ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিসে গত শুক্রবার হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছেন। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে আন্দোলন করেছেন। মিনেসোটায় ফেডারেলঅভিবাসন কর্মকর্তাদের প্রত্যাহারের দাবিতে এই বিক্ষোভ হয়। চলতি মাসে ফেডারেল অভিবাসন এজেন্টদের গুলিতে দুই মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার জেরে হয়েছে ওই বিক্ষোভ।
ক্যালিফোর্নিয়া থেকে নিউইয়র্ক পর্যন্ত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা জাতীয় প্রতিবাদ দিবসে ক্লাস ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। এই কর্মসূচি এমন একসময়ে হলো, যখন ট্রাম্প প্রশাসন ‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’ কমানো হবে কি না, এ নিয়ে পরস্পরবিরোধী বার্তা দিচ্ছিল।
জাতীয় অভিবাসন দমন অভিযানের অংশ হিসেবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মিনিয়াপোলিস এলাকায় তিন হাজার ফেডারেল কর্মকর্তা পাঠিয়েছেন। তারা কৌশলগত সামরিক পোশাকে রাস্তায় টহল দিচ্ছেন, যা মিনিয়াপোলিস পুলিশ বিভাগের মোট সদস্য সংখ্যার পাঁচ গুণ।
এই অভিযানের প্রতিবাদে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইস) ব্যবহৃত কৌশলের বিরুদ্ধে কয়েক হাজার মানুষ তীব্র শীতের মধ্যে মিনিয়াপোলিসের কেন্দ্রস্থলে জড়ো হন। তাদের মধ্যে ছোট শিশু, বয়স্ক দম্পতি ও তরুণ কর্মীরাও ছিলেন।
‘নো আইস’ লেখা পোশাক পরে এবং সংস্থাটির শহর ছাড়ার দাবিতে প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে বিক্ষোভে অংশ নেন কাটিয়া কাগান। তিনি রাশিয়ান ইহুদি অভিবাসীদের কন্যা, যারা নিরাপত্তা ও ভালো জীবনের আশায় যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন ।
কাগান বলেন, ‘আমি এখানে এসেছি সেই আমেরিকান স্বপ্নের জন্য লড়তে, যেটার জন্য আমার বাবা-মা এই দেশে এসেছিলেন।’
৬৫ বছর বয়সী মেডিটেশন প্রশিক্ষক কিম, যিনি নিজের শেষ নাম প্রকাশ করতে চাননি। এই অভিযানের সমালোচনা করে একে ‘আমাদের ফেডারেল সরকারের পক্ষ থেকে নাগরিকদের ওপর সরাসরি ফ্যাসিবাদী হামলা’ বলে অভিহিত করেন।
চলতি মাসে ফেডারেল অভিবাসন এজেন্টদের গুলিতে দুই মার্কিন নাগরিক অ্যালেক্স প্রেটি ও রেনে গুড মিনিয়াপোলিসের যে এলাকায় নিহত হন, সেখানে স্থানীয় স্কুলের প্রায় ৫০ জন শিক্ষক ও কর্মচারী মিছিলে অংশ নেন।
বিক্ষোভে সমর্থন জানিয়েছেন রক সংগীতশিল্পী ব্রুস স্প্রিংস্টিনও। মিনিয়াপোলিসের কেন্দ্রস্থলে প্রেটি ও গুডের জন্য আয়োজিত এক তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে তিনি মঞ্চে উঠে তার নতুন গান ‘স্ট্রিটস অব মিনিয়াপোলিস’ পরিবেশন করেন।
মিনেসোটার বাইরেও এই প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে। আয়োজকরা বলেন, ‘কোনো কাজ নয়, কোনো স্কুল নয়, কেনাকাটা নয়, আইসের অর্থায়ন বন্ধ করো’ স্লোগানে ৪৬টি অঙ্গরাজ্যে প্রায় ২৫০টি বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নিউইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস, শিকাগো ও ওয়াশিংটনের মতো বড় শহরেও কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েমের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেন। তার পদত্যাগের দাবি উঠলেও ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, নোয়েম ‘খুবই দারুণ কাজ করেছেন’ এবং দাবি করেন, ‘আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর যে সীমান্ত সংকট পেয়েছিলাম, সেটির এখন সমাধান হয়েছে।’
মিনিয়াপোলিসের ঘটনাবলি ফেডারেল সরকারের ভেতরেও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। সূত্রের বরাতে জানা যায়, মিনিয়াপোলিস এফবিআই ফিল্ড অফিসের ভারপ্রাপ্ত প্রধান জ্যারাড স্মিথকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাকে ওয়াশিংটনে এফবিআই সদর দপ্তরে পুনর্নিয়োগ করা হয়েছে বলে এক সূত্র জানায়।
মিনিয়াপোলিসের এফবিআই কার্যালয়টি ফেডারেল অভিযানের পাশাপাশি প্রেটি হত্যাকাণ্ড এবং একটি গির্জায় হওয়া বিক্ষোভের তদন্তে জড়িত ছিল যে বিক্ষোভের ঘটনায় সিএনএনের সাবেক উপস্থাপক ডন লেমনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।
গত শুক্রবার এফবিআই লেমনকে গ্রেপ্তার করে এবং বিচার বিভাগ মিনেসোটার সেন্ট পল শহরের একটি গির্জায় এ মাসের শুরুতে হওয়া বিক্ষোভের সময় ফেডারেল আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনে। লেমনের আইনজীবী এটিকে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর হামলা বলে অভিহিত করেন।
নিজেকে নির্দোষ দাবি করে লেমন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাকে চুপ করানো যাবে না। আমি আদালতে আমার দিনের অপেক্ষায় আছি।’
এদিকে নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, তারা যে আইসের একটি অভ্যন্তরীণ স্মারকলিপি পর্যালোচনা করেছে তাতে বলা হয়েছে, ফেডারেল এজেন্টদের ওয়ারেন্ট ছাড়াই মানুষ গ্রেপ্তারের ক্ষমতা আরও বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে নিম্নপদস্থ আইস এজেন্টরাও সন্দেহভাজন অনিবন্ধিত অভিবাসীদের ধরে অভিযানে অংশ নিতে পারবেন।
অভিবাসন নীতি নিয়ে প্রশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া এতটাই তীব্র হয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রে আংশিক সরকারি অচলাবস্থার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটরা আইসের তত্ত্বাবধানে থাকা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগে অর্থায়নের বিরোধিতা করছেন। সূত্র: রয়টার্স
Publisher & Editor