ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালের উত্তাপ মাঠ থেকে মাঠের বাইরে ছড়ালেও এখনো থামছে না।
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে গত ১৯ জুলাই রাতে ফাইনাল শেষে স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ী মিডফিল্ডার দানি ওলমোর টুঁটি চেপে ধরে তার ঘাড়ে আঘাত করেছিলেন আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালা।
সেই ঘটনার পর আয়ালার প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার বক্তব্যকে মিথ্যা আখ্যা দিয়ে সেদিনের আক্রমণের তীব্র সমালোচনা করেছেন ওলমো।
অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের গোলে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ১৬ বছর পর বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয় স্পেন। রেফারি শেষ বাঁশি বাজানোর পর দুই দলের খেলোয়াড় ও স্টাফদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়।
টিভি ক্যামেরায় স্পষ্ট দেখা যায়, আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস এরিক গার্সিয়ার গলা চেপে ধরে গাভিকে ধাক্কা দিয়ে মাঠে ফেলে দিচ্ছেন।
আরেক দিকে আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ আয়ালা স্প্যানিশ তারকা ওলমোর টুঁটি চেপে ধরেছেন।
ফাইনালের রেশ কিছুটা স্তিমিত হয়ে এলে অনুতপ্ত হওয়ার কথা জানিয়ে আয়ালা বলেছিলেন, কোনো এক মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তিনি এমনটা করেছিলেন।
এই প্রসঙ্গে সম্প্রতি কাতালান সংবাদমাধ্যম দিয়ারি দে তেরাসাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ওলমো। বার্সেলোনার এই তারকা বলেছেন, ‘ক্ষমা চাওয়ার পরও কেউ (আয়ালা) যদি বলে, কোনো একটি মন্তব্যের প্রতিক্রিয়াতেই সে ঘুষি মেরেছে, তাহলে সে দুঃখিত নয়; সে আসলে মিথ্যাবাদী।
আমি তাকে কিছু বলিনি। তাই তার ক্ষমা চাওয়ারও প্রয়োজন নেই। ভুল করাটা সমস্যা নয়; বরং সেই ভুল সততা ও বিনয়ের সঙ্গে স্বীকার করার সাহসের ওপরই একজন মানুষের আসল পরিচয় নির্ভর করে।’
এর আগে এই অপ্রীতিকর ঘটনা নিয়ে মুখ খুলেছিলেন রবার্তো আয়ালা। ভ্যালেন্সিয়া ক্যাপিটাল রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের প্রতিক্রিয়ার জন্য দুঃখ প্রকাশ করলেও ওলমোর উসকানিমূলক মন্তব্যকেই দায়ী করেছিলেন তিনি।
তবে ওলমো মনে করেন, বিষয়টিকে শুধু ম্যাচ শেষের সাধারণ বাকবিতণ্ডা হিসেবে দেখে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। পেশাদার ফুটবলার ও কোচদের সামাজিক দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ২৮ বছর বয়সী এই তারকা বলেন, ‘আমার সন্তান, পরিবার এবং কোটি ভক্ত যখন আমাদের খেলা দেখে, আমি চাই তারা যেন আমাদের খেলা ও আচরণ নিয়ে গর্ব করতে পারে। ফুটবলার হিসেবে আমরা নতুন প্রজন্মের কাছে উদাহরণ। সেই জায়গায় আমাদের দায়িত্ব অনেক বেশি।’
ফাইনালে রেফারির শেষ বাঁশি বাজার পর যুদ্ধংদেহী আচরণের জন্য আয়ালাসহ পুরো আর্জেন্টিনা দলই এখন সমালোচনার মুখে। বিশেষ করে পারেদেস ছিলেন সবচেয়ে বেশি আগ্রাসী। বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো মঞ্চে শৃঙ্খলাভঙ্গের এসব ঘটনায় এরই মধ্যে তদন্ত শুরু করেছে ফিফা।
Publisher & Editor