ইতালিয়ান সেরি সি ক্লাবের দল রাভেনা এফসিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদিনহো। এমন একটি খবরে নড়েচড়ে বসে পঞ্চম শতাব্দীর বাইজেন্টাইন মোজাইক এবং দান্তের সমাধির জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত শহর রাভেনা।
৪৬ বছর বয়সী এই ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তির আকস্মিক চুক্তির পর পুরো শহর জুড়ে বাণিজ্যিক উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। সমর্থকরাও এই জোয়ারে গা ভাসিয়েছেন, যার ফলে একটি ছোট শহরের তৃতীয় স্তরের দল রাতারাতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের শিরোনামে পরিণত হয়েছে।
শুরুতে এটি প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে তার ফেরার খবর হিসেবে ছড়ালেও, ক্লাবের কর্মকর্তারা এটিকে মূলত একটি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন।
রাভেনার নতুন মালিক ইগনাজিও সিপ্রিয়ানি (বিখ্যাত সিপ্রিয়ানি রেস্তোরাঁ সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকারী) মিয়ামিতে একটি হাই-প্রোফাইল মিডিয়া ইভেন্টের মাধ্যমে এই চুক্তির ঘোষণা দেন।
রাভেনা এই অংশীদারিত্বকে রোনালদিনহোর নিজস্ব টেকনিক্যাল অ্যাপারেল ব্র্যান্ড ‘আরটেন’ লঞ্চ করার কাজে ব্যবহার করছে। এর মাধ্যমে রাভেনা বিশ্বের প্রথম ক্লাব হিসেবে তার কাস্টম কিট পরার গৌরব অর্জন করেছে—যা নাইকির মাইকেল জর্ডান স্ট্র্যাটেজির মতো। বিশেষ সংস্করণের এই জার্সিগুলো মুক্তির মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অনলাইনে স্টকআউট হয়ে যায়।
এই উন্মাদনার কারণে রাভেনা এক সিজনের টিকিট বিক্রি ক্যাম্পেইন শুরু করেছে।
নজিরবিহীন চাহিদার কারণে স্টেডিয়ামের টিকিটের দাম গড়ে ১২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
মাঠে রোনালদিনহোর ভূমিকা ঠিক কী হবে—তা নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে যেমন দ্বিধা আছে, তেমনি মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেকিয়েছে ক্লাব কর্মকর্তারা।
এদিকে রাভেনার একটি ক্যাফেতে বসে ইতালির বিখ্যাত স্পোর্টস ডেইলি ‘লা গাজেত্তা দেল্লো স্পোর্ট’ ওল্টাতে ওল্টাতে কিছুটা ব্যঙ্গাত্মক সুরে চারজন সমর্থক বললেন, আমরা এখনও তাকে দেখিনি। খবর গার্ডিয়ান
তাদের মনেও স্পষ্ট সন্দেহ রয়েছে। তারাও এই চুক্তিকে পুরোপুরি একটি বাণিজ্যিক চাল হিসেবে দেখছেন।
তবে মনের গভীরে তারা এখনো একটি স্বপ্ন লালন করছেন—২০০৫ সালের ব্যালন ডি’অর এবং ২০০২ সালের বিশ্বকাপজয়ী তারকাকে নিজেদের হলুদ-লাল জার্সি গায়ে মাঠে দেখতে পাবার।
ক্লাবের মালিক ইগনাজিও সিপ্রিয়ানি জোর দিয়ে বলেছেন, রোনালদিনহোকে আনুষ্ঠানিকভাবে একজন খেলোয়াড় হিসেবে নিবন্ধিত করা হয়েছে। তিনি ঘরের মাঠে অন্তত একটি প্রতিযোগিতামূলক ঘরোয়া ম্যাচে বুট পরে মাঠে নামবেন। তাদের অকল্পনীয় লক্ষ্য হলো, রোনালদিনহো যেন রাভেনার জার্সি গায়ে তার কিংবদন্তি ক্যারিয়ারের শেষ পেশাদার গোলটি করতে পারেন।
অন্যদিকে, রাভেনার অনারারি ভাইস-প্রেসিডেন্ট আরিয়েডো ব্রাইডা বাড়তি আশায় জল ঢেলে বলেছেন, রোনালদিনহোর ভূমিকা মূলত প্রচারণামূলক। বয়স এবং দীর্ঘ ১১ বছর পেশাদার ফুটবল থেকে দূরে থাকার কারণে দলের প্রাক-মৌসুম প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে অংশ নেবেন না তিনি।
শেষ পর্যন্ত মাঠে তিনি ৯০ মিনিট খেলুন বা স্রেফ কয়েকটি আনুষ্ঠানিক টাচই দিন—‘রোনালদিনহো ইফেক্ট’ তার মূল লক্ষ্য পূরণ করে ফেলেছে।
রাভেনাকে বিশ্ব ফুটবলের মানচিত্রে জায়গা করে নিয়েছে। আগামী ২০ আগস্ট মারিনা দি রাভেনার একটি স্থানীয় গ্রীষ্মকালীন উৎসবে রোনালদিনহোর বড় ধরনের উপস্থিতির কথা রয়েছে। যা নিয়ে পুরো শহর এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।
Publisher & Editor