ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র যদি শান্তি আলোচনায় ফিরতে চায়, তাহলে তিন ধাপের একটি আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। তেহরানের দেওয়া নতুন শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে যুদ্ধের অবসান, হরমুজ প্রণালীর ব্যবস্থাপনা এবং পারমাণবিক ইস্যু।
স্থানীয় গণমাধ্যমে আল মাদায়িনের তথ্য অনুযায়ী, ইরান মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে জানায়- আলোচনা পুনরায় কার্যকরভাবে শুরু করতে হলে ওয়াশিংটনকে তিনটি ধাপ অতিক্রম করতে হবে।
এর আগে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত এ ধরনের দ্বিতীয় দফার আলোচনা ভেস্তে যায়।
প্রথম ধাপ:
যুদ্ধের সম্পূর্ণ অবসান এবং ইরান ও লেবাননের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে যুদ্ধ পুনরায় শুরু না হওয়ার নিশ্চয়তা দিতে হবে।
দ্বিতীয় ধাপ:
প্রথম ধাপের শর্তে সম্মতি হলে, পরবর্তী পর্যায়ে পক্ষগুলো গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক সংকীর্ণ পথ হরমুজ প্রণালীর ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসন নিয়ে আলোচনা করবে।
তৃতীয় ধাপ:
শুধুমাত্র আগের দুই ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পরই ইরান পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনায় বসবে। এটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে তেহরানের কাছে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ এবং বিদ্যমান মজুদ দেশ থেকে সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে।
এই প্রস্তাবের জবাবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে বলেন, ‘এগুলো অত্যন্ত সংবেদনশীল কূটনৈতিক আলোচনা। যুক্তরাষ্ট্র সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে এ বিষয়ে আলোচনা করবে না। প্রেসিডেন্ট যেমন বলেছেন, ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু যুক্তরাষ্ট্রই এবং কেবল এমন একটি চুক্তিতেই রাজি হবে, যা আমেরিকানদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেবে এবং ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেবে না।’
প্রস্তাবিত এই কাঠামো এমন এক সময়ে এসেছে, যখন পাকিস্তানে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার দ্বিতীয় দফা ব্যর্থ হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি দুই বার পাকিস্তান সফর করলেও ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তার দূতদের জন্য আর ১৮ ঘণ্টার বিমানযাত্রার প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, ফোনে কথা বলে আলোচনা সবসময়ই করা যেতে পারে।
আরাঘচি এর আগে কৌশলগত ওমান সফর করেন, যা হরমুজ প্রণালীর অপর পারে অবস্থিত।
এরপর রবিবার (২৭ এপ্রিল) সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য তিনি আবার ইসলামাবাদ যান। সেখান থেকে তিনি রাশিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তার বৈঠকের কথা রয়েছে।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প সোমবার তার জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সিচুয়েশন রুমে বৈঠক করবেন। ওই বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের সবশেষ পরিস্থিতি এবং ইরানের প্রস্তাবিত আলোচনার কাঠামো নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি
Publisher & Editor