শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

বাবার এক ফোনেই বিশ্বকাপ দল থেকে বাদ ছেলে

প্রকাশিত: ১১:১৪, ১৬ মে ২০২৬ |

প্রত্যেক খেলোয়াড়েরই স্বপ্ন বিশ্বকাপে খেলা। তেমনি এক সুযোগ পেয়েছেন তিউনিসিয়ার লুই বেন ফারহাত।

তবে উদীয়মান তারকার স্বপ্ন পূরণে বাদ সাধলেন তার বাবা। কোচকে ফোন দিয়ে তার বাবা জানিয়েছেন, ছেলেকে যেন স্কোয়াডে রাখা না হয়। অথচ, ছেলে বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়ায় খুশি হওয়ার কথা বাবার।
শেষ পর্যন্ত স্বপ্নকে বিসর্জন দিয়ে বাবার সিদ্ধান্তই মেনে নিলেন ফারহাত।

 ২০২৬ বিশ্বকাপে দেশের হয়ে না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তরুণ ফুটবলার। সরে যাওয়ার স্পষ্টত কারণ জানা না গেলেও তিউনিসিয়ার একাধিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, খারাপ পারফরম্যান্সের কারণে জার্মান লিগে সম্ভাব্য দলবদল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এই আশঙ্কা থেকেই সরে গেছেন তিনি।
এই সিদ্ধান্তে দেশটির ফুটবল অঙ্গনে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা। সমর্থকদের একাংশ বিস্মিত, অন্য অংশ ক্ষুব্ধ।

বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে এমন ঘটনায় অস্বস্তিতে পড়েছে তিউনিসিয়া শিবিরও।
সম্প্রতি তিউনিসিয়া জাতীয় দলের সর্বশেষ অনুশীলন ক্যাম্পে ছিলেন লুই বেন ফারহাত। কোচ সাবরি লামুশির পরিকল্পনায়ও ছিলেন তিনি। তবে শুক্রবার সকালে হঠাৎ করেই পরিস্থিতি বদলে যায়।

সংবাদ সম্মেলনে সাবরি লামুশি জানান, সকালে ফুটবলারের বাবার কাছ থেকে ফোন পান তিনি।

সেখানে জানানো হয়, এখনই জাতীয় দলে বিশ্বকাপ খেলার জন্য প্রস্তুত নন বেন ফারহাত এবং তিনি দলে যোগ দেবেন না।
ঘটনায় নিজের ক্ষোভও লুকাননি তিউনিসিয়া কোচ। লামুশি বলেন, ‘আজ সকালে লুই বেন ফারহাতের বাবার ফোন পাই। তিনি বলেন, এখনই তাকে জাতীয় দলে নেওয়ার সময় হয়নি এবং তারা রাজি নন। আমি বিস্মিত হয়েছি। পরে আমি লুইকে ফোন করি, সে ধরেনি। আবার তার বাবাকে ফোন করি, তিনিও ধরেননি। এটা অসম্মানজনক আচরণ। এই অধ্যায় এখানেই শেষ।’

তিউনিসিয়ার সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, খেলোয়াড়ের পরিবার আশঙ্কা করছে বিশ্বকাপে হতাশাজনক পারফরম্যান্স হলে জার্মান বুন্দেসলিগায় সম্ভাব্য ট্রান্সফার বাধাগ্রস্ত হতে পারে। বর্তমানে কার্লসরুহের হয়ে খেলছেন বেন ফারহাত এবং জার্মানির বেশ কয়েকটি ক্লাব তাকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানা গেছে।

তবে জাতীয় দলের ডাকে সাড়া না দেওয়ার সিদ্ধান্ত সহজভাবে নিচ্ছেন না সমর্থকেরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই এটিকে দেশের প্রতি দায়বদ্ধতার অভাব হিসেবে দেখছেন। আবার কেউ কেউ বলছেন, নিজের ক্যারিয়ারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অধিকার একজন খেলোয়াড়ের রয়েছে। 

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor