গরম ভাত বা চায়ের কাপ সামনে রেখে আমরা স্বাভাবিকভাবেই ফুঁ দিই। ছোটবেলায় শেখা এই অভ্যাসের পেছনে রয়েছে তাপগতিবিদ্যার (Thermodynamics) একাধিক মৌলিক সূত্র। গরম খাবারের ওপরের অংশে সাধারণত একটি গরম বাতাসের স্তর জমে থাকে। এই বাতাস খাবার থেকে বের হওয়া তাপে উত্তপ্ত হয়ে আশপাশে স্থির হয়ে থাকে।
যখন আমরা ফুঁ দিই, তখন এই গরম বাতাসের স্তর সরে যায়। তার জায়গায় অপেক্ষাকৃত ঠাণ্ডা বাতাস এসে পড়ে। ফলে খাবার থেকে তাপ দ্রুত বেরিয়ে যেতে পারে। এই প্রক্রিয়াকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় কনভেকশন (Convection)।
এখানেই শেষ নয়। ফুঁ দেওয়ার সময় বাতাসের গতিবেগ বেড়ে যায়, যা খাবারের উপরিভাগের আর্দ্রতাকে দ্রুত বাষ্পীভূত (Evaporation) করে। পানি যখন বাষ্পে পরিণত হয়, তখন তা খাবার থেকে প্রচুর তাপ শোষণ করে নেয়। এই অতিরিক্ত তাপ হারানোর ফলেই খাবার দ্রুত ঠাণ্ডা হয়।
এ কারণেই শুকনো খাবারের চেয়ে ঝোল বা চা-কফিতে ফুঁ দিয়ে ঠাণ্ডা করতে সুবিধা হয়। কারণ তরলে বাষ্পীভবন বেশি হয়। মজার বিষয় হলো, যদি আশপাশের বাতাস খুব গরম হয়, তাহলে ফুঁ খুব একটা কার্যকর হয় না। যেমন—মরুভূমি অঞ্চলে বা গরম রান্নাঘরে ফুঁ দিলেও খাবার তেমন ঠাণ্ডা হয় না। কারণ চারপাশের বাতাসে এরই মধ্যে অনেক তাপ আছে, নতুন তাপ তারা আর শোষণ করতে পারে না।
অর্থাৎ একটি ছোট্ট ফুঁর মধ্যেই লুকিয়ে আছে তাপ সঞ্চালন, বাষ্পীভবন ও বাতাসের গতিবিদ্যা, যা মানুষ হাজার বছর ধরে ব্যবহার করে আসছে, বিজ্ঞানের সূত্র না জেনেই।
Publisher & Editor