রেশন করা। আলী ইমাম বলেন, বিভক্ত ফোবানা ঐক্যবদ্ধ করার অনেক চেষ্টা হয়েছে।
বিভক্তির কারণেই মামলা-মোকদ্দমা নিয়েই ফোবানা এগিয়ে চলছে, ফোবানা-কে এগিয়ে যেতে হবে। আবু যুবায়ের দারা বলেন, ফিফা আয়োজিত এবারের বিশ্বকাপ ফুটবলের যৌথ ভেন্যু ছিলো যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। তাই এবারের ফোবানা সম্মেলনের নামকরণ করা হয়েছে- ‘ফিফা ৪০তম ফোবানা কনভেনশন-২০২৬’। তিনি বলেন, এবারের সম্মেলন হবে দলমত নির্বিশেষে সবার অংশগ্রহনের ফোবানা সম্মেলন। সম্মেলনে প্রথম দিন শুক্রবার জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান থাকবে। আমাদের প্রত্যাশা বেষ্ট ফোবানা সম্মেলন উপহার দেয়া।
সংবাদ সম্মেলনে কানাডা থেকে আগত ফোবানা নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে সবার সহযোগিতায় সেরা সম্মেলন উপহার দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এক প্রশ্নের উত্তরে ফোবানা নেতৃবৃন্দ বলেন, সম্মেলনে কানাডার এমপি, ইমিগ্রেশন বিষয়ক মন্ত্রী সহ ১০/১৫জন হাই অফিসিয়াল জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তা আমন্ত্রিত অতিথি থাকবেন। অপর এক প্রশ্নের উত্তরে ফোবানা আবু যুবায়ের দারা জানান, এবারের সম্মেলনে বাজেট দেড় লাখ ডলার। এই বাজেটের সিংহভাগ অর্থ যোগান দেবেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, ফোবানা’র চিফ পেট্রোনস শাহ নেওয়াজ। বাকী অর্থ নিজেরাই যোগান দেবেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে গিয়াস আহমেদ বলেন, আগামী ৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার ২০২৬ টরেন্টোর ডন ভ্যালি হোটেল এন্ড সুটসে ফেডারেশন অব বাংলাদেশী এসোসিয়েশনন্স ইনক নর্থ আমেরিকা’র (ফোবানা) ৪০তম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই সম্মেলনের আয়োজক সংগঠন কানাডা-বাংলাদেশ সোসাইটি। আমেরিকা এবং উত্তর আমেরিকার বাঙালীদের প্রথম এবং জনপ্রিয় সংগঠন ফোবানা।
সংগঠনটির জন্মলগ্ন থেকেই বাংলাদেশের সর্বস্তরের ব্যবসায়ী, রাজনীতিবীদ, সাংবাদিক ও স্বনামধন্য শিল্পীদের নিয়ে প্রতিবছরই জমকালো কনভেনশন আয়োজন করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় ফোবানার ৪০তম বর্ষপূর্তীকে স্মরণীয় করে রাখতে কানাডার টরেন্টোতে ২০২৬ এর ৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩ দিনব্যাপী বাংলাদেশী শিল্পী, ব্যবসায়ী এবং উদ্যোক্তাদের সম্মাননা প্রদান সহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। এবারের ফোবানার শ্লোগান হচ্ছে ‘অনুভবের চেতনায় আমাদের বাংলাদেশ’।
ফোবানার এবারের আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য সম্মতি দিয়েছেন বাংলাদেশের তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দীন স্বপন। গেষ্ট অব অনার হিসেবে থাকবেন সংস্কৃতি মন্ত্রী বাবু নিতাই রায় চৌধুরী ও কানাডাস্থ বাংলাদেশের হাই কমিশনার নাহিদা সোবহান। ফোবানার এবারের আয়োজনে সাংস্কৃতিক পর্বে অংশগ্রহণ করবেন বিশ্বখ্যাত জাদু শিল্পী জুয়েল আইচ ও বরেণ্য অভিনয় শিল্পী ফরিদা আখতার ববিতা। তাদের এই সম্মেলন থেকে আজীবন সন্মাননা দেয়া হবে। সাাংস্কৃতিক আয়োজনে অংশগ্রহণ করবেন সঙ্গীতশিল্পী রানো নেওয়াজ, সেলিম চৌধুরী, ডলি সায়ন্তনী, জোহরা আলীম, সুকণ্যা ঘোষ, পিন্টু ঘোষ, অনিক রাজ, শাহনাজ বেলি, সজীব, সমি, ফকির সাহাবুদ্দিন, আঁখি আলমগীর, কলকাতা থেকে প্রিয়ংবদা ব্যানার্জী ও ঝিলিক। ফোবানার আয়োজনে গোল্ড স্পন্সর হিসেবে অংশগ্রহণ করবেন ফোবানা’র চিফ পেট্রোনস শাহ নেওয়াজ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা শাহ নেওয়াজ ও রানো নেওয়াজ।
লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয় যে, এবারের সম্মেলনে প্রবাসের নতুন প্রজন্মকে কিভাবে ফোবানার সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক তৈরি ও দায়িত্ব দেয়া যায় সেসব বিষয়কে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। বিষয়ভিত্তিক ইসুতে সেমিনার-সিম্পোয়িাম ছাড়াও বাংলাদেশ এবং প্রাসের শিল্পীদের নিয়ে একটি নান্দনিক অনুষ্ঠান উপহার দেয়া হবে।
মহান মুক্তিযুদ্ধ ও ২৪ এর আন্দোলনের চেতনাকে লালন করেই এবারের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মনে রাখেতে হবে, আমরা সকলেই ৩০ লাখ শহীদের রক্তে অর্জিত লাল-সবুজের পাসপোর্টধারী। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম এবং অন্যান্য কার্যক্রমের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতি ও সংস্কৃতির সঙ্গে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন রচনার জোর প্রয়াস থাকবে। আমরা মনে করি, এবারের ফোবানা সম্মেলন উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশীদের জন্য একটি মিলনমেলা এবং নিজেদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার ক্ষেত্রে নতুন ইতিহাসের জন্ম দেবে। বাংলাদেশের কৃষ্টি, কালচার, সাহিত্য-সংস্কৃতিতে সৃজনশীলতাকেও এবারের সম্মেলনে প্রাধান্য দেয়া হবে। আমরা প্রবাসীদের নিয়ে বিজনেস নেটওয়ার্ক তৈরি ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, বিজনেস লাঞ্চ, বাংলাদেশের শিল্প, সাহিত্য, সাংস্কৃতিক, কৃষ্টি, ঐতিহ্য তুলে ধরে বিভিন্ন আসর, ইয়ুথ গ্রুপের কার্যক্রম বৃদ্ধিসহ নানা বিষয়ের ওপর অগ্রাধিকার দেবো। আর সম্মেলনে প্রবাসীরা যাতে ফেলে আসা বাংলাদেশকে খুঁজে পায় সে চেষ্টা থাকবে।
গিয়াস আহমেদ বলেন, ‘ফোবানা’ প্রবাসের একটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও বৃহত্তম একটি সংগঠন। এটি মূলত: যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্য ও কানাডা থেকে পরিচালিত বাংলাদেশী সংগঠনগুলোর একটি সম্মিলিত প্ল্যাটফর্ম। ১৯৮৭ সালে ওয়াশিংটন ডিসিতে প্রথম সম্মেলন আয়োজনের মধ্য দিয়ে ফোবানার যাত্রা শুরু হয়। ফোবানার মূল লক্ষ্য ছিলো কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশীদের মধ্যে ঐক্য ও সংহতি বৃদ্ধি, বাংলাদেশী সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরা এবং এর প্রচার ও প্রসার, বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং শিক্ষামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রবাসীদের জীবন-যাত্রার মানউন্নয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে নানা ক্ষেত্রে সেতুবন্ধন রচনা করা। নিউইয়র্ক (ইউএনএ)
Publisher & Editor