রবিবার, ০৯ আগস্ট ২০২৬

আবারও হাতে লেখা চিঠির প্রেমে তরুণ প্রজন্ম, জনপ্রিয় ‘স্নেইল মেইল’ ক্লাব

প্রকাশিত: ০৪:১৭, ০৮ আগস্ট ২০২৬ | ১৬

স্মার্টফোন, হোয়াটসঅ্যাপ ও জিমেইলের যুগে কাগজের চিঠি যেন হারিয়ে যেতে বসেছিল। কিন্তু সেই ধারণাই বদলে দিচ্ছে নতুন প্রজন্ম।

বিশেষ করে জেন জি’র অনেক তরুণ-তরুণী এখন আবার হাতে লেখা চিঠি পাওয়ার জন্য অর্থ খরচ করছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ‘স্নেইল মেইল’ ক্লাব।
ইন্ডিয়া টুডে-র এক প্রতিবেদন এ তথ্য দেয়।

‘স্নেইল মেইল’ বলতে সাধারণ ডাকযোগে পাঠানো কাগজের চিঠিকে বোঝায়।

আগে ধীরগতির ডাকসেবাকে মজা করে এ নাম দেওয়া হলেও এখন এটি নতুন এক লাইফস্টাইল ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে।
ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গড়ে উঠছে নানা স্নেইল মেইল ক্লাব। এসব ক্লাবের সদস্যরা মাসিক নির্দিষ্ট ফি দিয়ে হাতে লেখা ও সুন্দরভাবে সাজানো চিঠি পান। চিঠির সঙ্গে থাকে রঙিন স্টিকার, পোস্টকার্ড, বুকমার্ক, ওয়াশি টেপ, শুকনো ফুল, ফ্রিজ ম্যাগনেট কিংবা ছোটখাটো স্মারক।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রাম ও পিন্টারেস্ট–এ ‘স্নেইল মেইল’ লিখে খুঁজলেই দেখা যায় নান্দনিকভাবে সাজানো খাম, ক্যালিগ্রাফিতে লেখা চিঠি এবং বিভিন্ন কারুশিল্পের ছবি। অনেকের কাছে এটি এখন শুধু চিঠি নয়, বরং একটি সৃজনশীল শখ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সারাদিন স্ক্রিনে চোখ রেখে কাজ করা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)–নির্ভর কনটেন্টের আধিক্য এবং ডিজিটাল ক্লান্তির কারণে অনেক তরুণ এখন বাস্তব ও স্পর্শযোগ্য অভিজ্ঞতার দিকে ঝুঁকছেন। হাতে লেখা একটি চিঠি তাই তাদের কাছে ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আন্তরিকতার প্রতীক হয়ে উঠছে।

বেশির ভাগ স্নেইল মেইল ক্লাব মাসিক সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক।

সাধারণত মাসে ৩০০ থেকে ৫০০ রুপি দিয়ে সদস্য হওয়া যায়। প্রতি মাসে ভিন্ন ভিন্ন থিমে চিঠি পাঠানো হয়। কখনো ভ্রমণের গল্প, কখনো অনুপ্রেরণামূলক বার্তা, কখনো সাহিত্য, আবার কখনো থাকে মজার বা চমকপ্রদ বিষয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবণতা নস্টালজিয়ার জন্য নয়; বরং ডিজিটাল জীবনের বাইরে একটু ধীর, ব্যক্তিগত ও সৃজনশীল অভিজ্ঞতা খোঁজার চেষ্টা। প্রতিদিন অসংখ্য মেসেজ ও ই-মেইলের ভিড়ে একটি হাতে লেখা চিঠি এখনো আলাদা অনুভূতি তৈরি করতে পারে।

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor