খাবার নষ্ট হওয়ার পেছনে মূল খলনায়ক অদৃশ্য কিছু ব্যাকটেরিয়া এবং খাবারের ভেতরে থাকা কিছু এনজাইম। এই অণুজীবগুলো সাধারণত ২৫ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় বেশি সক্রিয় থাকে।
এই উষ্ণতায় তারা অত্যন্ত দ্রুত বংশ বৃদ্ধি করে। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে একটি ব্যাকটেরিয়া থেকে কয়েক লাখ ব্যাকটেরিয়া তৈরি হয়, যা খাবার বিষাক্ত ও দুর্গন্ধযুক্ত করে তোলে। এখানেই ফ্রিজ তার জাদুকরী ভূমিকা পালন করে।
ফ্রিজের ভেতরের আদর্শ তাপমাত্রা সাধারণত ১ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখা হয়।
এই প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় অণুজীবগুলো মরে না গেলেও তাদের বিপাকীয় প্রক্রিয়া প্রায় থেমে যায়। তারা অনেকটা ‘শীতনিদ্রায়’ চলে যায়। সংখ্যাও বাড়াতে পারে না। ফলে খাবার পচনের গতি বহুগুণ কমে যায়।
আবার ফ্রিজার বা ডিপ ফ্রিজের ক্ষেত্রে তাপমাত্রা থাকে মাইনাস ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে। এই তীব্র হিমাঙ্কে জীবাণুগুলো একেবারেই কাজ করতে পারে না। জলীয় অংশ বরফে পরিণত হওয়ায় ব্যাকটেরিয়াদের বেঁচে থাকার রসদ ফুরিয়ে যায়। ফ্রিজ এই ঠাণ্ডা পরিবেশ তৈরি করে মূলত তাপ নিষ্কাশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। আমরা যখন ফ্রিজে কোনো খাবার রাখি, তখন ফ্রিজের ভেতর দিয়ে বয়ে চলা বিশেষ একটি গ্যাস (রেফ্রিজারেন্ট) সেই খাবারের যাবতীয় গরম বা তাপ শুষে নেয়।
এরপর একটি কম্প্রেসরের সাহায্যে সেই তাপ পেছনের পাইপ বা কয়েলের মাধ্যমে বাইরে বের করে দেয়। এভাবে ভেতরের পরিবেশ ক্রমাগত শীতল হয়ে ওঠে। শীতল তাপমাত্রার পাশাপাশি আধুনিক ফ্রিজগুলো বাতাসের আর্দ্রতাও নিয়ন্ত্রণ করে। বিশেষ করে শাক-সবজি ও ফলের ভেতরে যে এনজাইমগুলো থাকে, সেগুলো কম তাপমাত্রায় নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। ফলে সবজির কোষগুলো সহজে ভাঙে না এবং সতেজতা বজায় থাকে। মূলত ব্যাকটেরিয়ার অলসতা, এনজাইমের ধীরগতি এবং তাপ অপসারণ—এই তিনের সমন্বয়েই ফ্রিজ খাবারকে খাওয়ার উপযোগী রাখে। তথ্যসূত্র : হাউ স্টাফ ওয়ার্কস
Publisher & Editor