শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

শিউলি, শাপলা আর বক

প্রকাশিত: ০৭:৪২, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ |

শরতের স্নিগ্ধ সকাল। শিউলি ফুলের হালকা মিষ্টি ঘ্রাণে ভরে আছে বাতাস। টলটলে শান্ত পুকুরে ফুটে আছে অনেক শাপলা ফুল। একদল বক দূরে উড়ে যাচ্ছে নীল আকাশে।

সাদা তুলার মতো মেঘেরা অলস ভঙ্গিতে ভেসে বেড়াচ্ছে এদিক-সেদিক।
পুকুরঘাটের শিউলিগাছ থেকে টুপটাপ করে ফুল ঝরছে। সেই মিষ্টি গন্ধে ম ম করছে চারদিক। দূরে ধানের ক্ষেতের ওপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছে একদল বক।

এক টুকরা সাদা মেঘ শিউলি ফুলকে বলল, ‘কি গো শিউলি, আজ তোমাকে খুব খুশি মনে হচ্ছে?’
শিউলি মৃদু হেসে উত্তর দিল, ‘হ্যাঁ মেঘ ভাই, শরতের এই স্নিগ্ধ সকাল আমার খুব প্রিয়। তোমাদের ভেসে বেড়ানো দেখতেও ভালো লাগে।’

একদল বক তখন পুকুরপাড়ে নামছিল, তাদের মধ্যে একজন বলে উঠল, ‘এ সময়টা আমাদেরও খুব ভালো লাগে। খাবার থাকে প্রচুর আর আবহাওয়াও আরামদায়ক।

পুকুরের বুকে ফুটে থাকা শাপলা ফুলেরা এতক্ষণ চুপচাপ শুনছিল। হঠাৎ এক ব্যাঙ পাড়ের কচুরিপানার পাশ থেকে লাফ দিয়ে পানিতে নেমে বলল, ‘আর আমাদের কথা ভাবো! এই ঠাণ্ডা জলে থাকাটাই তো আরাম।’

শাপলা ফুল সায় দিয়ে বলল, ‘ঠিক বলেছ ব্যাঙ ভাই। এই জলই আমাদের জীবন, আমাদের আশ্রয়।’ তাদের এই কথোপকথনের মধ্যেই পুকুরঘাটে এসে হাজির হলো ছোটন আর তার ছোট বোন অদিতি।

শাপলা তোলার জন্য এসেছে তারা।
ছোটন দিদিকে বলল, ‘দেখ অদিতি, কত সুন্দর শাপলা ফুটেছে! একদম টাটকা।’

অদিতি আনন্দে আত্মহারা হয়ে বলল, ‘হ্যাঁ। চল, আমরা শাপলাগুলো তুলি। মা লাল শাপলার ডাঁটা খুব ভালোবাসে।’

তারা শাপলা তোলার জন্য জলে হাত বাড়াল। শাপলা ফুলেরা চমকে উঠল একটু। ব্যাঙটা তো ভয়ে এক লাফে কচুরিপানার আড়ালে লুকিয়ে পড়ল। মেঘেরা ওপর থেকে দেখছিল সব। এক মেঘ আরেক মেঘকে ফিসফিস করে বলল, ‘দেখো, ওরা শাপলা তুলতে এসেছে।’

শিউলিগাছ থেকে একটা ফুল টুপ করে পড়ল ছোটনের পায়ের কাছে। শিউলি ভাবল, ‘ইস, শাপলাগুলো আজ আর পুকুরের শোভা বাড়াতে পারল না।’

বকগুলো উড়তে উড়তে তাদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। এক বক বলে উঠল, ‘শাপলাগুলো উঠিয়ে নিয়ে চলে যাবে, কিন্তু আবার নতুন শাপলা ফুটবে। এটাই তো প্রকৃতির নিয়ম।’

ছোটন আর অদিতি সাবধানে বেশ কিছু শাপলা তুলল। ভাই-বোন যখন হাত ভরে শাপলা নিয়ে হাসিমুখে বাড়ি ফিরছিল, তখনো মেঘ, শিউলি আর বকেরা দেখছিল এসব। শাপলা আর ব্যাঙ অবশ্য কিছুটা মনমরা হয়ে থাকল। আবার নতুন ফুল ফুটবে, পুকুর আবার শাপলার হাসিতে ভরে উঠবে ভেবে তারা শান্ত হলো একটু।

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor