ক্রীড়াবিদরা বিদেশের মাটিতে দেশের পতাকা বুকে জড়িয়ে মাঠে নামেন, তখন তাঁর সঙ্গে থাকে বাংলাদেশের স্বপ্ন। পরিবারের অপেক্ষা, কোচের পরিশ্রম, সতীর্থের ভালোবাসা আর কোটি মানুষের প্রার্থনা।
সেই লড়াইয়ের শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত তাঁর পাশে থাকার দায়িত্বও থাকে ক্রীড়া প্রশাসনের। গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসের অভিজ্ঞতার পর সেই দায়িত্বের কথাটিই নতুন করে মনে হয়েছে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের(বিওএ)।
গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে দলের সঙ্গে গিয়েছিলেন কোচ, ম্যানেজার, দলনেতা এবং বিওএর মহাপরিচালকসহ কর্মকর্তারা। কিন্তু প্রতিযোগিতা শেষ হওয়ার পর দলের সবাই একসঙ্গে দেশে ফেরেননি। ক্রীড়াবিদরা ফিরেছেন নিজেদের নির্ধারিত সময়ে, অথচ দলের সঙ্গে থাকা কয়েকজন কর্মকর্তা ফিরে এসেছেন ভিন্ন সময়ে। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। সেই ঘটনা নিয়ে খবরও প্রকাশ করেছিল দৈনিক যুগান্তর। সংবাদটি ক্রীড়া প্রশাসনের নজরে আসার পরই নড়ে চড়ে বসেছে বিওএ।
এবার জাপানের এশিয়ান গেমসে আর সেই সুযোগ থাকছে না। দলের সঙ্গে যাঁরা যাবেন, তাঁদের দলের সঙ্গেই দেশে ফিরতে হবে। নিয়মটি কঠোরভাবেই পালন করা হবে বলে জানিয়েছেন বিওএর মহাসচিব জোবায়েদুর রহমান রানা।
রানা জানান, ‘এশিয়ান গেমসে দলের সঙ্গে যাওয়া এবং দলের সঙ্গে ফেরার বিষয়টি কঠোরভাবে নিশ্চিত করবে বিওএ। কোনো কর্মকর্তা নিজের সুবিধামতো আলাদা সময়ে দেশে ফিরবেন, এমন সুযোগ এবার রাখা হবে না।’
একজন ক্রীড়াবিদ যখন বিদেশের মাটিতে একা হয়ে পড়েন, তখন তাঁর পাশে দাঁড়ানোর জন্যই তো থাকেন দলের কর্মকর্তা, ম্যানেজার কিংবা দলনেতা। প্রয়োজনের মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেওয়া, অসুস্থতায় পাশে দাঁড়ানো, প্রতিযোগিতার সূচি সামলানো কিংবা হঠাৎ কোনো সমস্যার সমাধান করা এসব দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
গ্লাসগোর সেই ঘটনাই তাই এবার নীতিতে বদল আনছে। সেখানে বাংলাদেশ অংশ নিয়েছিল ১৫ জন ক্রীড়াবিদ নিয়ে, চারটি ডিসিপ্লিনে। শেষ পর্যন্ত পদকের মুখ দেখেনি বাংলাদেশ। ক্রীড়াবিদদের ব্যর্থতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে, প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনাও এসেছে আলোচনায়। তার মধ্যেই দলের সঙ্গে না ফেরার বিষয়টি যেন আরেকটি প্রশ্নচিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
এবার সামনে আরও বড় গেমস।আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর জাপানের আইচি-নাগোয়ায় বসবে ২০তম এশিয়ান গেমস। এশিয়ার সেরা ক্রীড়াবিদদের এই মহাযজ্ঞে বাংলাদেশের পতাকাও উড়বে। প্রাথমিকভাবে ২৬টি ডিসিপ্লিনে ২০২ জন ক্রীড়াবিদ পাঠানোর পরিকল্পনা করেছিল বিওএ। পরে সেই সংখ্যা কমে ২২টি ডিসিপ্লিনে দাঁড়িয়েছে বলে জানা গেছে।
এশিয়ান গেমস বাংলাদেশের জন্য নিজেদের সামর্থ্যের আয়না। বিভিন্ন ডিসিপ্লিনে বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদরা লড়বেন এশিয়ার সেরা ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে। পদকের নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারেন না। তবে লড়াইয়ের মঞ্চে ক্রীড়াবিদ অন্তত জানবেন, তাঁর ম্যানেজার ও কোচ তাঁর পাশে আছে।
যুগান্তরের প্রতিবেদনে উঠে আসা গ্লাসগোর অভিজ্ঞতা এবার নাগোয়ার পথে শিক্ষা হয়ে থাকছে। পতাকা শুধু উদ্বোধনের দিনে হাতে থাকলেই হয় না, সেই পতাকার মর্যাদা রক্ষার লড়াইয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত পাশে থাকতে হয়।
এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ কতটি পদক জিতবে, তা সময়ই বলবে। তবে ক্রীড়াবিদরা যখন জাপানে যাবেন, দায়িত্বশীলরাও যাবেন তাঁদের সঙ্গে। আর যখন ফিরবেন, ফিরবেন একই দলের হয়ে, একই দেশের পতাকা বুকে নিয়ে।
Publisher & Editor