ছবি: সংগৃহীত
এক বছর ধরে ইসরায়েল বিভিন্ন সময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি বিষয়ে বারবার সতর্কবার্তা দিয়ে আসছে। সেটি হলো—মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনা করছে ইরান।
সম্প্রতি তুরস্ক থেকে ফেরার সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এয়ারফোর্স ওয়ান উড়োজাহাজ থেকে গোপনে অন্য একটি উড়োজাহাজে সরিয়ে নেওয়ার আগেও এমন সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা এসব সতর্কবার্তার সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেননি।
যুক্তরাষ্ট্রের এক বর্তমান কর্মকর্তা ও দুই সাবেক কর্মকর্তাসূত্রে এ কথা জানতে পেরেছে রয়টার্স।
সূত্রগুলো বলেছে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে এ সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছিল। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা সরাসরি হোয়াইট হাউসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদেরও বিষয়টি জানিয়েছেন।
ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের দাবি অনুযায়ী, সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনার মধ্যে ছিল স্নাইপার দিয়ে ট্রাম্পকে গুলি করা অথবা বড় কোনো জনসমাগমে ছুরি নিয়ে হামলার জন্য কাউকে নিয়োগ করা।
মার্কিন গোয়েন্দা মহল অনেক দিন ধরে বলে আসছে, ২০২০ সালে ইরানি সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার প্রতিশোধ নিতে চান ইরানের নেতারা। তবে কর্মকর্তারা বলেছেন, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ গত বছরের শুরু থেকে ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের দেওয়া ট্রাম্পের প্রাণনাশসংক্রান্ত কয়েকটি হুমকির তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
সূত্রগুলো বলছে, ২০২৫ সালের জুনে ইরানে শুরু হওয়া ১২ দিনের যুদ্ধের আগে থেকেই এসব গোয়েন্দা তথ্য আসতে শুরু করে। ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের আগে এসব সতর্কবার্তা আরও জোরালো হয়ে ওঠে।
গত জুলাইয়ে আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনের আগে সবচেয়ে বিস্তারিত সতর্কবার্তাটি আসে।
বর্তমানে দায়িত্বরত ওই মার্কিন কর্মকর্তা ও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আরেক ব্যক্তি বলেন, ইসরায়েলি কর্মকর্তারা হোয়াইট হাউসকে সতর্ক করে বলেছিলেন, এয়ারফোর্স ওয়ানে ভ্রমণের সময় ইরান ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টা করতে পারে। সম্ভাব্য ওই হামলায় কাঁধ থেকে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়।
মার্কিন গোয়েন্দা মহল অনেক দিন ধরে বলে আসছে, ২০২০ সালে ইরানি সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার প্রতিশোধ নিতে চান ইরানের নেতারা।
তবে কর্মকর্তারা বলেছেন, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ গত বছরের শুরু থেকে ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের দেওয়া ট্রাম্পের প্রাণনাশসংক্রান্ত কয়েকটি হুমকির তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
সর্বশেষ ন্যাটো সম্মেলন ঘিরে যে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল, সে ব্যাপারে তুরস্কের এক কর্মকর্তা বলেন, ওই দাবির সত্যতা নিশ্চিত করার মতো কোনো প্রমাণ দেশটির গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে ছিল না। স্বাগতিক দেশ হিসেবে তুরস্ক তাদের এ পর্যালোচনা মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গেও ভাগাভাগি করে।
তবে হুমকির তথ্য যাচাই করা না গেলেও আগাম সতর্কতার অংশ হিসেবে হোয়াইট হাউস ও সিক্রেট সার্ভিস ঝুঁকি কমাতে নানা পদক্ষেপ নেয়। দেশটি থেকে ফেরার পথে ট্রাম্পকে এয়ারফোর্স ওয়ান থেকে অন্য একটি উড়োজাহাজে স্থানান্তর করা হয়।
এতে বোঝা যায়, ইরানের সামগ্রিক হুমকি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের গোয়েন্দা মূল্যায়নের মধ্যে মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্য ট্রাম্প প্রশাসনের ইরানসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে কীভাবে প্রভাব ফেলছে।
চলতি বছরের শুরুতে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পর্যালোচনায় বলা হয়েছিল, ইরান সক্রিয়ভাবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কাজ করছে না।
অন্যদিকে ইসরায়েল দাবি করছে, তেহরান একটি তাৎক্ষণিক ও গুরুতর হুমকি হয়ে উঠেছে। মার্কিন গোয়েন্দা মহলের ওই পর্যালোচনা সত্ত্বেও ফেব্রুয়ারিতে ইরানের ওপর হামলা চালানোর সিদ্ধান্তে এগিয়ে যান ট্রাম্প।
এর আগে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, সামরিক অভিযান শুরুর আগে ইসরায়েলের দেওয়া গোয়েন্দা তথ্যও বিবেচনায় নিয়েছিলেন ট্রাম্প। ওই গোয়েন্দা তথ্যে বলা হয়েছিল, তেহরান তাঁকে হত্যার চেষ্টা করেছে।
সর্বশেষ ন্যাটো সম্মেলনকে ঘিরে যে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল, সে ব্যাপারে তুরস্কের এক কর্মকর্তা বলেন, ওই দাবির সত্যতা নিশ্চিত করার মতো কোনো প্রমাণ দেশটির গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে ছিল না। স্বাগতিক দেশ হিসেবে তুরস্ক তাদের এ পর্যালোচনা মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গেও ভাগাভাগি করে নেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ইরানসংক্রান্ত নীতিকে প্রভাবিত করতে ইসরায়েল তার গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা অস্বীকার করেছেন ইসরায়েলি দূতাবাসের এক মুখপাত্র।
ওই মুখপাত্র দাবি করেন, ‘কথিত গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের মাধ্যমে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের নীতিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে বলে যাঁরা অভিযোগ তুলেছেন, তাঁরাই নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি হলে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করার অভিযোগ তুলতে দ্বিধা করতেন না।’
হোয়াইট হাউস ও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের মুখপাত্র অ্যান্টনি গুলিয়েলমি নির্দিষ্ট কোনো গোয়েন্দা তথ্য নিয়ে আলোচনা করতে রাজি হননি। তবে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক হত্যাচেষ্টার ঘটনা এবং প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে হুমকি বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাটাই এখন সংস্থাটির প্রধান লক্ষ্য।
মুখপাত্র বলেন, ‘সুরক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা এবং আমরা যেসব স্থান নিরাপত্তার আওতায় রাখি, সেগুলোর বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সিদ্ধান্ত নিতে মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস নিয়মিত নানা ধরনের তথ্য বিশ্লেষণ করে থাকে।’
মধ্যপ্রাচ্যসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে, বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে গোয়েন্দা তথ্যের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েলের তথ্যের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করে আসছে।
বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তারা বলেছেন, ইরানসংক্রান্ত ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্য সাধারণত আনুষ্ঠানিক মাধ্যমে সিআইএ বা ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সির কাছে পৌঁছায়। এরপর এসব তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়।
কর্মকর্তাদের মতে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অনেক সময় ইসরায়েলের দেওয়া গোয়েন্দা তথ্য সরাসরি যাচাই করতে পারে না। তবে তথ্যের সত্যতা ও নির্ভুলতা সম্পর্কে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে তারা অন্যান্য উৎস থেকে পাওয়া তথ্যও ব্যবহার করে।
Publisher & Editor