বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬

যে কারণে আত্মহত্যার কথা ভেবেছিলেন ব্র্যাড পিট

প্রকাশিত: ০৮:১৯, ১১ আগস্ট ২০২৬ | ২১

২০১৬ সালে অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলির সঙ্গে বিচ্ছেদের পর জীবনের অত্যন্ত কঠিন ও বেদনাদায়ক এক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন হলিউড তারকা ব্র্যাড পিট। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ৬২ বছর বয়সি এই অভিনেতা প্রকাশ করেছেন, সেই সময়ে তিনি প্রচণ্ড মানসিক কষ্টে ভুগছিলেন এবং তার মনে আত্মহত্যার চিন্তাও এসেছিল। 

আমেরিকান সাময়িকী এসকোয়ার-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্র্যাড পিট অকপটে জানান, জীবনের ওই নির্দিষ্ট একটি সময় ছাড়া তিনি কখনো এতটা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েননি। 

অভিনেতা বলেন, ‘আমি একটি ছোট সময় ছাড়া কখনো আত্মহত্যাপ্রবণ ছিলাম না। কিন্তু ওই নির্দিষ্ট সময়টিতে আমার মনে হয়েছিল, আমি আর পারছি না—সামনে এগোনোর কোনো পথ খুঁজে পাচ্ছিলাম না।’ 

মানসিক কষ্টের তীব্রতা বর্ণনা করতে গিয়ে পিট ব্যাখ্যা করেন, তার নিজের ক্ষতি করার কোনো উদ্দেশ্য না থাকলেও, যিনি প্রচণ্ড মানসিক যন্ত্রণায় ভোগেন, তিনি কেন মৃত্যুকে একধরনের ‘মুক্তি’ হিসেবে দেখেন—তা তিনি উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন।

পিট বলেন, ‘তখন কষ্টটা এতটাই দমবন্ধ করা ছিল যে, আমি হয়তো সে অনুযায়ী কাজ করতাম না; কিন্তু মনের ভেতর মাথার ভেতরে গুলির সেই হিমশীতল অনুভূতিটা পাচ্ছিলাম, আর মনে হচ্ছিল এটাই যেন মুক্তি।’ 

তিনি জানান, এসব চিন্তা মূলত মানসিক যন্ত্রণা থেকে রেহাই পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা থেকেই সৃষ্টি হয়েছিল, নিজের ক্ষতি করার ইচ্ছা থেকে নয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার বেঁচে থাকার আত্মরক্ষামূলক অনুভূতিই জয়ী হয়। ব্র্যাড পিটের ভাষায়, ‘আমি তখন ভাবলাম, ‘ওহ, আচ্ছা, এবার আমি বুঝতে পারছি।’ আমি আত্মহত্যাকে বুঝতে পেরেছিলাম এই অর্থে যে—এটা কেবলই কষ্ট থেকে মুক্তির এক ব্যাকুল প্রচেষ্টা।’ 

সাক্ষাৎকারে যখন জানতে চাওয়া হয়, এই কঠিন সময়টার পেছনে সন্তান সম্পর্কিত কোনো বিষয় জড়িয়ে ছিল কিনা, তখন পিট সংক্ষিপ্ত উত্তর দিয়ে বলেন, ‘পারিবারিক বিষয়।’ 

তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কথা বলতে রাজি হননি এবং যোগ করেন, ‘পারিবারিক বিষয়। আমরা এটার এখানেই ইতি টানতে পারি।’ 

উল্লেখ্য, ‘মি. অ্যান্ড মিসেস স্মিথ’ সিনেমার সেটে ব্র্যাড পিট ও অ্যাঞ্জেলিনা জোলির পরিচয় হয়। পরবর্তীতে তারা বিয়েও করেন। তাদের ছয়টি সন্তান রয়েছে। কিন্তু ২০১৬ সালে জোলি বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করলে এবং সন্তানদের একক জিম্মাদারি দাবি করলে এই জুটির সম্পর্কের ইতি ঘটে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০১৯ সালে আদালতের রায়ে তারা আইনগতভাবে সিঙ্গেল মর্যাদা পান এবং ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তাদের বিচ্ছেদ চূড়ান্ত নিষ্পত্তিতে পৌঁছায়। 

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor