বহু বছর জল্পনা-কল্পনার পর হোসে মরিনহো নিশ্চিত করেছেন যে, ২০১৩ সালে স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের উত্তরসূরি হিসেবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দেওয়ার বিষয়ে তিনি রাজি হয়েছিলেন। তবে পরবর্তীতে মন পরিবর্তন করে তিনি পুনরায় চেলসিতেই ফিরে যান।
নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে তৈরি নতুন এক নেটফ্লিক্স প্রামাণ্যচিত্রে ৬৩ বছর বয়সী এই কোচ বলেন, ‘আমি যখন রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়ি, তখন স্যার অ্যালেক্সের পর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যাওয়ার জন্য চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলাম।’ বর্তমানে দ্বিতীয় মেয়াদে রিয়াল মাদ্রিদে ফিরে এসেছেন মরিনহো।
ফার্গুসন নিশ্চিত করেন, ‘তাকে (মরিনহো) এই চাকরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, হ্যাঁ।’ ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ২৬ বছর মেয়াদে ১৩টি প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জয়ের পর ২০১৩ সালে তিনি অবসর নেন।
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি তাকে নিয়ে বসলাম এবং পুরো পরিস্থিতি বুঝিয়ে বললাম। আমার দিক থেকে মনে হয়েছিল তিনি বিষয়টি গ্রহণ করছেন। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দৃশ্যপট বদলে যায়।’
কী পরিবর্তন হয়েছিল? মরিনহো অনুভব করেছিলেন যে চেলসিতে ফেরার সুযোগ তিনি ফিরিয়ে দিতে পারবেন না। যেখানে তিনি ২০০৫ এবং ২০০৬ সালে টানা প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জিতেছিলেন।
ইউনাইটেডের সাবেক প্রধান কোচ বলেন, ‘এক রাতে তিনি আমাকে ফোন করেন এবং কাঁদছিলেন। তিনি বলেন, ‘অ্যালেক্স, আমি এটা নিতে পারছি না। আমি চেলসিকে কথা দিয়েছি এবং আমি আমার কথা ভাঙব না’।” ফার্গুসন পরে বললেন, ‘তিনি আমাকে যে কারণটি দিয়েছিলেন তা আমি বুঝতে পেরেছিলাম, তবে আমি হতাশ হয়েছিলাম।’
মরিনহো বলেন যে ফার্গুসনের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার প্রস্তাব পেয়ে তিনি ‘খুবই সম্মানিত বোধ করেছিলেন’। কারণ ‘ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের একটি অবিশ্বাস্য আকর্ষণ রয়েছে।’
তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘তবে ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা এক জিনিস, আর নির্দিষ্ট কোনো ক্লাবের প্রতি ভালোবাসা অন্য জিনিস। আমি মনে করি ফুটবলের প্রতি ভালোবাসার চেয়ে এটি বেশি শক্তিশালী। আর মূলত রিয়াল মাদ্রিদের পর আমার অনুভব করা প্রয়োজন ছিল যে আমাকে ভালোবাসার মানুষ আছে।’
মরিনহো চেলসির প্রাক্তন মালিক রোমান আব্রামোভিচের সঙ্গে তার নানা সমস্যার কথাও তুলে ধরেন। আব্রামোভিচই তাকে দুই বার নিয়োগ দিয়েছিলেন এবং দুই বারই বরখাস্ত করেছিলেন।
তবুও চেলসিতে দ্বিতীয়বার যোগদানের ওই সিদ্ধান্তে অনুশোচনা নেই মরিনহোর, ‘স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের উত্তরসূরি হওয়ার সুযোগ হাতছাড়া হওয়া আমার জন্য নাটকীয় ছিল। তবে আমি অনুশোচনা করি না কারণ এটি এমন একটি সিদ্ধান্ত ছিল যা আমি আমার মন থেকে নিয়েছিলাম।’
২০১৩ সালে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে ফেরার পর মরিনহো তার তৃতীয় প্রিমিয়ার লিগ শিরোপার পাশাপাশি লিগ কাপও জয় করেন। ২০১৬ সালের মে মাসে লুই ভ্যান গালের স্থলাভিষিক্ত হয়ে তিনি ইউনাইটেডের দায়িত্ব নেওয়ার দ্বিতীয় সুযোগ পান।
ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে আড়াই বছরের মেয়াদে মরিনহো লিগ কাপ এবং ইউরোপা লিগ শিরোপা জেতেন। কিন্তু ফলাফলের অবনতি ঘটায় ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে তাকে বরখাস্ত করা হয়।
চলতি বছরের মে মাসে মরিনহো তার সাবেক ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদে ফিরে আসেন। রিয়ালে তার আগের মেয়াদটি তিক্ততায় শেষ হয়েছিল, কারণ ক্লাব অধিনায়ক ইকার ক্যাসিয়াস এবং অন্য খেলোয়াড়দের সাথে তার টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল।
রিয়ালে পুনরায় যোগ দেওয়ার ঠিক আগে, এই আগ্রাসী কোচ এবং স্পেনের সাবেক গোলরক্ষক ক্যাসিয়াস তাদের মধ্যে থাকা মতপার্থক্যের কারণগুলো নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেন।
Publisher & Editor