বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

ট্রাম্পের এক মন্তব্যে তিন মাসের মধ্যে ভারতের শেয়ারবাজারে বড় ধাক্কা

প্রকাশিত: ০৩:৫৪, ০৯ জুলাই ২০২৬ | ১২

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় ভারতের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তি ‘শেষ’ বলে মন্তব্য করার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। এর জেরে তেলের দাম লাফিয়ে বাড়ে, বিনিয়োগকারীদের আস্থায় ধাক্কা লাগে এবং বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে বিক্রির চাপ তৈরি হয়।

বুধবার (৮ জুলাই) ভারতের বেঞ্চমার্ক সূচক নিফটি ৫০ দিন শেষে ২ দশমিক ১২ শতাংশ কমে ২৩ হাজার ৮৮২ দশমিক ৫ পয়েন্টে নেমে আসে। একই সময়ে বিএসই সেনসেক্স ২ দশমিক ১৫ শতাংশ বা প্রায় ১ হাজার ৬৮০ পয়েন্ট হারিয়ে ৭৬ হাজার ৫০৩ দশমিক ৬ পয়েন্টে বন্ধ হয়। গত তিন মাসের মধ্যে এটিই ছিল উভয় সূচকের সবচেয়ে বড় একদিনের পতন।

হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকারে হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর পর ইরান জানায়, তারা বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায় এবং ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৬ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭৯ ডলারে পৌঁছে যায়।

এর প্রভাবে ইউরোপের স্টক্স ৬০০ সূচকও তিন মাসের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ দিনের পথে এগোয়। এশিয়ার বেশিরভাগ শেয়ারবাজারেও পতন দেখা যায় এবং যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারের ফিউচার প্রায় ১ শতাংশ কমে যায়।

ভারতীয় রুপির মান ডলারের বিপরীতে ০ দশমিক ৬২ শতাংশ কমে যায়। একই সঙ্গে সরকারি বন্ডের দাম কমে যাওয়ায় বেঞ্চমার্ক বন্ডের ফলন ৭ বেসিস পয়েন্টের বেশি বেড়ে ৬ দশমিক ৭৬৯২ শতাংশে পৌঁছায়।

বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক ও ভোক্তা দেশ হিসেবে তেলের দাম বৃদ্ধি ভারতের জন্য বড় চাপ সৃষ্টি করে। এতে আমদানি ব্যয় বাড়ে, মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বৃদ্ধি পায় এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি সরবরাহ ও তেলের মূল্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আবারও শেয়ার বিক্রি শুরু করতে পারেন, যা বাজার পুনরুদ্ধারের গতি কমিয়ে দিতে পারে।

এদিন আর্থিক ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের শেয়ার যথাক্রমে ২ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। বাজারের ১৬টি প্রধান খাতই লোকসানে ছিল। এছাড়া স্মল-ক্যাপ ও মিড-ক্যাপ সূচকেও উল্লেখযোগ্য পতন হয়েছে।

তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে মুনাফা কমে যাওয়ার আশঙ্কায় তেল বিপণন প্রতিষ্ঠান, রং প্রস্তুতকারী কোম্পানি, বিমান পরিবহন সংস্থা এবং টায়ার নির্মাতা কোম্পানিগুলোর শেয়ারেও বড় ধরনের দরপতন হয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor