বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

১৮৪ দেশ ভ্রমণ করে বিশ্বরেকর্ড নাজমুন নাহারের

প্রকাশিত: ০৪:০২, ১৬ জুলাই ২০২৬ |

বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা হাতে বিশ্বজুড়ে এক অনন্য ইতিহাস গড়লেন নাজমুন নাহার। প্রথম বাংলাদেশি এবং বিশ্বের প্রথম মুসলিম নারী হিসেবে ১৮৪টি দেশ ভ্রমণের ঐতিহাসিক রেকর্ড স্থাপন করেছেন এই সাহসী পরিব্রাজক।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের দেশ বাহামা ভ্রমণের মাধ্যমে তিনি এই মাইলফলক স্পর্শ করেন।
নাজমুন নাহারের এই অভিযাত্রা শুরু হয়েছিল ২০০০ সালে ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল অ্যাডভেঞ্চার প্রোগ্রামের মাধ্যমে। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময়ের এই যাত্রায় তিনি একে একে অতিক্রম করেছেন শত বাধা।

১০০তম দেশ : ১ জুন ২০১৮, ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত (জাম্বিয়া-জিম্বাবুয়ে সীমান্ত)।

১৫০তম দেশ : ৬ অক্টোবর ২০২১, সাওটোমে অ্যান্ড প্রিন্সিপ।

১৭৫তম দেশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪।

১৮৪তম দেশ : ডিসেম্বর ২০২৫, বাহামা।

১৮৪তম দেশ ভ্রমণের সময় বাহামার ফার্স্ট লেডি প্যাট্রিসিয়া মিনিস ব্যক্তিগতভাবে নাজমুন নাহারকে এই বিরল অর্জনের জন্য অভিনন্দন জানান।

নাজমুন নাহার কেবল ভ্রমণই করেননি, প্রতিটি দেশে তিনি পৌঁছে দিয়েছেন মানবিক বার্তা। তার মূল স্লোগান ছিল— ‘নো ওয়ার ওনলি পিস; সেভ দ্য প্লানেট, স্টপ চাইল্ড ম্যারেজ’। বিশ্বশান্তি, পরিবেশ রক্ষা এবং বাল্যবিবাহ রোধে তার এই প্রচার বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে।

অধিকাংশ দেশ সড়কপথে ভ্রমণ করা এই ‘সলো ট্রাভেলার’ অসংখ্যবার মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছেন। সাম্প্রতিক ভেনিজুয়েলা ভ্রমণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ভেনিজুয়েলা ভ্রমণ ছিল সবচেয়ে কষ্টকর ও অ্যাডভেঞ্চারাস।

সীমান্তে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জেরা আর পুলিশি নিয়ন্ত্রণ পার করে ১৭টি শহর দেখেছি। তবে আন্দিস পর্বতমালার মেঘ আর নীল সমুদ্রের সৌন্দর্য সব কষ্ট ভুলিয়ে দিয়েছে।’
২০২৫ সালের জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এই শেষ ধাপে তিনি সামোয়া, তিমুর লেস্তে, এন্টিগুয়া এন্ড বারবুডা, সেন্ট কিটস এন্ড নেভিস এবং ভেনিজুয়েলা সফর করেন।

লক্ষ্মীপুরের এই কৃতি সন্তান ২০০৬ সালে সুইডেনের লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রি এবং ২০১৫ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল ন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিউম্যান রাইটস বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন। পেশায় গবেষক ও মোটিভেশনাল স্পিকার নাজমুন তার মা’কে নিয়েও ১৪টি দেশ ভ্রমণ করেছেন। তার ভ্রমণের মূল প্রেরণা ছিল তার বাবা, দাদা এবং বই।

বিশ্বজুড়ে খ্যাতিমান এই পরিব্রাজক এখন পর্যন্ত ৬০টিরও বেশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মাননা পেয়েছেন।

পিস টর্চ বিয়ারার অ্যাওয়ার্ড (যুক্তরাষ্ট্র) : নেলসন ম্যান্ডেলা ও মাদার তেরেসার মতো ব্যক্তিত্বরা যে সম্মাননা পেয়েছেন, ২০১৯ সালে সেই একই সম্মাননা পান নাজমুন।

অন্যান্য পুরস্কার : পিস রানার অ্যাওয়ার্ড, অনন্যা শীর্ষ দশ, উইমেন এমপাওয়ারমেন্ট অ্যাওয়ার্ড (যুক্তরাজ্য), আতিশ দীপঙ্কর গোল্ড মেডেল এবং গেম চেঞ্জার অব বাংলাদেশ অ্যাওয়ার্ডসহ অসংখ্য সম্মাননা।

নাজমুন নাহার কেবল একজন ভ্রমণকারী নন, তিনি বাংলাদেশের এক জীবন্ত কিংবদন্তি। দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন—স্বপ্ন আর সাহস থাকলে সীমানা কোনো বাধা নয়। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে তিনি হয়ে থাকবেন এক অনুপ্রেরণার নাম।

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor