রবিবার, ০৯ আগস্ট ২০২৬

মা প্রজাপতি

প্রকাশিত: ০৪:২৫, ০৮ আগস্ট ২০২৬ | ১৭

পুকুরপারে তুঁতগাছের ডালে একটি শুঁয়োপোকা থাকত। সে দেখতে খুবই বিচ্ছিরি।

সারা শরীরে রোঁয়া। তাকে দেখলেই গাছের অন্য পোকারা ভয় পেত। দূরে চলে যেত।
শুঁয়োপোকাটা বুঝতে পারত যে অন্যরা তাকে অবহেলা করছে।

সে কখনো মন খারাপ করত না। কারণ সে তার মায়ের কাছ থেকে শুনেছে, একদিন সে অনেক সুন্দর হবে। শুঁয়োপোকা মায়ের কথাকে সত্যি ভেবেছে।
শুঁয়োপোকা মা-প্রজাপতির কাছে জানতে চেয়েছে, ‘আমাকে সুন্দর হতে হলে কি কিছু করতে হবে?’

মা-প্রজাপতি বলেছে, ‘এ জন্য তোমাকে অনেক কিছু করতে হবে।

প্রতিদিন তুঁতগাছের পাতা খেতে হবে। তারপর শরীরে গুটি বানাতে হবে।’
শুঁয়োপোকা মা-প্রজাপতির কথাকে সত্যি করতে চাইল। সে প্রতিদিন তুঁতগাছের পাতা খায়। একসময় মাকড়সার জালের মতো সুতো ছাড়তে থাকে।

রেশমি সুতো বুনে বুনে নিজের চারপাশটা ঘিরে ফেলে। একসময় পোকাটির চারপাশে ডিমের মতো খোলস গড়ে ওঠে। ধীরে ধীরে তার রং ফিকে হলুদ হলো।
শুয়োপোকার দিনরাত পরিশ্রম। তুঁতগাছের পাতা খেয়ে খেয়ে শুঁয়োপোকা নিজেকে রেশমগুটি বানিয়ে তুলল। নিজেকে সে বদলে ফেলল। তার পুরো শরীর এখন একটা গুটির মতো হয়েছে। শুধু মাথাটা পোকার মতো রয়েছে। সে জানে, এবার মাথাটা ঢেকে দিলেই হবে। এরপর যেইমাত্র সে গুটি থেকে বের হবে, তখনই প্রজাপতি হয়ে যাবে। সে আর বিচ্ছিরি থাকবে না। কিন্তু তাকে আরো পরিশ্রম করতে হবে।

শুঁয়োপোকা আবার নিজের ভেতর গুটি বানাতে শুরু করল। এই কাজ চলল কয়েক দিন ধরে। একসময় রেশমগুটিটা শরীরের ভেতর নড়তে শুরু করে। তারপর ধীরে ধীরে গুটির মাথাটি খুলতে থাকে।

তুঁতগাছের অন্য পোকামাকড় সেদিকে তাকিয়ে থাকে। তারা দেখতে পেল, ভেতর থেকে শুঁয়োপোকাটি কেমন করে বের হয়। তাকে দেখতে তখন কেমন লাগবে—এটাই ছিল অন্য পোকাদের কৌতূহল।

কিছুক্ষণ পর যখনই পোকাটি গুটির ভেতর থেকে ফড়ফড় করে বেরিয়ে এলো, সবাই তো অবাক! একি দেখছে তারা! শুঁয়োপোকাটি তো আর আগের মতো বিচ্ছিরি নেই। সে হয়ে গেছে ভারি সুন্দর এক প্রজাপতি! তার রঙিন পাখা ঝিলমিল করছে।

পোকামাকড়রা অবাক হয়ে বলল, ‘প্রজাপতি, প্রজাপতি, কোথায় পেলে ভাই এমন রঙিন পাখা?’

শুঁয়োপোকাটি এভাবে নিজেকে বদলাতে পেরেছিল। কারণ সে মা-প্রজাপতির কথা সত্যি মনে করেছিল। মায়ের কথা অনুসারে কাজ করেছিল।

সব পোকার উদ্দেশে ছোট্ট প্রজাপতি বলল, ‘সবারই মায়ের কথা শোনা উচিত।’

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor