শনিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৫

শোকস্তব্ধ গাজায় আল-জাজিরার নিহত ৫ সাংবাদিকের দাফন সম্পন্ন

প্রকাশিত: ১২:৪৮, ১১ আগস্ট ২০২৫ | ১৭

গত প্রায় দু’বছর ধরে ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক অভিযানে বিধ্বস্ত ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় শোকের নতুন আবহ এনেছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার ৫ সাংবাদিকের নিহত হওয়ার ঘটনা। আজ সোমবার শোকস্তব্ধ গাজায় তাদের মরদেহ দাফন করা হয়েছে।

গতকাল রোববার গাজার প্রধান শহর গাজা সিটির আল-শিফা হাসপাতালের কাছে সংবাদ সংগ্রহ ও পরিবেশনের সময় ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর গোলায় নিহত হন আলজাজিরার দুই প্রতিবেদক আনাস আল শরীফ, মোহাম্মদ কুরাইকে এবং তিন ক্যামেরা পারসন ইব্রাহিম জাহের, মোহাম্মদ নুফাল ও মোয়ামেন আলিওয়া।

আল-শিফা হাসপাতালের পরিচালক ড. মোহাম্মদ আবু সালমিয়ার বরাত দিয়ে বার্তাসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, রোববার আল-জাজিরার ৫ সংবাদকর্মীর পাশাপাশি মোহাম্মদ আল খালিদি নামের আরও এক সংবাদকর্মী নিহত হয়েছেন। তিনি ফ্রিল্যান্স প্রতিবেদক ছিলেন। আজ সোমবার আল-জাজিরার ৫ সংবাদকর্মীর সঙ্গে দাফন করা হয়েছে মোহাম্মদ আল খালিদিকেও।

সোমবার দুপুরের পর আল-শিফা চত্বরে ৬ সাংবাদিকের জানাজার নামাজ হয়। জানাজা উপলক্ষে আল শিফা চত্বর এবং তার চারপাশের বোমার আঘাতে ধ্বংস হওয়া ভবনগুলোতে জড়ো হয়েছিলেন শতাধিক মানুষ। জানাজা শেষে সাদা কাফনে মোড়ানো সাংবাদিকদের মরদেহ সরু গলির মধ্যে দিয়ে কবরে নিয়ে যান শোকাহতরা। এই অন্তিম যাত্রায় সাংবাদিকদের নীল বুলেটপ্রতিরোধী জ্যাকট পরিহিত অনেক ব্যক্তিকে দেখা গেছে।

গাজায় আলজাজিরার সাংবাদিকদের হত্যার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নিন্দার ঝড় উঠেছে। সাংবাদিকদের সুরক্ষার জন্য কাজ করা বৈশ্বিক সংস্থা ফরেন প্রেস অ্যাসোসিয়েশন (এফপিএ) এই হামলার কঠোর নিন্দা জানিয়ে বলেছে, “বর্তমানে যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গাজার সংবাদ সংগ্রহ করছেন, তাদের ওপর হামলা বা তাদেরকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা তীব্রভাবে নিন্দনীয়। এটা সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি আঘাত।”

সাংবাদিকদের জন্য হাসপাতালের প্রধান ফটকের বাইরে একটি তাঁবু করে দিয়েছিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। রোববার সেই তাঁবু লক্ষ্য করে বোমা ফেলে ইসরায়েলের বিমান বাহিনী। এতে নিহত হন আনাস আল শরীফ এবং বাকি ৫ সংবাদকর্মী।

এদিকে হামলার কয়েক ঘণ্টা পর এক বিবৃতিতে আইডিএফ জানিয়েছে, হামাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে আগে থেকেই ইসরায়েলি বাহিনীর ‘টার্গেটে’ ছিলেন ২৮ বছর বয়সী আনাস আল শরীফ।

“নিহত আলজাজিরা প্রতিবেদক আনাস আল শরীফ গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাসের সামরিক শাখা আল কাসাম ব্রিগ্রেডের সঙ্গে শুধু সরাসরি সংশ্লিষ্টই নয়, উপরন্তু রকেট লঞ্চিং বিভাগের প্রধান এবং ব্রিগেডের অভিজাত শাখা নুখবা ফোর্স কোম্পানির পূর্ব জাবালিয়া ইউনিটের সদস্য ছিলেন”, বলা হয়েছে আইডিএফের বিবৃতিতে।

সম্প্রতি একটি প্রয়োজনে হামাসের কাছ থেকে ২০০ ডলার শরিফ নিয়েছিলেন বলেও বিবৃতিতে দাবি করেছে আইডিএফ।

গাজার যেসব স্থানীয় সাংবাদিক তাকে চিনতেন-জানতেন, তারাও হামাসের সঙ্গে শরীফের সংশ্লিষ্টতার ব্যাপারটি স্বীকার করেছেন। তারা বলেছেন, শরীফ তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন হামাসের মিডিয়া বিভাগে চাকরির মাধ্যমে। তার মূল কাজ ছিল হামাসের পক্ষে গোষ্ঠীটির বিভিন্ন কার্যক্রম সংবাদ আকারে প্রকাশ করা।

তবে তারা এও স্বীকার করেছেন যে ইসরায়েলি বাহিনী অভিযান শুরুর পর গাজার যেসব সাংবাদিক অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গণে সবচেয়ে বেশি পরিচিতি পেয়েছেন, তাদের মধ্যে আনাস আল শরীফ একজন। তিনি বেশ পরিশ্রমী সাংবাদিক ছিলেন বলেও জানিয়েছেন তারা।

সাংবাদিকদের সুরক্ষার জন্য কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা কমিটি ফর প্রোটেক্ট জার্নালিজম (সিপিজে)-এর শীর্ষ নির্বাহী জডি জিনসবার্গ এএফপিকে বলেন, “আন্তর্জাতিক আইনে স্পষ্ট বলা আছে যে যুদ্ধক্ষেত্রে যোদ্ধারাই একমাত্র ন্যায্য লক্ষ্যবস্তু। আনাস আল শরীফ হামাসের যোদ্ধা ছিলেন— এটা যতক্ষণ পর্যন্ত ইসরায়েল প্রমাণ করতে না পারছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই হত্যাকাণ্ড ন্যায্য নয়।”

সূত্র : এএফপি

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor