উত্তর লন্ডনের ছায়া ছেড়ে এবার ফ্যাশনের শহর মিলানে নতুন ঠিকানা গড়তে যাচ্ছেন ক্রিস্তিয়ান রোমেরো। টটেনহ্যাম হটস্পারের আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে ডেরা ভেড়াতে ইতালিয়ান জায়ান্ট ইন্তার মিলান পৌঁছে গেছে চূড়ান্ত সমঝোতায়।
ইএসপিএন-এর খবর অনুযায়ী, ৪০ মিলিয়ন ইউরো ট্রান্সফার ফিতে দুই পক্ষই মৌখিকভাবে একমত হয়েছে।
২০২১ সালের আগস্টে আতালান্তা থেকে ধারে টটেনহ্যামে পা রেখেছিলেন রোমেরো। সেখান থেকে পরের বছরই পাকাপাকি চুক্তি করেন এই বিশ্বজয়ী ডিফেন্ডার। স্পার্সদের জার্সিতে ১২৩ ম্যাচে মাঠে নেমে ১১টি গোলও রয়েছে তার নামের পাশে।
গত বছর সন হিউং-মিন দল ছাড়ার পর তৎকালীন কোচ টমাস ফ্রাঙ্ক এই শক্তপোক্ত ডিফেন্ডারের হাতেই তুলে দিয়েছিলেন নেতৃত্বের আর্মব্যান্ড। তবে চলতি গ্রীষ্মকালীন দলবদল শুরু হতেই নতুন চ্যালেঞ্জের খোঁজে ক্লাব ছাড়ার স্পষ্ট বার্তা দিয়ে রেখেছিলেন ২৭ বছর বয়সী এই তারকা। রোমেরোর এই সিদ্ধান্তকে শ্রদ্ধার সঙ্গেই মেনে নিয়েছেন টটেনহ্যামের বর্তমান ইতালিয়ান প্রধান কোচ রবার্তো ডি জার্বি। গত এপ্রিলে স্পার্সদের দায়িত্বে আসার পর ফুটবলারদের সঙ্গে হওয়া ব্যক্তিগত আলোচনার কথা স্মরণ করে তিনি স্পষ্ট করেন, দলের প্রতি যাদের অবদান আছে, তাদের নিজেদের ভবিষ্যৎ বেছে নেওয়ার পুরো স্বাধীনতা দেওয়া উচিত।
ডি জার্বি বলেন, ‘রোমেরোর আচরণ, পেশাদারিত্ব ও ক্লাবের প্রতি সম্মান এক কথায় অনুকরণীয়। সে বিশ্বসেরা সেন্টার-ব্যাকদের একজন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালের পরও আমাদের কথা হয়েছিল, কিন্তু থাকার জন্য আমি তাকে কখনোই জোর করিনি। আমি সবসময় খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত ইচ্ছাকে সম্মান করি।’
ইন্টার মিলানের আগে এই ডিফেন্ডারকে ছাঁকি দিতে মুখিয়ে ছিল দুই স্প্যানিশ পরাশক্তি বার্সেলোনা ও অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ।
তবে শেষ পর্যন্ত লা লিগার ক্লাবগুলোর আলোচনা আলোর মুখ দেখেনি।
এদিকে রোমেরো ক্লাব ছাড়ছেন—এমন পূর্বাভাস পেয়ে আগেই প্রতিরক্ষাব্যূহ মজবুত করে ফেলেছে টটেনহ্যাম। চলতি ট্রান্সফার উইন্ডোতেই ইয়ান পল ফান হেকে ও মার্কোস সেনেসিকে সই করিয়ে রক্ষণভাগ সামাল দেওয়ার রসদ তৈরি করে রেখেছে উত্তর লন্ডনের ক্লাবটি।
দুই ক্লাবের মাঝে ট্রান্সফার ফির বোঝাপড়া হলেও ইন্তারের সঙ্গে রোমেরোর ব্যক্তিগত শর্তাবলী নিয়ে আলোচনা এখনও চলছে। তবে সব আনুষ্ঠানিকতা দ্রুতই সম্পন্ন হতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর তা হলেই স্পার্সদের সঙ্গে দীর্ঘ দিনের বাঁধন ছিঁড়ে সিরি ‘আ’-তে নতুন অধ্যায় শুরু করবেন এই আর্জেন্টাইন তারকা।
Publisher & Editor