মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬

ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড বাতিলের আবেদন করবেন আইনজীবীরা

প্রকাশিত: ০২:৩০, ০৬ অক্টোবর ২০২৬ | ১৭

যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড বাতিলের দাবি জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা। গভর্নরকে তার সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তার আইনজীবীরা।

গত সপ্তাহে টেনেসি অঙ্গরাজ্যে প্রাণঘাতী ইনজেকশন প্রয়োগের পরও আশ্চর্যজনকভাবে বেঁচে যাওয়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি ক্রিস্টা পাইক এখনও ভেন্টিলেটরে সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার প্রধান আইনজীবী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পাইক পুনরায় জ্ঞান ফিরে পাবেন কি না, তা এখনও অস্পষ্ট। তবে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আগের সেই ব্যর্থ চেষ্টার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে গভর্নরের কাছে আবারও সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা।

সিবিএস মর্নিংস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফেডারেল ডিফেন্ডার সার্ভিসেস অব ইস্টার্ন টেনেসির আইনজীবী স্টিভ ফেরেল বলেন, এখন তার মৃত্যুদণ্ড বাতিল করা এবং তার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবা উচিত। সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্তৃপক্ষ বা গভর্নরের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করতে তার আইনি দল সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।

ফেরেল জানান, পাইকের শারীরিক অবস্থা এখনও অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তার শরীর থেকে মারণ রাসায়নিক 'পেন্টোবার্বিটাল' বের করে দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন চিকিৎসকরা। তিনি জ্ঞান ফিরে পেলেও তার শারীরিক ও মানসিক পরিণতি কী হবে, তা এখনই বলা সম্ভব নয়।

আইনি প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার মতো সুস্থ হয়ে উঠতে তার দীর্ঘ সময় লাগতে পারে, উল্লেখ করে ফেরেল আরও বলেন, অতীতে ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ডের শিকার হওয়া বন্দিদের যেভাবে আবারও ট্রায়ালে এনে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে পাইকের ক্ষেত্রে যাতে তার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেজন্য তার সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড করার জোর আইনি লড়াই চালানো হবে।

১৯৯৫ সালে ১৯ বছর বয়সী সহপাঠী কলিন স্লিমারকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়ে বিগত তিন দশক ধরে নির্জন কারাবাসে রয়েছেন ক্রিস্টা পাইক। অপরাধ সংঘটনের সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৮ বছর। আধুনিক আমেরিকার ইতিহাসে এত কম বয়সে ঘটানো অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড পাওয়ার রেকর্ড আর কারও নেই।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বুধবার নাশভিলের কারাগারে পাইকের ওপর প্রাণঘাতী ইনজেকশন প্রয়োগের এই ব্যর্থ চেষ্টার পর টেনেসির কারা মহাপরিচালক পদত্যাগ করেছেন। একই সঙ্গে রাজ্যের গভর্নর বিল লি চলতি বছরের নির্ধারিত সব মৃত্যুদণ্ড স্থগিত ঘোষণা করে পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ ও বিস্তারিত পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন।

যদিও এক সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর দাবি করেন, কারা বিভাগ তৎকালীন প্রোটোকল কঠোরভাবেই অনুসরণ করেছিল।News

উল্লেখ্য, টেনেসির প্রাণঘাতী ইনজেকশন প্রোটোকল নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। ২০২২ সালেও জটিলতার কারণে মৃত্যুদণ্ড স্থগিত রেখে তদন্ত শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে তিনটি রাসায়নিকের পরিবর্তে কেবল ‘পেন্টোবার্বিটাল’ ব্যবহার করে ২০২৫ সালে পুনরায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তবে চলতি বছরের শুরুতেই টনি ক্যারুথার্স নামের এক বন্দির শিরায় ইনজেকশনের সুই আইবি লাইন বসাতে ব্যর্থ হয়ে মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করতে বাধ্য হয় কারা কর্তৃপক্ষ।

ডেথ পেনাল্টি ইনফরমেশন সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক রবিন মাহের সিবিএস নিউজকে জানান, এর আগে অন্তত সাতজন বন্দি সুই বসাতে না পারার কারণে বেঁচে গেলেও শরীরে সম্পূর্ণ দুটি ডোজ বিষাক্ত কেমিক্যাল প্রয়োগের পর কারও বেঁচে যাওয়ার ঘটনা আধুনিক মৃত্যুদণ্ডের ইতিহাসে এই প্রথম।

টেনেসি সরকারের বারবার ভুল পদ্ধতি প্রয়োগ এবং যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য অঙ্গরাজ্যে ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ডের ফলে সৃষ্ট যন্ত্রণাদায়ক পরিস্থিতির কারণে পাইক নিজেও তার ফাঁসি নিয়ে গভীর শঙ্কায় ছিলেন। তার আইনজীবীরাও আদালতে আগে থেকেই এই আশঙ্কার কথা জানান। তবে পাইকের বেঁচে যাওয়ার পর স্টিভ ফেরেল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সবকিছুই আগেই বলা হয়েছিল, কিন্তু আদালত কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। সূত্র: সিবিএস নিউজ

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor