শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬

মার্কিন বাহিনীর তদন্তে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত

প্রকাশিত: ১০:৪২, ০৭ মার্চ ২০২৬ |

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনাব শহরের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে ভয়াবহ হামলা চালানো হয়। এই ঘটনায় প্রায় ১৬৫ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। এই হামলায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর সংশ্লিষ্টতার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব তদন্তকারীরা।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটির সঙ্গে মার্কিন বাহিনীর সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে তদন্ত এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি এবং পূর্ণাঙ্গ সিদ্ধান্তে আসার আগে আরও তথ্যপ্রমাণ যাচাই করা হচ্ছে।

তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে মার্কিন কর্মকর্তারা এখনই বিস্তারিত কিছু জানাতে চাননি। কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল কিংবা কেন এই হামলা চালানো হয়েছিল—এসব বিষয়েও স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। 

গত বুধবার মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, সামরিক বাহিনী ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। একই সঙ্গে কর্মকর্তারা বলেছেন, নতুন কোনো প্রমাণ সামনে এলে দায় অন্য পক্ষের ওপরও যেতে পারে। তবু বর্তমানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় রয়েছে।

মিনাব শহরের ওই বালিকা বিদ্যালয়টি গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রথম দিনেই আক্রান্ত হয়। জেনেভায় জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আলী বাহরাইনি জানিয়েছেন, হামলায় প্রায় ১৬৫ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। তবে রয়টার্স স্বতন্ত্রভাবে এই সংখ্যা নিশ্চিত করতে পারেনি।

উপগ্রহ চিত্র ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্কুলটির পাশেই ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর একটি স্থাপনা ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, ওই সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালাতে গিয়ে স্কুলটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

পেন্টাগন ও হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, ফলে ঘটনাটি নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই গেছে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এক বিবৃতিতে বলেছেন, প্রতিরক্ষা বিভাগ বিষয়টি তদন্ত করছে। যুক্তরাষ্ট্র কখনোই বেসামরিক মানুষ বা শিশুদের লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালায় না।

একইভাবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইচ্ছাকৃত হামলা যুক্তরাষ্ট্রের নীতির পরিপন্থী। তবে তদন্তে যদি মার্কিন সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত হয়, তাহলে এটি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অভিযানের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ বেসামরিক প্রাণহানির ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ করে জানিয়েছেন, স্কুলটি এবং পাশের আইআরজিসি স্থাপনাটি সম্ভবত আকাশপথ থেকে নিক্ষিপ্ত শক্তিশালী বিস্ফোরকের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা বেসামরিক স্থাপনায় হামলা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এরই মধ্যে জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর ঘটনাটির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। গত মঙ্গলবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে নিহত শিক্ষার্থীদের জানাজার করুণ দৃশ্য প্রচার করা হলে তা বিশ্বজুড়ে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করে।

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor