বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

ওচোয়ার বিদায়ে একটা যুগের অবসান

প্রকাশিত: ০৩:০৫, ২২ জুলাই ২০২৬ |

বিশ্বকাপের অনেক কিছুই বদলে গেছে। এই যেমন ৩২ দলের পরিবর্তে ৪৮ দলের বিশ্বকাপ হলো।

প্রথমবারের মতো তিন দেশে বিশ্বকাপ হলো। কিন্তু মেক্সিকোর এক পজিশনে কোনো বদলই দেখা যায়নি। 
তিন কাঠির নিচে সব সময় ঝাঁকড়া চুলওয়ালা এক গোলরক্ষককে দেখা গেছে। অন্যদের বয়স বাড়লেও গুইলিয়ার্মো ওচোয়ার বয়স বাড়ে না।

সঙ্গে পারফরম্যান্সে ভাটা পড়ে না। তাই মেক্সিকোর গোলবারের নিচে আস্থাভাজন তিনি।
দীর্ঘ ২২ বছর ধরেই দৌঁড়াচ্ছেন ২২ গজের সবুজ মাঠে। অবশেষে ওচোয়ার মনে হয়েছে—আর নয়, এবার থামা দরকার।

থামলেন রেকর্ড গড়েই। একমাত্র গোলরক্ষক হিসেবে ৬ বিশ্বকাপ খেলার রেকর্ড গড়েছেন তিনি। ৪১ বছর বয়সী গোলরক্ষকের বাইরে এই কীর্তি আছে শুধুই লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর।
ক্যারিয়ারের শেষটা অবশ্য সুখকর হয়নি ওচোয়ার। রেকর্ড বিশ্বকাপে মাত্র এক ম্যাচই গোলবার সামলাতে পেরেছেন।

খেলার বয়স খুব বেশি ছিল না। চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে শেষ দিকে বদলি নেমে ১২ মিনিট ছিলেন মাঠে। ম্যাচ শেষে সতীর্থর কাছ থেকে অবশ্য ঠিকই ‘ট্রিবিউট’ পেয়েছেন তিনি। ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপের ঘোষণা আগেই দেওয়ায় ঘরের মাঠ মেক্সিকো সিটিতে তাকে সেদিন শূন্য ছুড়ে বিদায়ী অর্ঘ্য দেন কোচ-সতীর্থরা।

ক্যারিয়ারে নিজের সর্বস্ব নিংড়ে দিয়ে খেলতে পেরে গর্ববোধ করছেন ওচোয়া। বিদায় বেলা সামাজিক মাধ্যমে গত ১৩ জুলাই ৪১ বসন্ত উদযাপন করা গোলরক্ষক লিখেছেন, ‘ক্লাব এবং জাতীয় দলের হয়ে সর্বস্ব নিংড়ে খেলেছি। আজ গ্লাভস জোড়া তুলে রাখলাম। একজন গোলরক্ষক হিসেবে আপনাকে মনে রাখতে হবে ৯০ মিনিটের প্রতিটি মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সবকিছু তোমার ওপর নির্ভর করে। যখন মুহূর্তটা আসবে কোনো দ্বিধা করা যাবে না।’

২০০৩ সালে পেশাদার ক্যারিয়ার শুরু করা কিংবদন্তি ওচোয়া র্গব নিয়ে লিখেছেন, ‘আমার স্বপ্ন আমাকে এতদূর পর্যন্ত নিয়ে আসবে তা কখনো কল্পনাই করিনি। পেছনে তাকালে তাই আমার গর্ব হয়। আপনাদের ধন্যবাদ। আমি লাখো মানুষের ভালোবাসাকে সঙ্গে নিচ্ছি। আর মেক্সিকোর হয়ে সবকিছু দিতে পেরে শান্তি অনুভব করছি।’

মেক্সিকোর হয়ে ২০০৫ সালে অভিষেক হয় ওচোয়ার। দীর্ঘ সময়ে ১৫৩ ম্যাচ গোলবারের নিচে দাঁড়ান তিনি। জাতীয় দলের হয়ে ৬টি কনকাকাফ গোল্ড কাপ জিতেছেন তিনি। সঙ্গে একটি কনকাকাফ নেশনস লিগও তার নামের পাশে আছে।

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor