ঘরের মাঠে কিরগিজস্তানের মুরাস ইউনাইটেডকে ১-০ গোলে হারিয়ে এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে ফর্টিস এফসি। বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় ফর্টিসের হয়ে জয়সূচক গোলটি করেন মো. ইব্রাহীম।
এএফসি মঞ্চে অভিষেক ম্যাচেই এমন সাফল্য পেল বাংলাদেশ ফুটবল লিগের সর্বশেষ মৌসুমের তৃতীয় হওয়া দলটি। ফলে প্রথমবার আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় খেলতে নেমেই ইতিহাস গড়ল ফর্টিস।
২০২৫-২৬ মৌসুমে বাংলাদেশ ফুটবল লিগের শিরোপা জেতে বসুন্ধরা কিংস। রানার্সআপ হয় ঢাকা আবাহনী। তবে দুই ক্লাবের ওপর ফিফার নিষেধাজ্ঞা থাকায় এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগে খেলার সুযোগ পায় তৃতীয় হওয়া ফর্টিস ও পুলিশ এফসি।
এরই মধ্যে সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েছে ফর্টিস। রাতে প্রিলিমিনারি রাউন্ডে সিরিয়ার আল ইত্তিহাদের বিপক্ষে মাঠে নামার কথা রয়েছে তাদের।
গত মৌসুমের এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের প্রিলিমিনারি রাউন্ডেও মুরাস ইউনাইটেডের প্রতিপক্ষ ছিল ঢাকা আবাহনী। সেবার ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে মারুফুল হকের দলকে ২-০ গোলে হারিয়ে পরের ধাপে উঠেছিল কিরগিজ ক্লাবটি। এবার অবশ্য বাংলাদেশে এসে জয়ের হাসি নিয়ে ফিরতে পারেনি তারা। ফর্টিসের কাছে হেরে মূল পর্বের টিকিটও হাতছাড়া হয়েছে মুরাসের।
ম্যাচের ২২ মিনিটে ফর্টিস এগিয়ে যাওয়ার দারুণ সুযোগ তৈরি করে। বক্সের বাঁ দিক দিয়ে একক প্রচেষ্টায় আক্রমণে উঠে গোলকিপারকে একা পেয়ে যান পা ওমর বাবু। বাঁ পায়ের শটে মুরাসের গোলরক্ষক কস্তিককে পরাস্ত করলেও বল সাইড পোস্টে লেগে বাইরে চলে যায়।
বিরতির পর অবশ্য মুরাসই তুলনামূলক বেশি চাপ তৈরি করে। তবে ফর্টিসের শ্রীলঙ্কান গোলরক্ষক সুজন পেরেরা দুই দফায় প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকিয়ে দলকে বিপদমুক্ত রাখেন।
এরপর ৫২ মিনিটে ম্যাচের একমাত্র গোলটি আসে। পা ওমর বাবুর বাড়ানো থ্রু থেকে বল পেয়ে যান ইব্রাহিম। ডান পায়ে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাঁ পায়ের নিচু শটে মুরাসের গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন তিনি। বল গোলরক্ষকের শরীরের নিচ দিয়ে পোস্টে জড়িয়ে গেলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ফর্টিস।
৫৬ মিনিটে ফর্টিস ব্যবধান দ্বিগুণ করার কাছাকাছি চলে যায়। তবে মুরাসের গোলরক্ষক ওরেস্ট কস্তিক পরপর দুটি দুর্দান্ত সেভ করে দলকে ম্যাচে রাখেন।
৭৪ মিনিটে ম্যাচে সমতা ফেরানোর বড় সুযোগ পায় মুরাস। মাদানভ ইসমইলোভিচের শট বক্সের ভেতরে এরিক বিস্তার হাতে লাগায় পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। কিন্তু স্পটকিক থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন আতাবায়েভ এরবল। তার ডান পায়ের শট সাইড পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
শেষ পর্যন্ত মুরাসের সব আক্রমণ সামলে ১-০ গোলের জয় ধরে রাখে ফর্টিস। এই জয়ের মাধ্যমে প্রথমবার এএফসি প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েই চ্যালেঞ্জ লিগের মূল পর্বে জায়গা করে নিয়ে বাংলাদেশের ফুটবলে নতুন ইতিহাস গড়ল দলটি।
Publisher & Editor