নিউইয়র্কে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আনন্দঘন পরিবেশে গত ২ আগস্ট রোববার অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো প্রবাসের অন্যতম আঞ্চলিক সংগঠন গ্রেটার খুলনা সোসাইটি অব ইউএসএ ইনক’র বার্ষিক বনভোজন ও আনন্দ মেলা। নিউইয়র্ক সিটি থেকে প্রয় ৪৬ মাইল দূরে ওয়েস্টচেস্টার কাউন্টির জর্জেস আইল্যান্ড পার্কের নয়নাভিরাম লেকের পাশে দৃষ্টিনন্দন ছায়া ঘেরা মনোরম পরিবেশে ২ নং প্যাভিলিয়নে অনুষ্ঠিত হয় গ্রেটার খুলনাবাসীর এ মিলন মেলা। চমৎকার আবহাওয়ায় ভিন্ন আমেজে জমে ওঠেছিল এ বনভোজন। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বৃহত্তর খুলনা সোসাইটি অব অব ইউএসএ’র সদস্য ও তাদের বন্ধু-বান্ধব, শুভাকাংখীসহ আমন্ত্রীত অতিথিরা দিনব্যাপি খেলাধুলা, গল্প-গুজব, সুস্বাদু খাবার ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপভোগ করেন। গ্রেটার খুলনা প্রবাসীরা স্বপরিবারে অংশ নিয়ে মেতে ছিলেন ভিন্ন এক উৎসবে। সংগঠনের কর্মকর্তারা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থান থেকে এদিন সকাল ৯টা থেকে গ্রেটার খুলনা প্রবাসীরা স্বপরিবারে উপস্থিত হতে থাকেন পিকনিক স্পটে। সকাল সাড়ে ৯টা থেকে অতিথিদের সকালের নাস্তা পরিবেশন করা হয়। সকাল ১০ টার মধ্যেই খুলনাবাসীর সরব উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানস্থল জমজমাট হয়ে ওঠে।
বিপুল সংখ্যক খুলনাবাসীর উপস্থিতিতে সকাল সাড়ে ১০ টায় সভাপতি ওয়াহিদ কাজী এলিন সোসাইটির উপদেষ্টা সৈয়দ এনায়েত আলী, মুরারী এম দাস, হোসনে বানু ও শেখ মো. নওশাদ আক্তারসহ কর্মকর্তা ও অতিথিদের সাথে নিয়ে বনভোজনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। সিনিয়র সহ সভাপতি শেখ ফারুকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক হাওলাদার শাহিনুল ইসলামের পরিচালনায় এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার জন্য সভাপতি ওয়াহিদ কাজী এলিন সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
বনভোজন উদ্বোধনের পর পরই শুরু হয় বিভিন্ন ক্রীড়া অনুষ্ঠান। এ পর্বটি পরিচালনা করেন ক্রীড়া সম্পাদক মো. শাহিনুল হোসেন। সহযোগিতায় ছিলেন সহ সভাপতি শেখ আল আমিন, শেখ কামাল হোসেন, শেখ সবুর এবং মাহবুবুর রহমান। বিভিন্ন বয়সীরা ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। খেলা-ধূলার পর তরমুজ বিতরণ করা হয়।
এরপর উপস্থিত শিশু-কিশোরদের মাঝে চিপস, চকলেট ও কাপকেক পরিবেশন করা হয়। চকলেট ও কাপকেক স্পন্সর করেন সংগঠনের অন্যতম সদস্য ডা. মো. আনোয়ার সাদাত তুহিন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিমের। কিন্তু তিনি মিশিগানে অবস্থান করায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটির সিনিয়র সহ সভাপতি মহিউদ্দিন দেওয়ান। গেস্ট অব অনার ছিলেন সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা ডা. খন্দকার মাসুদুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন কুইন্স বাংলাদেশ সোসাইটির সিনিয়ার সহ সভাপতি কাজী তোফায়েল ইসলাম। খেলা-ধূলা শেষে দুপুর ২টায় সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোহাম্মদ আনারুল হকের পরিচালনায় শুরু হয় প্রবাসের জনপ্রিয় শিল্পীদের মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। এসময় একের পর এক সঙ্গীত পরিবেশন করে দর্শকদের মাতিয়ে রাখেন শিল্পী বাপ্পী, মিতা, আনারুল হক, ঈদ ই আমিন মুরাদ প্রমুখ।
বেলা আড়াইটায় পরিবেশন করা হয় মধ্যাহ্নভোজ। খাবারের সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন সংগঠনের সহ সভাপতি ও ইভেন্ট কমিটির আহ্বায়ক শেখ হাসান আলী। সহযোগিতায় ছিলেন শেখ আল আমিন, সরদার মুনির হোসেন, জাবেদ ইকবাল, শেখ কামাল হোসেন, সামছুদ্দিন নান্টু, ঈদ ই আমিন, ইসমত জাহান পপি প্রমুখ। মধ্যাহ্নভোজ শেষে অতিথিদের মিষ্টি ও পান-সুপারি দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। ঢাকার নবাব বাড়ির শাহী মিষ্টি পান পরিবেশন করেন সংগঠনের সহ সভাপতি ইসমত জাহান পপি। বৈকালিক নাস্তা ও চা পর্বও ছিল এ আয়োজনে।
মধ্যাহ্নভোজের পর অনুষ্ঠিত হয় মহিলাদের বালিশ বদল খেলা। আর্কষণীয় এ প্রতিযোগিতায় শতাধিক প্রতিযোগী অংশ নেন। চমৎকার আবহাওয়ায় অনুষ্ঠিত দিনব্যাপি বনভোজনে বিভিন্ন খেলা-ধূলা ছাড়াও বিশেষ আর্কষণ ছিল র্যাফেল ড্র। সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা ডা. খন্দকার মাসুদুর রহমানের পরিচালনায় বনভোজনে র্যাফল ড্র বিজয়ীরা আর্কষণীয় পুরস্কার জিতে নেন। রাফেল ড্রতে ছিল ঢাকা জেলা এসোসিয়েশনের সভাপতি দুলাল বেহেদুর সৌজন্যে ১ম পুরস্কার নিউইয়র্ক-ঢাকা-নিউইয়র্ক এয়ার টিকিটি, উইম্যান এম্পাওয়ের সৌজন্যে ২য় পুরস্কার ছিল নগদ ৬ শ ডলার, ৩য় পুরস্কার নগদ ৫ শ ডলার স্পন্সর করেন নাদিয়া খান ও ডা. প্রশান্ত এমডি, বাংলাদেশ এসেম্বলী অব ইউএসএ’র পক্ষে ৪র্থ পুরস্কার ল্যাপটপ প্রদান করেন শামীম ও কলীম, ৫ম পুরস্কার স্বর্ণের চেইন স্পন্সর করেন সংগঠনের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ইসমত জাহান পপি। এ ছাড়াও রাফেল ড্রতে ছিল আরও ২৭টি আকর্ষণীয় পুরস্কার।
সংগঠনের সভাপতি ওয়াহিদ কাজী এলিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক হাওলাদার শাহিনুল ইসলামের পরিচালনায় খেলাধুলায় অংশ গ্রহনকারি এবং র্যাফেল ড্র বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা ডা. খন্দকার মাসুদুর রহমান এমডি। এসময় সংগঠনের অন্যান্য কর্মকর্তা ও অতিথিরাও সাথে ছিলেন।
বনভোজনের সার্বিক হিসাব-নিকাশের দায়িত্বে ছিলেন সংগঠনের কোষাধ্যক্ষ শেখ আনোয়ার হোসেন। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন সিনিয়র সহ সভাপতি শেখ ফারুকুল ইসলাম, সহ সভাপতি শেখ হাসান আলী, ইসমত জাহান পলি ও শেখ আল আমিন, সহ সাধারণ সম্পাদক শেখ কামাল হোসেন, কোষাধ্যক্ষ শেখ আনোয়ার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সবুর, প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোহাম্মদ আনারুল হক, ক্রীড়া ও আপ্যায়ন সম্পাদক মোহাম্মদ শাহীনুর হোসেন, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ইসমত জাহান পপি, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক মোহাম্মদ ঈদ ই আমিন, কার্যকরী সদস্য জাভেদ ইকবাল, শামসুদ্দিন নান্টু, আরিফ শাহরিয়ার এবং এমএ মুরাদ হোসেন।
অনুষ্ঠানে আগত অতিথিরা গ্রেটার খুলনা সোসাইটি অব ইউএসএ’র এ আনন্দমেলার ভূয়সী প্রশংশা করেন। প্রধান উপদেষ্টা ডা. খন্দকার মাসুদুর রহমান প্রাণের আমেজে খুলনাবাসীর চমৎকার এমন আয়েজনের জন্য আয়োজক কমিটি ও কার্যকরী পরিষদকে ধন্যবাদ জানান। সংগঠনের সভাপতি ওয়াহিদ কাজী এলিন বনভোজনে যোগদানের জন্য সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এসময় সংগঠনের বিভিন্ন কর্মকান্ড তুলে ধরে তিনি বলেন, বৃহত্তর খুলনাবাসীর কল্যাণে সংগঠনটি নিবেদিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, বৃহত্তর খুলনাবাসী স্ব-পরিবারে এ মিলনমেলায় অংশ নিয়ে ভিন্ন উৎসবে মেতে ছিলেন। আগামী বছর অনুষ্ঠিতব্য পিকনিকে বৃহত্তর খুলনাবাসীকে স্বপরিবারে অগ্রিম আমন্ত্রণ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন তিনি।
Publisher & Editor