মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬

যুদ্ধবিরতিতে রাজি ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ

প্রকাশিত: ০৩:৩৮, ০২ জুন ২০২৬ |

লেবানন সীমান্তে দীর্ঘ দিন ধরে চলমান তীব্র রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটাতে অবশেষে নতুন এক যুদ্ধবিরতি সমঝোতার ইঙ্গিত মিলেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি একটি বিশেষ শান্তি প্রস্তাবের ভিত্তিতে ইসরায়েলের মূল ভূখণ্ডে সব ধরনের রকেট ও ড্রোন হামলা বন্ধ করতে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজি হয়েছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। 

এর বিনিময়ে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে আর কোনো নতুন বিমান বা স্থল হামলা না চালানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সম্মতি দিয়েছে ইসরায়েলি প্রশাসন। তবে আন্তর্জাতিক এই দ্বিপাক্ষিক সম্মতির মধ্যেও দুই দেশের সীমান্ত এলাকায় বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ ও গোলাগুলি অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে। 

সোমবার (১ জুন) রাতে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত লেবাননের দূতাবাস এক জরুরি বিবৃতিতে জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের পারস্পরিক হামলা বন্ধের প্রস্তাবটি হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতৃত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেছে। এই প্রস্তাবিত ব্যবস্থার প্রাথমিক আওতায় বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরগুলোতে চলমান সমস্ত ইসরায়েলি সামরিক হামলা বন্ধ হবে এবং এর বদলে হিজবুল্লাহও ইসরায়েলের বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা থেকে বিরত থাকবে। 

লেবানন সরকার আশা প্রকাশ করেছে, এই প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি পরবর্তীতে ধাপে ধাপে লেবাননের পুরো ভূখণ্ডে সম্প্রসারিত করা হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এই সমঝোতার বিষয়টি নিশ্চিত করে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং হিজবুল্লাহর উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাঁর ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে এবং তারা সব ধরনের গোলাগুলি বন্ধে একমত হয়েছেন।

তবে এই সমঝোতা নিশ্চিত করার পরও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একটি কড়া সতর্কবার্তা জারি করে বলেছেন, হিজবুল্লাহ যদি আমাদের শহরগুলোর ওপর আকস্মিক রকেট হামলা পুরোপুরি বন্ধ না করে, তবে বৈরুতে আইডিএফের বোমাবর্ষণ অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী বা আইডিএফ পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী দক্ষিণ লেবাননের সীমান্ত এলাকায় তাদের বিশেষ স্থল অভিযান সাময়িকভাবে চালিয়ে যাবে। 

এদিকে ট্রাম্প উভয় পক্ষের সম্মতির কথা ঘোষণা করার পরপরই উত্তর ইসরায়েলের দুটি গ্রামের কাছে হিজবুল্লাহর ড্রোন ও কামিকাজে রকেট হামলায় ইসরায়েলি ট্যাংক ও পদাতিক সেনারা লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। বিপরীতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, লেবানন থেকে ছোঁড়া দুটি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তারা আকাশেই প্রতিহত করেছে এবং লেবাননের দেব্বিন শহরে একটি শক্তিশালী বিমান হামলা চালিয়েছে।

এর আগে লেবাননে ইসরায়েলের এই আগ্রাসী সামরিক কর্মকাণ্ডের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সতর্ক করেছিলেন যে, একটি ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন মানে সব ফ্রন্টেই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন। এমনকি তেহরানের আধা-সরকারি তাসনিম বার্তাসংস্থা জানিয়েছিল, লেবাননে হামলা বন্ধ না হলে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান পরোক্ষ শান্তি আলোচনা স্থগিত করবে এবং লোহিত সাগরের প্রবেশমুখে অবস্থিত বাব আল-মান্দাব প্রণালিসহ অন্যান্য প্রতিরোধ ফ্রন্ট সক্রিয় করবে। 

উদ্ভূত পরিস্থিতির মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরানের সঙ্গেও তাদের আন্তর্জাতিক আলোচনা বর্তমানে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে, বৈরুতের দিকে অগ্রসরমাণ ইসরায়েলি সেনাদের ইতিমধ্যেই ফিরিয়ে আনা হয়েছে এবং দুই পক্ষই এখন পারস্পরিক আক্রমণ না করার নীতিতে স্থির রয়েছে। তথ্যসূত্র: বিবিসি

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor