ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে এক ভারতীয় নাগরিককে আটক করা হয়েছে। মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই, যা আইস নামেও পরিচিত) জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম ভোদেলা যশস্বী কোত্তাপল্লি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে বসবাস করছেন।
মার্কিন অভিবাসন আইন অনুযায়ী কোত্তাপল্লিকে দেশ থেকে বের করে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তাঁর বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন ছাড়াও দোকান থেকে চুরি এবং জনশৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আইসিই জানিয়েছে, ‘ভারত থেকে আসা অপরাধী ভোদেলা যশস্বী কোত্তাপল্লি যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে বসবাস করছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে নিউ জার্সিতে যৌন নির্যাতন ও চুরির মামলা রয়েছে। তাঁকে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমরা তাঁকে হেফাজতে রাখব।’
কোত্তাপল্লিকে ‘শিশু ধর্ষক’ হিসেবে আখ্যায়িত করে আইসিইর পোস্টে লেখা হয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে ১৩ বছরের কম বয়সী এক শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে।
তবে ভারতীয় ওই নাগরিককে গ্রেপ্তারের তারিখ বা অপরাধের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি আইসিই।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু হয়েছে। গত ডিসেম্বরে ওরেগন অঙ্গরাজ্যে এক সড়ক দুর্ঘটনায় দুজন মার্কিন নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত অভিযোগে এক ভারতীয় ট্রাকচালককে আটক করেছিল আইসিই।
ভারত সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী অভিযানের আওতায় ৩ হাজার ৮০০ জনের বেশি ভারতীয়কে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) সম্প্রতি ২৫ হাজার ‘অপরাধী অবৈধ অভিবাসী’র একটি ডেটাবেজ প্রকাশ করেছে। এই তালিকায় খুনি, যৌন অপরাধী এবং মাদক পাচারকারীদের নাম রয়েছে।
ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া অপরাধীদের মধ্যে ‘নিকৃষ্টতম’ অভিবাসীর তালিকায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত ৮৯ জন ব্যক্তির নাম রয়েছে।
নির্বাচনী প্রচারের সময় ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসন বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসেই তিনি বেশ কিছু নির্বাহী আদেশ জারি করেছেন। দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই তিনি দক্ষিণ সীমান্তে ‘জাতীয় জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করেন। সেখানে তিনি অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনসহ অপরাধী অভিবাসীদের বহিষ্কারের অঙ্গীকার করেন।
তবে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে এসব অভিযান মাঝেমধ্যে সহিংস রূপ নেওয়ায় ডেমোক্র্যাট ও অনেক রিপাবলিকান নেতার মধ্যেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
Publisher & Editor