সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

আমি ধর্ষক নই: সাংবাদিকের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করলেন ট্রাম্প

প্রকাশিত: ০৬:৩৮, ২৭ এপ্রিল ২০২৬ |

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনারে প্রবেশের চেষ্টা করা সন্দেহভাজন বন্দুকধারী কোল অ্যালেনের কথিত ইশতেহার থেকে উদ্ধৃতি তুলে ধরায় এক সাংবাদিকের ওপর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সময় তিনি সন্দেহভাজন হামলাকারীকে ‘উগ্রপন্থি’, ‘খ্রিষ্টানবিরোধী’ এবং ‘অত্যন্ত অসুস্থ মানসিকতার ব্যক্তি’ বলে অভিহিত করেন।

প্রেসিডেন্ট, ফার্স্ট লেডি, ভাইস প্রেসিডেন্ট, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং আড়াই হাজারের বেশি অতিথি সেখানে সমবেত হয়েছিলেন।

হিলটন ওয়াশিংটন সেই হোটেল, যেখানে ৪৫ বছর আগে জন হিঙ্কলির হাতে প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগান গুপ্তহত্যার শিকার হয়েছিলেন।

ক্যালিফোর্নিয়ার ৩১ বছর বয়সী কোল টমাস অ্যালেন স্থানীয় সময় শনিবার রাতে একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র ও ছুরি নিয়ে হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনারের নিরাপত্তা বেষ্টনী ভাঙার চেষ্টা করেন। ওই সময় ট্রাম্প অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত ছিলেন। নিরাপত্তা চৌকি অতিক্রম করে বলরুমের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ার পর নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে কাবু করেন। এর আগে তিনি কয়েক রাউন্ড গুলিও চালান।

আমি ধর্ষক নই
ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর, রবিবার সিবিএস নিউজের সাংবাদিক নোরা ও’ডোনেলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প প্রথমে তুলনামূলক শান্ত ছিলেন। তিনি বলেন, ওই রাতে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে এক ধরনের সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ ছিল এবং সবাই একই আতঙ্কের অভিজ্ঞতার মধ্যে ছিলেন।

তবে পরিস্থিতি বদলে যায় যখন নোরা ও’ডোনেল সন্দেহভাজন হামলাকারীর ইশতেহারের একটি অংশ উদ্ধৃত করেন। সেখানে লেখা ছিল: ‘আমি আর একজন শিশুকামী, ধর্ষক এবং বিশ্বাসঘাতকের অপরাধে নিজেকে জড়াতে দিতে পারি না।’

এ কথা শুনেই ট্রাম্প তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, ‘আমি জানতাম তুমি এটা পড়বে, কারণ তোমরা নোংরা মানুষ। সত্যিই নোংরা মানুষ।’

এরপর তিনি যোগ করেন, ‘হ্যাঁ, সে এটা লিখেছে। কিন্তু আমি ধর্ষক নই। আমি কাউকে ধর্ষণ করিনি।’

ও’ডোনেল যখন জানতে চান, হামলাকারী তাকে উদ্দেশ্য করেই এ কথা লিখেছে কি না, তখন ট্রাম্প উত্তেজিত হয়ে বলেন, ‘আমি শিশুকামীও নই।’

তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়, তিনি এই মন্তব্যকে কলঙ্কিত অর্থদাতা জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে তার পুরোনো সম্পর্কের ইঙ্গিত হিসেবে নিয়েছেন, যদিও ইশতেহারে এপস্টাইনের নাম সরাসরি উল্লেখ ছিল না।

ট্রাম্প বলেন, ‘আপনি একজন অসুস্থ মানুষের লেখা এসব বাজে কথা পড়ছেন। আমাকে এমন সব কিছুর সঙ্গে জড়ানো হয়েছে, যার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্কই নেই। আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছি।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘আপনাদের আশপাশের লোকজনই এপস্টাইন বা এ ধরনের বিষয়গুলোর সঙ্গে জড়িত ছিল। অথচ আপনি একজন অসুস্থ লোকের লেখা পড়ে আমাকে অপমান করার চেষ্টা করছেন। এ জন্য আপনার লজ্জা পাওয়া উচিত।’

হামলাকারী অসুস্থ মানসিকতার মানুষ
হামলাকারীর মানসিক অবস্থা নিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি তার ইশতেহার পড়েছি। সে উগ্রপন্থি হয়ে ওঠেছিল। সে একসময় খ্রিস্টান ও বিশ্বাসী ছিল, পরে খ্রিষ্টানবিরোধী হয়ে যায়। সম্ভবত সে খুব অসুস্থ মানসিকতার একজন মানুষ।’

একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক সহিংসতার জন্য ডেমোক্র্যাট নেতাদের ‘বিদ্বেষমূলক বক্তব্য’কে দায়ী করে বলেন, এ ধরনের বক্তব্য দেশের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।

চিন্তিত ছিলেন না ট্রাম্প
ট্রাম্প দাবি করেন, গুলির শব্দ শোনার পরও তিনি আতঙ্কিত হননি। তার ভাষায়, ‘আমি চিন্তিত ছিলাম না। আমি জীবনকে বুঝি। আমরা এক উন্মাদ পৃথিবীতে বাস করি।’

তিনি আরও জানান, নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে সরিয়ে নেওয়ার সময় তিনি দ্রুত বেরিয়ে যেতে চাননি। বরং কী ঘটছে তা নিজে দেখতে চেয়েছিলেন।

তার ভাষায়, ‘‘আমি দেখতে চেয়েছিলাম কী ঘটছে। আমি তাদের কাজ সহজ করে দিচ্ছিলাম না। আমি বলেছিলাম, ‘এক মিনিট অপেক্ষা করো, দেখি কী হচ্ছে’’।

তিনি আরও বলেন, ওই সময় তার চারপাশে অত্যন্ত দক্ষ নিরাপত্তাকর্মীরা ছিলেন এবং সম্ভবত তিনিই পরিস্থিতি সামলানোর প্রক্রিয়াকে কিছুটা ধীর করে দিয়েছিলেন।

গত দুই বছরে ট্রাম্পের ওপর এটি ছিল তৃতীয়বারের মতো হত্যাচেষ্টার ঘটনা। তবুও তিনি জানিয়েছেন, এমন ঘটনার পরও তিনি জনসম্মুখে ফিরতে প্রস্তুত।

তার ভাষায়, ‘আমি সত্যিই আবার ফিরে যেতে চাই।’ সূত্র: এনডিটিভি

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor