মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬

বিজেপি নয়, তৃণমূলের লড়াই ছিল নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে: মমতা

প্রকাশিত: ০৭:২১, ০৫ মে ২০২৬ |

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের অভাবনীয় ও শোচনীয় পরাজয়ের পর এক সংবাদ সম্মেলনে নিজের বিস্ফোরক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 

নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক মন্তব্যে তা আরও ঘনীভূত হয়েছে। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে এবারের নির্বাচনে তৃণমূলের লড়াই কোনো রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে ছিল না, বরং তাদের লড়াই করতে হয়েছে খোদ ভারতের নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিরুদ্ধে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে তীব্র আক্রমণ করে বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার রাষ্ট্রীয় যন্ত্র এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহার করে নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করেছে। 

তার দাবি, বিজেপি নির্বাচনের ময়দানে রাজনৈতিকভাবে জয়ী হয়নি, বরং নির্বাচন কমিশনকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের নির্ঘণ্ট তৈরি থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েন এবং বুথ পর্যায়ের ব্যবস্থাপনায় কমিশনের প্রতিটি পদক্ষেপ ছিল শাসকদলের অনুকূলে, যা তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য একটি অসম প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করেছিল।

বিপুল জনসমর্থন থাকা সত্ত্বেও কেন এমন বিপর্যয় ঘটল— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমাদের লড়াইটা যদি বিজেপির সাথে হতো, তবে মানুষ তার যোগ্য জবাব দিত। কিন্তু যখন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানই নিরপেক্ষতা হারিয়ে একটি নির্দিষ্ট দলের হয়ে কাজ করে, তখন গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়ে। আমাদের লড়াই ছিল ইসি-র অন্যায্য সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে।

তিনি অভিযোগ করেন, অনেক ক্ষেত্রেই তার দলের কর্মী-সমর্থকদের ভয় দেখানো হয়েছে এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশে প্রশাসনিক স্তরে রদবদল ঘটিয়ে তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তিকে দুর্বল করার চেষ্টা চালানো হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের এই নির্বাচনে তৃণমূলের এই বিশাল পতন বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন মোড় নিয়ে এসেছে। একদিকে বিজেপি এই জয়কে তৃণমূলের কুশাসন এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনগণের চূড়ান্ত রায় হিসেবে দেখছে, অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই কড়া অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে তিনি এখনই পরাজয় মেনে নিয়ে মাঠ ছাড়ছেন না। বরং নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি এই লড়াইকে আইনি ও রাজনৈতিকভাবে আরও দীর্ঘস্থায়ী করার বার্তা দিয়েছেন। 

বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর এমন অভিযোগের পর রাজ্য রাজনীতিতে এখন কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে জাতীয় পর্যায়ে বিতর্কের ঝড় উঠেছে।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে।

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor