আমাদের শরীরের অপরিহার্য পুষ্টি উপাদান প্রোটিন। পেশি শক্তিশালী করা থেকে ওজন নিয়ন্ত্রণ, সার্বিক সুস্থতার জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রোটিন খেলে দীর্ঘ সময় পেট ভর্তি থাকে, বারবার খাওয়ার প্রবণতাও কমে যায়। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখা প্রয়োজন।
একজন সুস্থ ও স্বাভাবিক ওজনের প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের প্রতিদিন ৫০-৬০ গ্রাম প্রোটিন খাওয়া উচিত। অন্যদিকে, নারীদের প্রোটিন খেতে হবে ৭০-৮০ গ্রাম। যদিও দৈনিক কতটা প্রোটিন খাওয়া উচিত তা নির্ভর করে ব্যক্তির ওজন, উচ্চতা, শারীরিক পরিস্থিতি ও বয়সের ওপর।
খাদ্যাভ্যাসের গোলমালের কারণে অনেক সময়েই শরীরে প্রোটিনের অভাব দেখা যায়।
আর শরীরে পর্যাপ্ত প্রোটিন না থাকলেই হানা দিতে পারে জটিল রোগ। তাই আগেভাগেই প্রোটিনের ঘাটতি বোঝা জরুরি। সেক্ষেত্রে কয়েকটি লক্ষণ খেয়াল করলেই সতর্ক হোন।
ফোলাভাব : প্রোটিনের ঘাটতির প্রথম লক্ষণ হলো ফোলাভাব।
হাত-পা বা পেটে ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। প্রোটিন রক্তে তরল পদার্থের ভারসাম্য বজায় রাখে। এর ঘাটতি হলে টিস্যুতে পানি জমতে শুরু করে এবং শরীর ফুলে যায়।
মেজাজ পরিবর্তন : প্রোটিন কেবল পেশি তৈরি করে না, মস্তিষ্ককেও সুস্থ রাখে। এতে উপস্থিত অ্যামিনো এসিড মস্তিষ্কের রাসায়নিক (ডোপামিন, সেরোটোনিন) তৈরিতে সাহায্য করে।
যদি এগুলোর ঘাটতি থাকে, তাহলে মেজাজ পরিবর্তন, উদ্বেগ বা মানসিক চাপ বেড়ে যেতে পারে।
ক্লান্তি : পর্যাপ্ত ঘুমের পরও যদি ক্লান্ত বোধ করেন, তাহলে এর কারণ হতে পারে প্রোটিনের অভাব। শরীরে শক্তি সরবরাহকারী হরমোন ও এনজাইম তৈরির জন্য প্রোটিন অপরিহার্য। এর অভাবে দুর্বলতা, অলসতা ও মানসিক ক্লান্তি বাড়ে।
চুল, নখ ও ত্বকের সমস্যা : প্রোটিনে উপস্থিত কেরাটিন ও কোলাজেন চুল, ত্বক ও নখের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যখন শরীর পর্যাপ্ত প্রোটিন পায় না, তখন চুল পড়তে শুরু করে, নখ ভেঙে যায় এবং ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়।
অতিরিক্ত খিদে : প্রোটিন আমাদের দীর্ঘ সময় তৃষ্ণা ও খিদে নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তা না পেলে বারবার খিদার অনুভূতি, মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা এবং এনার্জি কমে যেতে পারে।
বেশিরভাগ সময়ে অনেকেই এই প্রাথমিক লক্ষণগুলোকে উপেক্ষা করে যান। যা সময়মতো না বোঝার ফলে গুরুতর রোগ হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। তাই খাদ্যতালিকায় প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখতে ভুলবেন না। দুধ, ডাল, ডিম, মাছ, সয়াবিন, পনির ও শুকনো ফল প্রোটিনের ভালো উৎস। যদি পর্যাপ্ত প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পরও এসব উপসর্গ দেখতে পান, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
Publisher & Editor