শরীরের কোথাও ব্যথা হলে আমরা অনেকেই সেটাকে ‘পেশির টান’ ভেবে ভুল করি। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, পেশির ব্যথা আর স্নায়ুর (নার্ভ) ব্যথার মধ্যে বড় পার্থক্য আছে। সঠিক সময়ে এটি ধরতে না পারলে বড় বিপদ হতে পারে। আপনার ব্যথাটি ঠিক কেমন, তা খেয়াল করলেই এর উৎস বোঝা সম্ভব।
চলুন, জেনে নিই।
স্নায়ুর ব্যথা (নার্ভ পেইন): এই ব্যথা অনেকটা বৈদ্যুতিক শকের মতো বা জ্বালাপোড়া অনুভূতির মতো হয়। এটি শরীরের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে (যেমন কোমর থেকে পা পর্যন্ত)। এর সঙ্গে ঝিনঝিন করা, পিন ফোটার মতো অনুভূতি বা এলাকাটি অবশ হয়ে যাওয়ার লক্ষণ দেখা দেয়।
পেশির ব্যথা (মাসল পেইন): পেশির ব্যথা সাধারণত একটি নির্দিষ্ট জায়গাতেই থাকে। এটি নড়াচড়া করলে বা আক্রান্ত স্থানে হাত দিলে বাড়ে। সাধারণত শরীরচর্চা বা ভারী কাজের পর এই ধরনের খিঁচ ধরা বা কামড়ানো ব্যথা হয়।
কেন এমন ব্যথা হয়?
স্নায়ুর ব্যথা: মেরুদণ্ডের ডিস্কের সমস্যা (যেমন সায়াটিকা), ডায়াবেটিস বা স্নায়ুর ওপর অতিরিক্ত চাপের কারণে হতে পারে।
পেশির ব্যথা: ভুল ভঙ্গিতে বসা, অতিরিক্ত পরিশ্রম, চোট পাওয়া বা শরীরে পানির অভাব (ডিহাইড্রেশন) থেকে হয়।
কখন দ্রুত ডাক্তারের কাছে যাবেন?
সাধারণ পেশির ব্যথা বিশ্রাম নিলে বা সাধারণ ওষুধে ১-২ সপ্তাহের মধ্যে সেরে যায়। তবে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দেরি করবেন না:
১। ব্যথা যদি এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে।
২। শরীরের কোনো অংশ অসাড় বা শক্তিহীন হয়ে পড়লে।
৩। চলাফেরায় ভারসাম্য হারিয়ে ফেললে।
৪। ব্যথার সঙ্গে প্রস্রাব বা মলত্যাগের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে (এটি জরুরি অবস্থা)।
৫। বিশ্রাম নেওয়ার পরেও ব্যথা না কমলে বা রাতে ব্যথা অসহ্য হয়ে উঠলে।
দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা চেপে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। ব্যথা যদি আপনার স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বাধা দেয়, তবে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
Publisher & Editor