বিনোদন জগতের জনপ্রিয় অভিনেত্রী বিপাশা হায়াত বর্তমানে পর্দার আড়ালে চলে গেছেন। এক সময়ের মঞ্চ থেকে টিভি ও সিনেমায় অভিনয় করে মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন তিনি। শুধু অভিনেত্রীই নয়; নাট্যকার ও চিত্রশিল্পী হিসেবেও সুনাম কুড়িয়েছেন। বর্তমানে অভিনেত্রী স্বামী-সংসার নিয়ে দূর প্রবাসে জীবনযাপন করছেন। এখন দূর দেশে আঁকাআঁকি নিয়েই অধিক সময় কাটান তিনি।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরেছেন বিপাশা হায়াত। একটি পডকাস্টে এক সাক্ষাৎকারে নানা বিষয়ে কথা বলেছেন অভিনেত্রী। এর পাশাপাশি সিনেমায় অভিনয় নিয়ে নানা ঘটনা ভক্তদের সঙ্গে শেয়ার করে নেন বিপাশা হায়াত।
অভিনেত্রী বিপাশা হায়াতকে এখন আর অভিনয়ে দেখা যায় না গেলেও দর্শকদের প্রিয় তারকাকে অভিনয়ে দেখতে না পেয়ে খানিকটা অভিমান। এর আগে অভিনয় থেকে নিজেকে দূরে রাখার বিষয়ে অভিনেত্রী জানিয়েছিলেন— তিনি অভিনয়কে ভালোবাসেন কিন্তু সমাজের প্রতি তার দায়বদ্ধতা আছে।
বিপাশা হায়াত বলেন, নাটক তার কাছে পরিপূর্ণ এক শিল্প, যেখানে বাণিজ্য অবশ্যই থাকবে। কিন্তু একটা সময় তার মনে হয়েছে বাণিজ্যই আসল শিল্প নয় এবং সবাই অনেক বেশি কম্প্রোমাইজ করছেন। তখন সিরিয়াসলি ছবি আঁকতে শুরু করেন তিনি। কারণ আর্ট প্র্যাকটিস শতভাগ সময় দাবি করে এবং এভাবেই অভিনয় থেকে দূরে সরে গেছেন বলে জানান অভিনেত্রী।
‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার প্রস্তাব এবং সেই সময়ে বলিউড থেকেও প্রস্তাব পাওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বিপাশা হায়াত বলেন, বলিউডের যে প্রস্তাব এসেছিল, সেটি এত আগে নয় আরও পরে। বলিউডের সিনেমায় পার্শ্বচরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব এসেছিল তার কাছে। সিনেমাটির নাম মনে করতে না পারলেও যে লোক ফোন করেছিলেন, সেই ফোন নাম্বার এখনো তার মোবাইল ফোনে সেভ করা আছে এবং তার সঙ্গে কয়েকবার কথাও হয়েছে বলে জানান বিপাশা হায়াত।
বলিউড সিনেমার প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়া প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেন, তখন তার মনে হয়েছিল তিনি তার দেশের মানুষকে কখনো ছোট করবেন না। তার দেশের মানুষ তাকে যেভাবে ভালোবাসে এবং দর্শকরা যেভাবে নিয়েছেন, সেই দর্শক যদি দেখেন ওখানে যাওয়ার জন্য যেনতেন একটি চরিত্রে অভিনয় করছেন, আসলে তিনি তা করতে পারেন না।
অভিনেত্রী বলেন, তারকা নয়; বরং তিনি পাবলিক ফিগার বলছেন। এই পাবলিক ফিগার হয়ে ওঠার অনেক বড় একটি দায়িত্ব রয়েছে এবং প্রত্যেকটি কাজের মাধ্যমে সেই দায়িত্ববোধ বহন করা উচিত, যা তিনি বহন করতে চান।
বিপাশা হায়াত বলেন, মানুষের ভালোবাসা ভীষণ স্বর্গীয়। এই পৃথিবীতে যত যুদ্ধবিগ্রহ কোন্দল ও মারামারি-কাটাকাটি সবই ভালোবাসার অভাবে। সুতরাং মানুষের ভালোবাসা হচ্ছে পৃথিবীতে সবচেয়ে মূল্যবান এবং এ জায়গা থেকে তার মনে হয়নি বাংলাদেশের চাইতে ওখানে গিয়ে ভালো কিছু করতে পারবেন।
Publisher & Editor