শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬

নিউইয়র্কে বর্ণাঢ্য সাউথ এশিয়ান ইউনিটি প্যারেড

প্রকাশিত: ০৩:০৬, ১৩ আগস্ট ২০২৬ | ৩৪

নিউইয়র্কের বাংলাদেশি অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটসে গত ৯ আগস্ট প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হলো ‘সাউথ এশিয়ান ইউনিটি প্যারেড ২০২৬’। দক্ষিণ এশিয়ার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্যকে উপস্থান এবং প্রবাসী দক্ষিণ এশীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে ঐক্য ও সম্প্রীতির বন্ধন আরো দৃঢ় করার প্রত্যয়ে অনুষ্ঠিত হয় বর্ণাঢ্য এ প্যারেড।  বাংলাদেশ সোসাইটির নেতৃত্বে এ আয়োজন কম্যুনিটিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। প্যারেডে বিভিন্ন দেশের শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশ, নেপাল, ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন সংগঠন অংশগ্রহণ করে। দক্ষিণ এশিয়ার এসব দেশ তাদের দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য উপস্থাপন করেন। তবে সব দেশকে ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ। প্যারেডে বাংলাদেশিদের সংগঠন ছিল বেশি এবং নেতৃত্বও দিয়েছেন বাংলাদেশিরা। বর্ণাঢ্য এ আয়োজনে ‘হোস্ট কান্ট্রি’ হিসেবে বিশেষ মর্যাদায় উঠে আসে বাংলাদেশ। প্যারেডে গ্র্যান্ড মার্শাল ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান, গোল্ডেন অ্যাজ হোম কেয়ারের প্রেসিডেন্ট শাহ নেওয়াজ। 

সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত জ্যাকসন হাইটসের ৩৭তম অ্যাভিনিউয়ের ৬৯ স্ট্রিট থেকে ৮৭ স্ট্রিট পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকাজুড়ে চলে এই উৎসবমুখর প্যারেড। বিভিন্ন দেশের জাতীয় পতাকা, ঐতিহ্যবাহী পোশাক, সংগীত, নৃত্য ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা পুরো এলাকাকে পরিণত করে দক্ষিণ এশিয়ার এক মিলনমেলায়। গাড়ি এবং হেঁটে হেঁটে সবাই যখন যাচ্ছিল রাস্তার দুপাশে মানুষজন তাদের হাত নেড়ে স্বাগত জানান। সবাই যেন নেচে-গেয়ে পুরো এলাকাকে অনেকটা আনন্দ উৎসবে পরিণত করেন।

প্যারেডে উপস্থিত ছিলেন নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক এডভোকেট জুমানি উইলিয়াম, অ্যাসেম্বিম্যান স্টিভেন রাগা, বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, সহ-সভাপতি কামরুজ্জামান কামরুল, কুইন্স ডেমোক্রেটিক লিডার অ্যাট লার্জ অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী, প্যারেড কমিটির প্রধান উপদেষ্টা আল কাউন্ট্রি হোম কেয়ারের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আবদুল কাদের শিশির, প্রধান সমন্বয়কারী ও ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটসের প্রেসিডেন্ট শাহ শহীদুল হক, প্যারেডের সদস্য সচিব ও জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসীর সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলম নমী, সাংস্কৃতিকবিষয়ক চেয়ারপারসন ও গোল্ডেন অ্যাজ হোম কেয়ারের ভাইস প্রেসিডেন্ট শিল্পী রানো আমেনা নেওয়াজ,  জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসীর প্রেসিডেন্ট সাকিল মিয়া, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নূরুল আজিম, জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষ ময়নুজ্জামান চৌধুরী, বাংলাদেশ সোসাইটির সাংসকৃতিক সম্পাদক অনিক রাজ, বাংলাদেশ সোসাইটির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য কাজী আজহারুল হক মিলন, বাংলাদেশ সোসাইটির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নাঈম টুটুল, বাংলাদেশ সোসাইটির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য আব্দুর রহিম হাওলাদার, বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন কমিশনের সদস্য মিয়া মোহাম্মদ দুলাল, হায়রাম মনসুরাত, ফোবানা কর্মকর্তা আবু দারা জোবায়ের, বাংলাদেশের জনপ্রিয় টিভি অভিনেত্রী সাবা করিম, শিল্পী শাহ মাহবুব, কো-অডিনেটর জাহাঙ্গীর আলম জয়, তরিকুল হোসেন বাদল, আমিন মেহেদী, নওশাদ হায়দার, শাহ জে চৌধুরী প্রমুখ।

আয়োজনের বিশেষ আকর্ষণ ছিলেন চলচ্চিত্র অভিনেত্রী শিরিন শিলা ও সাফা কবির। পাশাপাশি কমিউনিটির সাংস্কৃতিক অঙ্গনের খ্যাতিমান শিল্পী ও কলাকুশলীদের অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ করে ভিন্নমাত্রা। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সোনিয়া।

সাউথ এশিয়ান ইউনিটি প্যারেডের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন দেশের কমিউনিটি নেতাদের পাশাপাশি বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরাও এতে অংশ নেন।  ছিল শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। তাঁদের আনন্দ, উচ্ছ্বাস ও সাংস্কৃতিক উপস্থাপনায় প্যারেডটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর। জ্যাকসন হাইটসের রাজপথে প্রতিফলিত হয় দক্ষিণ এশিয়ার বহুত্ববাদী সংস্কৃতির এক অনন্য চিত্র। অনেকেই এ প্যারেড আয়োজনকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং আগামী দিনে আরো বড় পরিসরে করার আহ্বান জানান। ধন্যবাদ জানান আয়োজকদের।

গ্র্যান্ড মার্শাল শাহ নেওয়াজ বলেন, এ প্যারেড করার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর ইতিহাস এবং ঐতিহ্যকে তুলে ধরা। সেই সঙ্গে এই প্রবাসের দক্ষিণ এশিয়ানদের ঐক্যবদ্ধ করার একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা। আমরা সেই কাজটি করে যাচ্ছি। আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকি তাহলে আমরা অনেক কিছুই অর্জন করতে পারবো। আগামী দিনে এ প্যারেড আরো বড় পরিসরে করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি ।

আয়োজকরা জানান, বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য-এ মূল বার্তাকে সামনে রেখে অনুষ্ঠিত প্রথম ‘সাউথ এশিয়ান ইউনিটি প্যারেড ২০২৬’ নিউইয়র্কের বহুজাতিক সমাজে দক্ষিণ এশীয় সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক ঐক্য, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক বন্ধনের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে রইলো। তারা প্যারেড সফল করায় অংশগ্রহণকারী, স্পনসর এবং বিভিন্নভাবে সহযোগিতাদের ধন্যবাদ জানান এবং আগামী দিনে এ প্যারেড অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor