বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে অনিবন্ধিত বা মেয়াদোত্তীর্ণ ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন না করার জন্য সাধারণ মানুষকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয় সতর্ক করে জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ট্রাভেল এজেন্সির বিরুদ্ধে মানবপাচার, প্রতারণা এবং ভুয়া ট্যুর প্যাকেজ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।
এসব ঘটনায় যাত্রীদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি নিরাপত্তা ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।
ড্রিম হোম ট্রাভেলস তদন্ত নিয়ে মন্ত্রণালয় জানায়, “ড্রিম হোম ট্রাভেলস” নামের একটি এজেন্সির মাধ্যমে বিদেশে মানবপাচারের অভিযোগ পাওয়া যায়। পরে যাচাই করে দেখা যায়, ওই এজেন্সির লাইসেন্সের মেয়াদ ২০২১ সালেই শেষ হয়ে গেছে। এরপরও তারা অবৈধভাবে কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলো।
এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বিষয়টি আলোচনায় আসে এবং যুক্তরাজ্য ওই এজেন্সির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞাও দেয় বলে দ্য ডেইলি স্টারের এক প্রতিবেদনে গত ৭ মে উল্লেখ করা হয়।
মন্ত্রণালয় আরো জানায়, দেশে অনেক ট্রাভেল এজেন্সি এখনো লাইসেন্স ছাড়াই ব্যবসা করছে, মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কার্যক্রম চালাচ্ছে, ভুয়া অফার দিয়ে গ্রাহকদের প্রতারণা করছে। এ ধরনের কার্যকলাপকে বেআইনি হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
ভ্রমণকারীদের নিরাপদ রাখতে মন্ত্রণালয় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছে।
নির্দেশনাগুলো শুধু নিবন্ধিত ও বৈধ ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে টিকিট বা ট্যুর প্যাকেজ কিনতে হবে। এজেন্সির লাইসেন্স আছে কি না তা আগে যাচাই করতে হবে। ট্রাভেল এজেন্সি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ব্যবহার করে যাচাই করা যাবে। অনিবন্ধিত এজেন্সির সঙ্গে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন করা যাবে না।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী ট্রাভেল এজেন্সি পরিচালনার জন্য নিবন্ধন বাধ্যতামূলক।
লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা করা অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় এবং এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্ত্রণালয়ের সতর্কবার্তার মূল লক্ষ্য হলো যাত্রীদের আর্থিক ক্ষতি থেকে রক্ষা করা, মানবপাচার রোধ করা, ট্রাভেল সেক্টরে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা।
সরকার জানায়, বিদেশ ভ্রমণের আগে একটু সতর্কতা অবলম্বন করলেই বড় ধরনের প্রতারণা থেকে বাঁচা সম্ভব। সে কারণে যেকোনো ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে লেনদেন করার আগে অবশ্যই তার বৈধতা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
Publisher & Editor