শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

ইতিহাস থেকে মাত্র এক জয় দূরে আর্সেনাল, মাঝে দাঁড়িয়ে পিএসজি

প্রকাশিত: ০২:৩২, ৩০ মে ২০২৬ |

ইউরোপের শীর্ষ মঞ্চে আর্সেনালের ফিরে আসার দীর্ঘ পথটি শনিবার এক চূড়ান্ত রাতে রূপ নিতে যাচ্ছে। তারা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের (পিএসজি) মুখোমুখি হবে। প্রথম শিরোপা জয়ের লক্ষ্য তাদের, যা মিকেল আর্তেতার হাত ধরে গড়া ক্লাবের এই নবজাগরণকে পূর্ণতা দেবে। আজ সনি স্পোর্টস ২-তে বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচারিত হবে।

লন্ডনের এই ক্লাবটি গত সপ্তাহে ম্যানচেস্টার সিটিকে পেছনে ফেলে ২২ বছরের মধ্যে তাদের প্রথম প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জয় করেছে। অবশেষে আর্তেতার কাঁধে চেপে থাকা ‘তীরে এসে তরী ডোবা দলের’ তকমাটি ঝেড়ে ফেলতে পেরেছে তারা।

প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা এনে দেওয়ার অস্বস্তিকর চাপ এখন কেটে গেছে। তারা এখন একটি ‘বোনাস’ ট্রফির খোঁজে নামবে, যা আর্সেন ওয়েঙ্গারের ২০০৩-০৪ মৌসুমের কিংবদন্তিতুল্য ‘অজেয়’ দলের কীর্তিকেও ছাড়িয়ে নিয়ে যাবে।

বুদাপেস্টে লুইস এনরিকের দুর্দান্ত পিএসজি দলের বিপক্ষে তারা একটি কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে—যে দলটি নজরকাড়া শৈলী, বুদ্ধিমত্তা ও কঠোর পরিশ্রমের এক বিরল মিশ্রণ।

২০০৬ সালে নিজেদের একমাত্র ফাইনালে ফ্রাঙ্ক রাইকার্ডের বার্সেলোনার কাছে হেরে যাওয়ার মতোই এবারও আর্সেনাল সামান্য পিছিয়ে থেকে আন্ডারডগ হিসেবে ম্যাচ শুরু করবে। তবে বড় মঞ্চে আর্সেনালের পারফর্ম করার ক্ষমতা নিয়ে কারও মনে কোনো সন্দেহ থাকা উচিত নয়।

রক্ষণাত্মক দৃঢ়তা এবং সেট পিসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার কারণে আর্সেনালের খেলার ধরন হয়তো সবার পছন্দ নাও হতে পারে। তবে সাবেক কোচ জর্জ গ্রাহামের আমলের সেই পুরোনো স্লোগান ‘১-০ টু দ্য আর্সেনাল’ এখন আবার গর্ব নিয়ে গাওয়া হচ্ছে।

প্রিমিয়ার লিগে এই স্কোরে আটটি জয় এসেছে, যেখানে আর্সেনাল ১৯টি ম্যাচে কোনো গোল খায়নি। অন্যদিকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তারা প্রতিযোগিতার সর্বোচ্চ ৯টি ম্যাচে কোনো গোল হজম করেনি এবং ১৪টি অপরাজিত ম্যাচে মাত্র ৬টি গোল খেয়েছে।

বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজি যখন ফুটবলপ্রেমীদের আনন্দ দিচ্ছে, তখন আর্সেনাল তাদের বাস্তবমুখী খেলার ধরনের কারণে সমালোচিত হলেও সমালোচকদের কথায় পাত্তা দেয়নি। শনিবারের ফাইনালেও তাদের এই অভেদ্য ফর্মুলায় কোনো পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

‘প্রথম গোলটিই মূল চাবিকাঠি হতে যাচ্ছে,’ ফাইনালের দিকে তাকিয়ে সাবেক আর্সেনাল মিডফিল্ডার পল মার্সন বলেন। তার আরও কথা, ‘পিএসজি আর্সেনালের কাছে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়া নিয়ে চিন্তিত থাকবে, কারণ তারা জানে যে তখন পরিস্থিতি কতটা কঠিন হয়ে উঠবে—তারা প্রথম গোলটি হজম করতে ভয় পাবে।’

২০০৬ সালে বার্সেলোনার কাছে ২-১ ব্যবধানে হারের তিন বছর পর আর্সেনাল সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছেছিল। এরপর ইউরোপের অভিজাতদের মাঝে তারা যেন কেবল সংখ্যা বাড়ানোর জন্যই খেলছিল—টানা সাতবার শেষ ১৬ থেকে বিদায় নেওয়ার পর পরবর্তী পাঁচ মৌসুমে তারা এই প্রতিযোগিতায় খেলার যোগ্যতা অর্জন করতেই ব্যর্থ হয়।

এমনকি আর্তেতা ২০১৯ সালে ক্লাবের ম্যানেজার হিসেবে ফিরে আসার পরও ইউরোপের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই ক্লাব টুর্নামেন্টে আর্সেনালের নিজেদের পুনর্প্রতিষ্ঠা করতে কিছুটা সময় লেগেছিল। কিন্তু তারপর থেকে তাদের অগ্রগতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

দুই বছর আগে কোয়ার্টার ফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে সামান্য ব্যবধানে হেরে যাওয়ার পর, গত মৌসুমে তারা সেমিফাইনালে পৌঁছায়; তবে সেখানে লুইস এনরিকের পিএসজির কাছেই দুটি হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের লেগে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল।

স্প্যানিশ কোচ আর্তেতা এক বছরেরও বেশি সময় আগের সেই তিক্ত পরাজয়ের পর গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে দাবি করেছিলেন যে সেই হার তার দলকে ইউরোপ জয় করার জন্য আরও বেশি ক্ষুধার্ত করে তুলবে।

এখন তাদের সামনে সুযোগ এসেছে অতীতের ভুল-ত্রুটি শুধরে নেওয়ার এবং ইউরোপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে ‘তীরে এসে তরী ডোবা দল’ তকমা পুরোপুরি মুছে ফেলার। 

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor